শিক্ষার্থীদের সতর্ক করতে ১৬টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের চিত্র নিয়ে ইউজিসির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

UGC-01.jpg

নিজস্ব প্রতিবেদক : মামলা-মোকদ্দমা নিয়ে জটিলতা ও মালিকানায় দ্বন্দ্বসহ নানা সমস্যায় থাকা দেশের ১৬টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন, ইউজিসি। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ব্যাপারে শিক্ষার্থীদের সতর্ক করতেই এই বিজ্ঞপ্তি।

বিজ্ঞপ্তিতে যে ১৬টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়েছে, তার মধ্যে ৫টি নতুন বিশ্ববিদ্যালয়। এগুলোতে এখনো ভর্তির অনুমতি দেয়া হয়নি।

ইউসিজির বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ইবাইস ইউনিভার্সিটিতে দ্বন্দ্ব চলছে বোর্ড অফ ট্রাস্টিজ নিয়ে। আদালতে এই বিষয় নিয়ে একাধিক মামলাও রয়েছে। সরকার বন্ধ করে দিলেও আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালাচ্ছে আমেরিকা বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি ও কুইন্স ইউনিভার্সিটি। কুইন্স বিশ্ববিদ্যালয়কে এক বছরের জন্য সাময়িকভাবে ও শর্তসাপেক্ষে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দেয়া হলেও তারা নানা কারণ দেখিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অফ ট্রাস্টিজ নিয়েও মামলা চলছে।

সরকারের অনুমোদন ছাড়াই চট্টগ্রামের সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ ও ইউনিভার্সিটি অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির ক্যাম্পাস চলছে। সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের ট্রাস্টি বোর্ড নিয়েও দ্বন্দ্ব আছে। এ ছাড়া সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ব্রিটানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি, প্রাইম ইউনিভার্সিটির বোর্ড অফ ট্রাস্টিজ নিয়ে দ্বন্দ্ব আছে এবং এ বিষয়ে আদালতে মামলা বিচারাধীন আছে।

গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রতি অনুমোদন পেলেও সেগুলোকে শিক্ষা কার্যক্রম চালু বা শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমতি দেয়া হয়নি। এগুলো হলো : কুষ্টিয়ার রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকার সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, কেরানীগঞ্জের রবীন্দ্র সৃজনকলা বিশ্ববিদ্যালয়, নারায়ণগঞ্জের রূপায়ণ এ কে এম শামসুজ্জোহা বিশ্ববিদ্যালয় এবং আনোয়ার খান মডার্ন ইউনিভার্সিটি। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালুর করার বিষয়ে অনুমতি দেয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে। এ ছাড়া অনিয়মের অভিযোগে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় সরকার বন্ধ ঘোষণা করেছে।

গত ২৬ এপ্রিল গণবিশ্ববিদ্যালয়ের অননুমোদিত প্রোগ্রামে শিক্ষার্থী ভর্তি না হতে ইউজিসি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এর বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইউজিসি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে বিবাদী করে রিট দায়ের করে। পরে আদালত তা খারিজ করে দেয়। এরপরে গণবিশ্ববিদ্যালয় আবারো রিট করে।

ইউজিসির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসি দেশে কোনো বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা, ক্যাম্পাস, স্টাডি সেন্টার স্থাপন এবং পরিচালনার অনুমতি দেয়নি। এ জন্য কোনো বিদেশি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়ে প্রতারণার শিকার যাতে না হন, সেজন্য শিক্ষার্থীদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

Share this post

scroll to top