৫ হাজারের বেশি ব্যাংকের শাখা সাইবার হামলার ঝুঁকিতে

CyberAttacks.jpg

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকা ও বড় শহরগুলোর বাইরে ৫ হাজারের বেশি ব্যাংকের শাখা সাইবার হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে। কারণ এসব ব্যাংকের কোনো কর্মীরই সাইবার নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো প্রশিক্ষণ নেই। হুমকি মোকাবেলায় সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন কর্মকর্তাদের সচেতনতা। তবে দেশের ২৬ ভাগ ব্যাংকে সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে প্রশিক্ষণের জন্য কোনো কার্যক্রম নেই। সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে ব্যাংক কর্মকর্তাদের জন্য বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) আয়োজিত কর্মশালায় এসব তথ্য দেন বিশেষজ্ঞরা। সাইবার নিরাপত্তা জোরদারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন আরো বেশি সচেতন বলে জানিয়েছেন কর্মশালার প্রধান অতিথি গভর্নর ফজলে কবির।

গেল বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের নিউইয়র্ক শাখা থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার নিয়ে লোপাট করে অজানা হ্যাকাররা। এরপর থেকেই সাইবার নিরাপত্তার বিষয়টি বেশ জোরেসোরে উচ্চারিত হচ্ছে বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে। ব্যাংকের সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক বিআইবিএম এর কর্মশালায় জানানো হয়, বিশ্বে প্রতি ৩৯ সেকেন্ডে ১টি সাইবার আক্রমণ হয়ে থাকে। গেল বছর সারা বিশ্বে ১শ কোটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হ্যাকিং এর শিকার হয়, আর এতে লোপাট হয় ১শ কোটি ডলার। ২০২১ সাল নাগাদ হ্যাকাররা ১০ লাখ কোটি ডলার হাতিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা করছে বলে মূল প্রবন্ধে তুলে ধরেন সাইবার নিরাপত্তা পর্যবেক্ষক রুবাইয়াত আকবর।

তিনি জানান, মূলত নিজস্ব ভুলের কারণেই ৩৯ শতাংশ সাইবার আক্রমণ সফল হয়ে থাকে। এই ভুলের ক্ষেত্রে অনেক সময় প্রলোভন কিংবা পরিচিত জনের ই-মেইল থেকে আসা মেইল খুলে দেখার সময় হ্যাকিং এর শিকার হয় ব্যবহারকারী। এজন্য সাইবার আক্রমণ থেকে বাঁচতে সচেতনতার ওপর বেশি জোর দেয়ার কথা বলেন তিনি। এক্ষেত্রে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টদের সাইবার নিরাপত্তার বিষয়ে আরো বেশি সচেতন হওয়া জরুরী। তবে এই সচেতনতার জন্য যে প্রশিক্ষণ দরকার সেই ব্যবস্থাই নেই ২৬ শতাংশ ব্যাংকে। এমন তথ্য তুলে ধরে ট্রান্স আইটি সলিউশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ১ লাখের বেশি ব্যাংক কর্মকর্তার সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে কোনো প্রশিক্ষণ নেই।

সচেতনতা বাড়াতে সাইবার নিরাপত্তায় নিজেদের সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করে এজন্য ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন প্রধান নির্বাহীরা। এ প্রসঙ্গে ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন এসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স  বাংলাদেশ (এবিবি) এর সভাপতি ও মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিস এ খান বলেন, নিরাপত্তা বাড়াতে ব্যাংকগুলোকে সবশেষ প্রযুক্তি জোগাড় করতে হবে। এজন্য অর্থের প্রয়োজন আছে। তবে অনেক ব্যাংক এ খাতে অর্থ খরচে আগ্রহ দেখায় না উল্লেখ করে আনিস এ খান বলেন, সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে ব্যাংক কি ধরনের পরিস্থিতিতে পড়তে পারে সেটি আমরা ইতোমধ্যে দেখতে পেয়েছি।

সাইবার নিরাপত্তা জোরদারে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরামর্শ দিয়ে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কাশেম মো. শিরিন বলেন, ব্যাংকগুলোর উচিত আইএসও (ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড অর্গানাইজেশন) সনদ নেয়া। এই সনদ নিতে চাইলে অবশ্যই ব্যাংকগুলোকে আইএসও মানদন্ড অর্জন করতে হবে। যখন এই মানদন্ড অর্জিত হবে তখন ব্যাংকও নিশ্চিত হতে পারবে যে সাইবার আক্রমণের ঝুঁকি অনেক কমে গেছে। তবে তিনি দু:খ করে বলেন, বাংলাদেশের কয়েকটি ব্যাংক ছাড়া বেশির ভাগ ব্যাংকের কোনো আইএসও সনদ নেই। শুধু লাভ না করে বরং লাভের টাকা থেকে সাইবার নিরাপত্তার জন্য বিনিয়োগ করতে ব্যাংকগুলোর প্রতি আহবান জানিয়েছেন এই দুই শীর্ষ কর্মকর্তা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির পর সাইবার নিরাপত্তার বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নতুন করে সজাগ হয়েছে উল্লেখ করে বিভিন্ন কার্যক্রমের কথা তুলে ধরেন গভর্নর ফজলে কবির। তিনি বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক সাইবার নিরাপত্তার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে। এ বিষয়ে ব্যাংকগুলোর হাতে নীতিমালা ও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ব্যাংকগুলোকে অবশ্যই সাইবার নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি সুশাসনও নিশ্চিত করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন গভর্নর ফজলে কবির।

Share this post

scroll to top