এসএসসির মূল প্রশ্নপত্রের সঙ্গে ফাঁস হওয়া প্রশ্নের হুবহু মিল

ssc-exam-02.jpg

নিজস্ব প্রতিবেদক : রোবাবার অনুষ্ঠিত ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের গণিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার রাতে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেসব প্রশ্ন পাওয়া গিয়েছিল, সেগুলো পরীক্ষার মূল প্রশ্নের সঙ্গে মিলে গেছে বলে জানা গেছে।

তবে তা অস্বীকার করেছেন ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তপন কুমার সরকার। তিনি বলেন, ফেসবুকে যে প্রশ্ন ছাড়া হয়েছে, সেগুলো তাদের হাতেও এসেছে। সে সব তারা মিলিয়ে দেখে মূল প্রশ্নের সঙ্গে কোন মিল খুঁজে পাননি। তবে রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় যে ফাঁস হওয়া যে প্রশ্নপত্র তারা পেয়েছেন, তা মূল প্রশ্নপত্রের সঙ্গে মিলে গেছে বলে স্বীকার করেছেন তপন কুমার।

তিনি দাবি করেন, এটা পরীক্ষার আগে আগে কোনো কেন্দ্র থেকে হয়ে থাকতে পারে। আগেও এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। সেসব চক্র ধরাও পড়েছে। এবারও তাদের ধরার চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।

কীভাবে প্রশ্ন ফাঁস হতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ধারণা করা হচ্ছে ট্রেজারি থেকে প্রশ্ন বের করে কেউ তা বাইরে পাঠিয়ে দেয়। তিনি জানান, বিজি প্রেসে ছাপা হওয়ার পর পরীক্ষা শুরুর ১৫ থেকে ২০ দিন আগে সিল করা প্রশ্ন পাঠানো হয় বিভিন্ন জেলার ডিসি অফিসে, রাখা হয় সেখানকার ট্রেজারিতে। ডিসি অফিসের ট্রেজারি থেকে পরীক্ষা শুরুর তিন দিন আগে প্রশ্ন যায় প্রতি উপজেলার থানায়। থানা থেকে পরীক্ষার দিন সকালে কেন্দ্রে কেন্দ্রে প্রশ্ন পাঠানো হয়। পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে সিল করা প্রশ্নের ফাইল খুলতে হয়।

কয়েকদিন আগে এসএসসির বাংলা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষার প্রশ্নও ফাঁস হওয়ার অভিযোগ ওঠে। তখনও কর্তৃপক্ষ তা অস্বীকার করেছেন। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে এসএসসি, জেএসসিসহ বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হয়েছিল।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সূত্র জানিয়েছে, এর আগে কয়েকটি পরীক্ষার সময় তাদের কাছে অভিযোগ আসে, কিছু অসাধু শিক্ষক পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগে আগে কোনো কোনো কেন্দ্রে প্রশ্নপত্রের প্যাকেট খোলেন। এরপর মোবাইল ফোনে সেই প্রশ্নপত্রের ছবি তুলে ছড়িয়ে দেন বিভিন্ন অ্যাপসে। এ জন্য এবার পরীক্ষার কেন্দ্রে ছবি তোলা যায়, এমন মোবাইল বহনও নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। কিন্তু এরপরও প্রশ্ন ফাঁস বন্ধ করা সম্ভব হয়নি।

এর আগে ২০১৪ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দেশে আলোচনার ঝড় ওঠে। এরপর তদন্ত শুরু করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তদন্তে প্রমাণ হয়, ঢাকা বোর্ডের অধীন এইচএসসি পরীক্ষার ইংরেজি ও গণিত দ্বিতীয় পত্রের মূল প্রশ্নপত্রের সঙ্গ ফাঁস হওয়া প্রশ্ন হুবহু মিলে যায়।

ফাঁস হওয়া সেই প্রশ্নপত্রের নমুনা ফরিদপুর থেকে পাওয়া গেলেও ফাঁসের সুনির্দিষ্ট উৎস বের করতে পারেনি প্রশাসনিক তদন্ত কমিটি। এরপরেও বিভিন্ন সময়ে পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস হলেও চক্রটির উৎস বের করতে পারছে না সরকার। এ কারণে বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে।

Share this post

scroll to top