বাণিজ্যমেলার প্রস্তুতি কাজ শেষ পর্যায়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক : নতুন বছরের প্রথমদিন থেকে শুরু হচ্ছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা। জোরেশোরে চলছে মেলার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি কাজ। প্যাভিলিয়ন, স্টলগুলোর কাজ প্রায় শেষের দিকে। মেলার প্রস্তুতিকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকা জুড়ে বিশাল কর্মযজ্ঞ। এবারে মেলা সাজবে আগের চেয়ে বর্ণিল সাজে। প্রবেশ পথেই মেলায় আগতরা দেখতে পাবেন দৃশ্যমান পদ্মাসেতু।

বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রগতির নিদর্শন পদ্মা সেতু। স্বপ্ন নয়, এখন এই সেতু দৃশ্যমান। বাণিজ্যমেলায় আগতদের সে কথা আরেক বার মনে করিয়ে দিতে এবারে মেলার প্রবেশদ্বার তৈরি হয়েছে পদ্মা সেতুর আদলে। প্রবেশদ্বারের জন্য জারিরা প্রান্তের ৩৭ ও ৩৮ নম্বর খুঁটির ওপর বসানো প্রথম স্প্যানটির রেপ্লিকা তৈরির কাজ প্রায় শেষ।

এবারে বাণিজ্য মেলায়  ৫৮৭টি প্যাভিলিয়ন ও স্টল থাকছে। এগুলো নির্মাণের কাজ চলছে জোরেশোরে। প্রবেশদ্বারের কাছাকাছি প্যাভিলিয়ন, স্টলগুলোর কাজ প্রায় শেষের দিকে। দুই একদিনের মধ্যেই বাকি কাজ শেষ হয়ে যাবে বলে আশা করছে নির্মাণ শ্রমিকরা। মেলার আয়োজক প্রতিষ্ঠান রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো, ইপিবির পক্ষ থেকেও একই কথা জানানো হয়েছে।

ইপিবি সচিব আবু হেনা মোরশেদ জামান জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে বাকি কাজও শেষ হয়ে যাবে। নতুন বছরের প্রথম দিনে এবারো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই মেলার উদ্বোধন করবেন বলে তিনি জানান। এসময় তিনি জানান, স্টল বরাদ্দ নিয়ে এবারে কোন অভিযোগ ছিল না।

গেল বছর মেলা থেকে যে পরিমাণ রপ্তানি আদেশ পাওয়া গেছে এ বছর তা আরো বাড়বে বলে আশাবাদ ইপিবি’র এই কর্মকর্তারা। তিনি জানান, গেল বছর মেলা থেকে ১৪৫ কোটি টাকার রপ্তানি আদেশ পাওয়া গেছে। এবারে এর পরিমাণ দেড়শ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মেলার উদ্দেশ্য দেশীয় বাণিজ্যের সম্প্রসারণ। পাশাপাশি বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশ গ্রহণ বাড়িয়ে দেশীয় প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগসাজশ তৈরি করা। এছাড়া রপ্তানি বাড়াতে বিদেশি ক্রেতাদের সাথে দেশীয় প্রস্তুতকারকদের সংযুক্ত করাই আন্তর্জাতিক এই মেলার উদ্দেশ্য।

মোরশেদ জামান জানান, আগামি কয়েক বছরের মধ্যে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা রাজধানীর পূর্বাচলে সরিয়ে নেয়া হবে। এক্ষেত্রে সেখানে জায়গার সংকুলান হবে কিনা সে বিষয়ে তিনি সন্দিহান। পূর্বাঞ্চলে মেলার স্থায়ী ভ্যানু নির্মাণের জন্য ২০ একর জায়গা বরাদ্দা করা হয়েছে। অথচ এখন আগারগাঁও এর বাণিজ্যমেলা প্রাঙ্গণ ৩১ একরের বেশি।

print