জিয়া চ্যারিটেবলে দুই আসামির অনাস্থা আবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক : ন্যায়বিচার না পাওয়ার আশঙ্কার কথা জানিয়ে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার বিচারকের প্রতি অনাস্থা জানিয়েছেন এ মামলার দুই আসামি। জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও মনিরুল ইসলাম খানের পক্ষে আইনজীবী আমিনুল ইসলাম ও মো. আক্তারুজ্জামান সোমবার ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ মো. আখতারুজ্জামানের প্রতি এই অনাস্থার কথা জানান।

লিখিত আবেদন দুই আসামি বলেছেন, খালেদা জিয়া কারাগারে থাকায় তাকে আদালত হাজির না করা হলে এ মামলার কার্যক্রম চলতে পারে না। তার অনুপস্থিতিতে বিচার চলার আদেশ আইনসংগত হবে না। এ আদালত থেকে ন্যায়বিচার পাবেন না। এ আবেদনের পর আদালত এক আসামির জামিন বাতিল করে মামলার শুনানির জন্য কাল (মঙ্গলবার) দিন ঠিক করেছেন।

জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে জিয়াউলকে। এর আগে ২০ সেপ্টেম্বর এ মামলায় খালেদা জিয়া আদালতে না আসায় তার অনুপস্থিতিতে বিচার চলবে বলে আদেশ দিয়েছিল আদালত।

আজ শুনানির শুরুতে খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া ও মাসুদ আহমেদ তালুকদার খালেদা জিয়াকে বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়ার আদেশ চেয়ে আবেদন করেন। খালেদা সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত মামলার কার্যক্রম মুলতবি চান এই দুই আইনজীবী। তারা আদালতকে জানান, খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে বিচার চালানোর আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আবেদন করবেন।

অন্যদিকে, জিয়াউল ইসলাম মুন্নার আইনজীবী আমিনুল ইসলাম আদালতকে বলেন, খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতে বিচার চলার যে আদেশ হয়েছে, তা আইনসিদ্ধ হয়নি। এই আদেশের বিরুদ্ধেও তার মক্কেল উচ্চ আদালতে বিবিধ আবেদন করবেন। সে কারণে তিনি সময় চান।

তখন দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল আদালতকে বলেন, এ মামলায় আজ জিয়াউল ইসলাম ও মনিরুল ইসলামের পক্ষে যুক্তিতর্ক শুনানির জন্য দিন রয়েছে। তারা যদি যুক্তিতর্ক না করেন, তাহলে রায় ঘোষণার দিন ঠিক করার জন্য তিনি আবেদন করছেন। কারণ, মূল আইনে যুক্তিতর্ক করতে হবে, এমন বিধান নেই। এ মামলার বিচারকে বিলম্বিত করছে আসামিপক্ষ।

একপর্যায়ে জিয়াউল ইসলাম ও মনিরুল ইসলামের পক্ষে আইনজীবীর লিখিত আবেদন দিয়ে বলেন, এ আদালতের প্রতি তাদের আস্থা নেই। এ কারণে মামলাটি অন্য আদালতে হস্তান্তর চেয়ে উচ্চ আদালতে আবেদন করবেন। এ জন্য ২০ কার্যদিবস শুনানি মুলতবি চান। আবেদনে বলা হয়েছে, এ আদালত প্রকাশ্য আদালত নন। আসামি জেলে থাকলে তাঁর ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় আদালতে উপস্থিত থাকা বা না থাকা নির্ভর করে না।

উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত জিয়াউল ইসলামের জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়। একই সঙ্গে খালেদা জিয়া ও মনিরুল ইসলামের জামিন বহাল রাখে। কারাবিধি অনুযায়ী খালেদাকে চিকিৎসা দেয়ার নির্দেশ দিয়ে আদালত কাল যুক্তিতর্ক শুনানির দিন ঠিক করে। আদালতের প্রতি অনাস্থা চেয়ে যে আবেদন করা হয়েছে, সে ব্যাপারে কাল আদেশ দেয়ার দিন ঠিক করেন বিচারক।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেয় ঢাকার বিশেষ জজ আদালত ৫। এরপর থেকে ৭৩ বছর বয়সী এই নেতাকে সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারের দোতলার একটি কক্ষে রাখা হয়েছে। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার বিচারকাজ পুরান ঢাকার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠ সংলগ্ন বিশেষ জজ আদালতেই চলছিল।

তবে অসুস্থ্যতার কারণ দেখিয়ে খালেদা জিয়া এই মামলার শুনানিতে আর অংশ নেননি। এরপর গত ৪ সেপ্টেম্বর আইন মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে পরিত্যক্ত কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রশাসনিক ভবনের ৭ নম্বর কক্ষটিতে আদালত হিসেবে ঘোষণা করে।

এরপর ৬ সেপ্টেম্বর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় আদালত বসে কারাগারে। সেখানে ৬ মাস ২৪দিন পর খালেদা জিয়া হাজির হন। শুনানিতে তিনি বলেন, অসুস্থ্যতার কারণে তিনি আর আদালতে আসতে পারবেনা।

এরপরে খালেদা জিয়াকে আর আদালতে আনতে না পেরে গত ২০ সেপ্টেম্বর তার অনুপস্থিতিতেই বিচার চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত দেন বিচারক মো. আখতারুজ্জামান।

সেদিন এ মামলার অসমাপ্ত যুক্তিতর্ক শুনানি আবার শুরু করার জন্য ২৪, ২৫ ও ২৬ সেপ্টেম্বর তারিখ রেখে প্রতিদিন সকাল সাড়ে ১০টা থেকে শুনানির সময় ঠিক করে দিয়েছিলেন বিচারক। সে অনুযায়ী সোমবার আদালত বসলেও আসামিপক্ষের অনাস্থা নিয়ে আলোচনায় যুক্তিতর্ক শুনানি আর শুরু হয়নি।

সেদিন এ মামলার অসমাপ্ত যুক্তিতর্ক শুনানি আবার শুরু করার জন্য ২৪, ২৫ ও ২৬ সেপ্টেম্বর তারিখ রেখে প্রতিদিন সকাল সাড়ে ১০টা থেকে শুনানির সময় ঠিক করে দিয়েছিলেন বিচারক।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় এ মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন।

print