অভিযোগপত্র আদালতে : অভিযুক্ত ৮ জঙ্গি, হাসনাত করিমকে অব্যাহতি

নিজস্ব প্রতিবেদক : দীর্ঘ দুই বছর তদন্ত শেষে রাজধানীর গুলশারে হলি আর্টিসান বেকারিতে ভয়াবহ জঙ্গি হামলা মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় ২১ জনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। ৮ জঙ্গিকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছে। এই আট জনের মধ্যে গ্রেপ্তার আছেন ছয় জন, বাকি দুইজন পলাতক। এই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক হাসনাত করিমের সম্পৃক্ততা পায়নি পুলিশ। ফলে তকে মামলার অভিযোগপত্র থেকে অব্যাহতি দেয় হয়েছে। অভিযোগপত্র গ্রহণযোগ্যতার ওপর শুনানি হবে আগামি ২৬ জুলাই।

আজ (সোমবার) মিন্টো রোডে এক সংবাদ সম্মেলনে, মামলার তদন্ত সংস্থা পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম এসব তথ্য জানান। তিনি বলেছেন, সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে ওই অভিযোগপত্র আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মনিরুল ইসলাম বলেন, সংশ্লিষ্ট ২১ জনের মধ্যে পাঁচজন ওই দিন ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আটজন পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন অভিযানে নিহত হন। এ ছাড়া ওই ঘটনায় ৭৫টি আলামত পাওয়া গেছে, যা আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মনিরুল ইসলাম বলেন, দেশকে অস্থিতিশীল করে জঙ্গি রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত করতে, সরকারকে কোণঠাসা করতে, দেশে–বিদেশি বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত করতে ও বিদেশি ক্রেতারা যেন চলে যায় এসব কারণে হলি আর্টিসানে ওই হামলা চালানো হয়। এখানে সরাসরি আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। তবে জঙ্গিদের এই হামলা চালিয়ে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর দৃষ্টি আকর্ষণের লক্ষ্য ছিল। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী থেকে প্রযুক্তিগত সুবিধা পেতে তারা হামলা চালিয়েছিলেন।

হলি আর্টিসানকে বেছে নেয়ার কারণ হিসেবে মনিরুল ইসলাম বলেন, জঙ্গিরা বিভিন্ন জায়গায় রেকি করেছিল। ছয় মাস আগে থেকে তাদের পরিকল্পনা ছিল। ওই রেস্তোরাঁয় প্রচুর বিদেশি নাগরিক খাওয়াদাওয়া করতে আসতেন। এখানে নিরাপত্তাব্যবস্থা প্রায় ছিলই না। তাই এই রেস্টুরেন্টকে তারা বেছে নেয়। এখান থেকে পালিয়ে যাওয়া যায় সহজে। এ ছাড়া ওই দিন ছিল শুক্রবার, ২৭ রমজান, বেশি সওয়াব পেতে তারা ওই দিন হামলা চালায়।

মামলায় মোট সাক্ষ্য নেয়া হয়েছে ২১১ জনের। এর মধ্যে ১৪৯ জন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন। এর বাইরে বিভিন্ন সংস্থার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন অফিসার, ফরেনসিক টেস্ট যারা করেছেন, তাঁদের সাক্ষ্য নেয়া হয়।

মনিরুল ইসলাম জানান, সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে এ ঘটনায় হাসনাত করিম, সাইফুল চৌকিদার ও শাওনের জড়িত থাকার সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। পলাতকদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে আদালতে ওয়ারেন্ট ইস্যু করার দাবি জানানো হয়েছে।

ওই দিন সেনাবাহিনীর অপারেশন থান্ডারবোল্টে নিহত হন পাঁচজন। তারা হলেন রোহান ইবনে ইমতিয়াজ, মীর সামেহ মোবাশ্বের, নিবরাস ইসলাম, শফিকুল ইসলাম ওরফে উজ্জ্বল ও খায়রুল ইসলাম ওরফে পায়েল।

পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন অভিযানে নিহত হন আটজন। তারা হলেন তামীম আহমেদ চৌধুরী, নুরুল ইসলাম মারজান, তানভীর কাদেরী, মেজর (অব.) জাহিদুল ইসলাম ওরফে মুরাদ, রায়হান কবির তারেক, সারোয়ান জাহান মানিক, বাশারুজ্জামান ওরফে চকলেট ও মিজানুর রহমান ওরফে ছোট মিজান।

জীবিত আটজনের মধ্যে ছয়জন জেলে। তারা হলেন রাজীব গান্ধী, মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান, রাকিবুল হাসান রিগ্যান, হাতকাটা সোহেল মাহফুজ, হাদিসুর রহমান সাগর, রাশেদ ইসলাম ওরফে আবু জাররা । এ ছাড়া পলাতক ২ আসামি হচ্ছেন শরিফুল ইসলাম ওরফে খালেদ ও মামুনুর রশীদ ওরফে রিপন।

গত ১ জুলাই রাতে গুলশান ২ নম্বর এর ৭৯ সড়কটির হলি আর্টিসান রেস্তোরাঁয় ঘটে যায় দেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন জঙ্গি হামলা। দেশি-বিদেশি ২০ নাগরিককে হত্যা করে জঙ্গিরা। জঙ্গিদের হামলায় নিহত হন পুলিশের দুজন কর্মকর্তাও। ২ জুলাই সকালে সেনা কমান্ডোরা অভিযান চালিয়ে হলি আর্টিসান থেকে ১৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করেন। কমান্ডো অভিযানে হামলায় জড়িত পাঁচ জঙ্গি নিহত হয়। জঙ্গি হামলার পর গুলশান থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করে পুলিশ।

print