সুইস ব্যাংকে অর্থ পাচারের খবর অতিশয়োক্তি : অর্থমন্ত্রীর

Muhit-Budget-2017.jpg

নিজস্ব প্রতিবেদক : সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের টাকা পাচারের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে এ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রচারিত সংবাদকে অতিশয়োক্তিবলে দাবি করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

অধিবেশনে মুহিত বলেছেন, বাংলাদেশ ও সুইজারল্যান্ডের মধ্যে ব্যাংকের মাধ্যমে যে লেনদেন হয়, তা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এই লেনদেনকে কোনোভাবেই অর্থপাচার বলা যাবে না। তিনি আরো বলেন, সাংবাদিকেরা অত্যন্ত অন্যায়ভাবে বিষয়টিকে পাচার হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

তবে কিছু অর্থ পাচার হয় মন্তব্য করে অর্থমন্ত্রী বলেন, সেটি অতি যৎসামান্য। এটা নজরে নেয়ার মতো কোনো বিষয়ই নয়।

সংসদে বিবৃতিতে অর্থমন্ত্রী বলেন, গেল কয়েক দিন ধরে সংবাদমাধ্যমে সুইস ব্যাংকে টাকা পাচারের কাহিনি সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমে ফলাও করে জানানো হয়েছে। সাংবাদিকরা বলছেন, ২০১৬ সালের শেষে বাংলাদেশিদের জমা করা অর্থের পরিমাণ সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকার ওপরে উন্নীত হয়েছে। ২০১৫ সালে যা ছিল সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার ওপরে। বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং বাংলাদেশ ফাইন্যান্স ইন্টেলিজেন্স ইউনিট অতিরিক্ত তথ্য সংগ্রহ করেছে এবং তা বিশ্লেষণ করে একটি প্রতিবেদন অর্থ মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, তিনি এটা বলছেন না যে বিদেশে অর্থ পাচার হয় না। কিন্তু সংবাদমাধ্যমে যে পরিমাণ অর্থ পাচার হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে, সেটা বাস্তবেই অতিশয়োক্তি বলে বিবেচিত।

অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য বিভিন্ন ব্যাংকের মাধ্যমে হয়ে থাকে। সুইজারল্যান্ডেও যথেষ্ট লেনদেন আছে এবং সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকিং-ব্যবস্থা অনেক উন্নত। এই কারণে এর কাছাকাছি অন্যান্য দেশের সাথে বাংলাদেশের দেনা-পাওনার নিষ্পত্তি সুইস ব্যাংকের মাধ্যমে হয়ে থাকে।

তিনি বলেন, ২০১৩ থেকে শুরু করে ২০১৬ সালের সম্পূর্ণ প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে জানা গেছে, সুইজারল্যান্ডের সাথে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের কারণে লেনদেন বেড়েছে।

অর্থমন্ত্রির বিবৃতিতে বাংলাদেশ ও সুইজারল্যান্ডের মধ্যে ব্যাংক লেনদেনের তথ্য তুলে ধরা হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশের খাতে সুইস ব্যাংকগুলোর সম্পদের পরিমাণ হচ্ছে ১ হাজার ৮২৩ কোটি টাকা। এই সময়ে তাদের দেনা হচ্ছে ৫ হাজার ৫৬০ কোটি টাকা। সুইস ফ্রাঙ্কের বিনিময় হার হলো ৮৪ টাকায় ১ সুইস ফ্রাঙ্ক। এতে দেখা যায়, ২০১৫ সালে বাংলাদেশে সুইস ব্যাংকের যে দেনা ছিল, সেটা এ বছরের দেনার চেয়ে প্রায় ২০ শতাংশ কম।

একইভাবে ২০১৬ সালে বাংলাদেশের খাতে যে সম্পদ ছিল, তার থেকে ২০১৬ সালে ২ শতাংশ কমে গেছে। তবে বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর ২০১৬ সালের হিসাব বিশেষ করে দেনার ক্ষেত্রে এখনো পুরোপুরি চূড়ান্ত হয়নি।

বিবৃতিতে তিনি আরো জানান, বাংলাদেশ এবং সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোর মধ্যে দেনা-পাওনার পরিমাণ খুব বেশি। এতে অবশ্য ব্যক্তির আমানত অথবা দেনা মোট আমানত ও দেনার হিসাবে অতি সীমিত একটি অনুপাত। ৩৯৯.৮ কোটি টাকা আমানতের ব্যক্তি খাতে দেনা হলো মোট দেনার ৭ শতাংশ। আর সম্পদের ক্ষেত্রে ব্যক্তি খাতে মোট সম্পদ ১ হাজার ৮২৩ কোটি টাকার মধ্যে ১৮৩ কোটি টাকা অর্থাৎ ১০ শতাংশ।

অর্থমন্ত্রী বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাংলাদেশ ও সুইজারল্যান্ডের মধ্যে ব্যাংকের মাধ্যমে যে ব্যবসা-বাণিজ্যের হিসাব হয়, সেটি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, বাস্তবে এটিকে মোটেই অর্থ পাচার বলা যাবে না। তিনি আশা করেন, তার আজকের এই বিবৃতি অনেক ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটাবে।

Share this post

scroll to top