মার্চেই চালু হচ্ছে ফোর জি : বিটিআরসি

নিজস্ব প্রতিবেদক : মার্চেই ফোর জি সেবা পেতে যাচ্ছেন মোবাইল ফোন গ্রাহকরা। এই সেবার জন্য লাইসেন্স পেতে ৫টি মোবাইল অপারেটর আবেদন করেছে। আবেদন যাচাই বাছাই শেষে মধ্য ফেব্রুয়ারিতে লাইসেন্স ও তরঙ্গ বরাদ্দের জন্য নিলাম অনুষ্ঠিত হবে। ফোর জি সেবার সবশেষ পরিস্থিতি নিয়ে রবিবার বিকেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানিয়েছেন টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ।

মোবাইল ফোনের ফোর জি সেবা চালু করতে গেল ৪ ডিসেম্বর অপারেটরদের লাইসেন্স দেয়ার জন্য প্রস্তাব আহবান করে বিজ্ঞপ্তি দেয় বিটিআরসি। তবে ২০০৮ সালের ব্রডব্যান্ড নীতিমালার সাথে ফোর জি নীতিমালার কয়েকটি ধারা সাংঘর্ষিক উল্লেখ করে ঐ বিজ্ঞপ্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট হয়। এ বিষয়ে শুনানি শেষে হাইকোর্ট রুল ইস্যু করায় বিজ্ঞপ্তির কার্যকারিতা স্থগিত হয়। হাইকোর্টের ওই আদেশ স্থগিত চেয়ে আবেদন করে বিটিআরসি। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে রবিবার আপিল বিভাগ হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ স্থগিত করে দেয়ায় এখন ফোর জি সেবা দিতে লাইসেন্স ও তরঙ্গ বরাদ্দের নিলামের জন্য আর কোন বাধা নেই।

এদিন বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে বিটিআরসি জানায়, ফোর জি সেবার জন্য লাইসেন্স ও তরঙ্গ বরাদ্দ পেতে রবিবারই ছিল আবেদনের শেষ দিন। লাইসেন্সের জন্য টেলিটক, রবি, গ্রামীণফোন, বাংলালিংক ও সিটিসেল আবেদন করেছে। অন্যদিকে ফোর জি’র তরঙ্গ বরাদ্দ নিতে টেলিটক ছাড়া বাকি চারটি প্রতিষ্ঠান আবেদন করেছে। এসব আবেদন যাচাই বাছাই করে ১৩ই ফেব্রুয়ারি নিলাম অনুষ্ঠিত হবে, পরদিন লাইসেন্স জন্য মনোনীতদের তালিকা প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে বিটিআরসি।

তাহলে কবে নাগাদ চালু হবে ফোর জি সেবা? এমন প্রশ্নের জবাবে কমিশনের চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ বলেন, নিলাম শেষ হওয়ার পর অপারেটরদের প্রস্তুতির জন্য আরো কিছু সময় দিতে হবে। এর মধ্যে লাইসেন্স ও তরঙ্গ বরাদ্দের অর্থ পরিশোধ করতে তাদের এক মাস সময় দেয়া হবে। প্রাথমিক ভাবে অপারেটরগুলোকে নিমালে চূড়ান্ত করা ৬০ শতাংশ অর্থ পরিশোধ করতে হবে এই এক মাসের মধ্যে। সেই হিসেবে মার্চের মাঝামাঝি কিংবা শেষ দিকে ফোর জি’র প্রাথমিক সেবা চালু হবে বলে আশা করছেন বিটিআরসি চেয়ারম্যান।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ফোর জির সেবার লক্ষ্যে ২১ মেগাহার্টজের তরঙ্গ বরাদ্দ দিতে নিলামের জন্য বিটিআরসি নূন্যতম মূল্য ধরতে পারে ২৭ মিলিয়ন (২.৭ কোটি) মার্কিন ডলার, যা সোয়া ২শ কোটি টাকার কিছু বেশি হবে। অন্যদিকে ১৮শ ও ৯শ মেগা হার্টজের জন্য এই মূল্য ধরা হতে পারে ৩০ মিলিয়ন (৩ কোটি) মার্কিন ডলার বা প্রায় আড়াইশ কোটি টাকার মত। টু জি সেবার জন্য ৯শ ও ১৮শ মেগাহার্টজের তরঙ্গ বরাদ্দ দেয়া হয়। আর থ্রি জির জন্য দেয়া হয় ২১শ মেগাহার্টজের তরঙ্গ। তবে এই মেগাহার্টজেই (২১শ) থোর জি সেবা দেয়া হবে।

সরকারের পাওনা রাজস্ব পরিশোধ করতে না পারায় সিটিসেলের সেবা এখন কার্যত বন্ধ। তারপরো কিভাবে প্রতিষ্ঠানটি ফোর জি সেবার জন্য লাইসেন্স ও তরঙ্গ বরাদ্দ পেতে আবেদন করেছে এমন প্রশ্নের জবাবে, বিটিআরসি জানিয়েছে সিটিসেলের বেশির ভাগ পাওনা পরিশোধ হয়ে যাওয়ায় আবেদন করতে সমস্যা ছিল না। বাকি পাওনা অর্থও প্রতিষ্ঠানটি আদালতে আদেশ অনুযায়ী পরিশোধ করবে বলে জানিয়েছেন বিটিআরসির আইন ও লাইসেন্সিং বিভাগের মহাপরিচালক মো. শহিদুজ্জামান। তিনি জানান, যেহেতু সিটিসেল থ্রিজি সেবার জন্য লাইসেন্স নেয়নি, তাই ফোরজি পেতে হলে প্রতিষ্ঠানটিকে আগে থ্রিজির লাইসেন্স নিয়ে পর্যাপ্ত তরঙ্গ বরাদ্দ নিতে হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে বিটিআরসি চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ জানান, মোবাইল অপারেটগুলোর রাজস্ব আয় বাড়লে তাতে কোন দোষ দেখে না বিটিআরসি। তবে রাজস্ব বাড়ার অনুপাতে কেন বিনিয়োগ বাড়ছে না, তা নিয়ে বিটিআরসির নজর আছে বলে তিনি জানান। এক্ষেত্রে মোবাইল সেবার গুনগত মান বাড়তে মোবাইল অপারেটগুলোকে আরো চাপ প্রয়োগ করা হবে বলে তিনি জানান। সেবার মান নিশ্চিত করতে বিধিমালা তৈরির কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন শাহজাহান মাহমুদ। উল্লেখ্য ২০১৩-১৪ অর্থবছরে মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো ২০ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা আয়ের বিপরীতে বিনিয়োগ করেছে ৯ হাজার ৭৮৭ কোটি টাকা। গেল অর্থবছরে আয় বেড়ে ২৩ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা হলেও বিনিয়োগ প্রায় অর্ধেক কমে হয়েছে ৪ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা।

print