সামঞ্জ্যপূর্ণ ও বাস্তব সম্মত মুদ্রানীতি হয়েছে : গভর্নর

governor-fazle-kabir.jpg

নিজস্ব প্রতিবেদক : চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধের জন্য ঘোষিত মুদ্রানীতি বাস্তবসম্মত হয়েছে বলে মনে করেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির। তিনি বলেন, এই মুদ্রানীতি বাজেটে ঘোষিত জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৭.৪ শতাংশ অর্জনে সহায়ক হবে। পরিকল্পনা কমিশন মিলনায়তনে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান সমিতির ১৬তম জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন গভর্নর।

বাংলাদেশের উন্নয়নের ক্ষেত্রে পরিকল্পনা গ্রহণে পরিসংখ্যানবিদদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নান। টেকসই উন্নয়ন অভিষ্ঠ বা এসডিজি বাস্তবায়নে পরিসংখ্যানের বড় ধরনের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে, মানসম্মত ও সঠিক পরিসংখ্যানের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

একই গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে গভর্নর ফজলে কবির বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে এসজিডির লক্ষ্যগুলো অর্জনে বাংলাদেশ সঠিক পথেই আছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে এই লক্ষ্য অর্জনে যথাযথ নীতি সহায়তা দেয়া হচ্ছে উল্লেখ করে সম্প্রতি ঘোষিত নতুন মুদ্রানীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতিকে নিয়ন্ত্রণে রেখে মুদ্রানীতি প্রবৃদ্ধি সহায়ক হয়েছে।

গভর্নর বলেন, গেল অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ৭.২ শতাংশ। সেই ধারাবাহিকতায় এবারে (২০১৭-১৮) ৭.৪ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা খুব বেশি নয়। অনেকে বলছেন, মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতের যে ঋণ প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে তাতে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জিত হবে না। এই ধরনের শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে গভর্নর বলেন, ঋণের যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে তাতে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে।

তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সতর্ক থাকতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কাজ হচ্ছে মূল্যস্ফীতিকে নিয়ন্ত্রণে রাখা, আবার একই সাথে উচ্চ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জন করা। এই সামঞ্জস্য নতুন মুদ্রানীতিতে রয়েছে উল্লেখ করে, জুলাই-ডিসেম্বরের জন্য ঘোষিত মুদ্রানীতিকে বাস্তবসম্মত বলেছেন গভর্নর ফজলে কবির।

গেল বুধবার অর্থবছরের প্রথমার্ধের (জুলাই-ডিসেম্বর) জন্য নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সেখানে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ধরা হয় ১৬.২ শতাংশ, অর্থবছর শেষে এই লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে ১৬.৩ শতাংশ। অন্যদিকে সরকার ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ঋণ না নেয়ায় এ খাতে জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে ঋণ প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৩.৮ শতাংশ।

এর আগের ঘোষিত মুদ্রানীতিতে (জানুয়ারি-জুন) বেসরকারি খাতে ১৬.৫ শতাংশ  ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে মে পর্যন্ত অর্জিত হয়েছে ১৬ শতাংশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ধারণা জুন পর্যন্ত এই অর্জন ১৬ শতাংশের ঘরেই থাকবে কিংবা আরো কম হতে পারে। সে জন্য জুলাই-ডিসেম্বর সময়ের জন্য বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ১৬.২ শতাংশ ধরা হয়েছে।

এদিকে গেল ৬ মাসে (জানুয়ারি-জুন) সরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছিল ১৬.১ শতাংশ। তবে মে পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, এই সময়ে সরকার ব্যাংক থেকে কোনো ঋণ না নেয়ায় ঋণ প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক ১৬.২ শতাংশ। সামনের দিনগুলোতে হয়তো সরকার সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণের ওপর নির্ভরশীল হতে পারে, তাই ঋণ প্রবৃদ্ধি ৩.৮ শতাংশ ধরা হয়েছে নতুন মুদ্রানীতিতে।

তবে উচ্চ সুদের সঞ্চয়পত্রেন ওপর বেশি নির্ভরশীলতার বিষয়ে সরকারকে সতর্ক করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সেই সাথে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, যদি এই নির্ভরশীলতা অব্যাহত থাকে তাহলে নতুন মুদ্রানীতি বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জ হবে। এজন্য সরকারের উচিত বাজারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে সঞ্চয়পত্রের সুদহার সমন্বয় করা।

Share this post

scroll to top