তিন সিটিতে সেনা চায় বিএনপি, ইসি রাজি নয়

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করার দাবি জানিয়েছে বিএনপি। আজ (সোমবার) বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদার সঙ্গে দেখা করে এ দাবি জানায়। তবে ইসি বলছে, তারা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সেনা মোতায়েন প্রয়োজন আছে বলে মনে করে না।

বিকেলে সিইসির সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান। তিনি বলেন, তারা বলেছেন, তিন সিটি করপোরেশনে অবিলম্বে সেনা মোতায়েন করা হোক। সেনাবাহিনীর ওপর মানুষের আস্থা আছে। সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হলে মানুষ নির্ভয়ে ভোট দিতে পারবে।

মঈন খান বলেন, তারা ইসির সঙ্গে ছয়টি বিষয়ে আলোচনা করেছেন। তারা বলেছেন, তিন সিটি করপোরেশনেই বিএনপির নেতা-কর্মীদের হয়রানি করা হচ্ছে, গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এ সময়ে গ্রেপ্তার করার কোনো কারণ ছিল না। অনেকের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই, অনেকে জামিনে আছেন। এরপরও তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এভাবে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হবে না। তিনি জানান, বৈঠকে ইসিকে গ্রেপ্তার নেতা-কর্মীদের তালিকা দেয়া হয়েছে।

মঈন খান বলেন, খুলনা ও গাজীপুরে দেখা গেছে, যেসব সরকারি কর্মকর্তাকে নির্বাচনের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে, তাদের পরিবারের সদস্য রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এটা সম্পূর্ণ অনৈতিক। তারা বিষয়টি ইসিকে জানিয়েছেন। তিনটি শহরেই সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আচরণবিধি লঙ্ঘন করে অনেকে প্রচারে অংশ নিচ্ছেন। গণমাধ্যমেও তা এসেছে। কিন্তু এর কোনো প্রতিকার হচ্ছে না। এ বিষয়টি নিয়ে তারা ইসির দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। এ ছাড়া খুলনা ও গাজীপুরের মতো তিন সিটিতেও যাতে অনিয়ম না হয়, সে জন্য ব্যবস্থা নেয়া এবং সব ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বসানোর প্রস্তাব দিয়েছে বিএনপি।

এক প্রশ্নের জবাবে মঈন খান বলেন, তারা আশ্বাস পেতে ইসিতে যাননি। সুষ্ঠু নির্বাচন করা ইসির দায়িত্ব। তারা আশা করেন, ইসি সে দায়িত্ব পালন করবে।

পরে নির্বাচন কমিশনার শাহাদাত হোসেন চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, বিএনপি তিন সিটি নির্বাচন নিয়ে কিছু অভিযোগ ও পরামর্শ দিয়েছে। সেনাবাহিনী মোতায়েনের কথা বলেছে। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজন আছে বলে ইসি মনে করে না।

শাহাদাত হোসেন বলেন, বিএনপি গ্রেপ্তার হওয়া নেতা-কর্মীদের যে তালিকা দিয়েছে, সেটা খতিয়ে দেখা হবে। কেন, কখন গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে তা লিখিতভাবে জানতে চাওয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে যদি অপরিহার্য না হয়, আমলযোগ্য অপরাধ যদি না হয়, সে ক্ষেত্রে কোনো নেতা-কর্মী, সমর্থক বা এজেন্টদের কোনো হয়রানির শিকার না হয় এবং নির্বিঘ্নে তাদের কাজ করতে পারে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। নির্বাচনের সঙ্গে সত্যিকার অর্থে সম্পৃক্ত আছে, তাদের বিরুদ্ধে যদি পরোয়ানা না থাকে, তারা যদি আমলযোগ্য অপরাধ না করে থাকেন, সে ক্ষেত্রে কোনো হয়রানির অভিযোগ ইসি শুনতে চায় না।

গাজীপুর ও খুলনায় অনিয়মের অভিযোগ ছিল। তিন সিটি নির্বাচনে অনিয়ম রোধে বাড়তি কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে শাহাদাত হোসেন বলেন, অনিয়ম একদমই হয় না সেটা নয়। যেসব কেন্দ্রে বেশি অনিয়ম হয়েছে, সেগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সামান্য অনিয়ম যেখানে হয়েছে সেখানেও অভ্যন্তরীণ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

print