মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানি : সিন্ডিকেট কি আসলে দায়ী?

নিজস্ব প্রতিবেদক : মালয়েশিয়ায় জনশক্তি পাঠাতে বাংলাদেশের সিন্ডিকেটও দায়ী বলে মনে করে অভিবাসন নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংগঠনগুলো। মাত্র ১০টি রিক্রুটিং এজেন্সি কর্মী পাঠানোর সুযোগ পাওয়ায় জটিলতা তৈরি হচ্ছে বলে মনে করে বিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর সংগঠন বায়রা। মালয়েশিয়া সরকারকে অনুরোধ করে রিক্রুটিং এজেন্সির সংখ্যা বাড়াতে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কাছে দাবি জানিয়েছেন বায়রার নেতারা।

নানা জটিলতায় মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানি বন্ধ থাকায় সাগর পাড়ি দিয়ে অবৈধ পথেও সেখানে গেছে বাংলাদেশিরা। বছর চারেক আগে দুই দেশের সরকার তাই জিটুজি অর্থাৎ সরকারি পর্যায়ে কর্মী পাঠানো ও নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এই উদ্যোগ সফলতার মুখ না দেখায় বিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে যুক্ত করে জিটুজি প্লাস প্রক্রিয়ায় মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানি করছে বাংলাদেশ। চলতি বছরের জুন পর্যন্ত এই প্রক্রিয়ায় গেছেন ৪০ হাজারের মত কর্মী।

জিটুজি প্লাস প্রক্রিয়া সম্পর্কে বায়রার যুগ্ম মহাসচিব শামীম আহমেদ চৌধুরী নোমান নিউজ এন্ড নাম্বারসকে বলেন, আমরা দেখেছি সরকারি পর্যায়ে মাত্র হাজার দশেক বাংলাদেশি মালয়েশিয়া যাবার সুযোগ পেয়েছিল। জিটুজি প্লাস সিদ্ধান্তের পর এই বাজারে জনশক্তি রপ্তানিতে আবারো গতি এসেছে বলে তিনি মনে করেন। মালয়েশিয়া সরকারকে বাংলাদেশ সরকার ৭৪৫টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা দিয়েছিল সেখান থেকে মাত্র ১০টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে অনুমোদন দেয়া হয়। এই সংখ্যা অত্যন্ত নগন্য হওয়ায় চাহিদার তুলনায় কর্মী প্রেরণ করা যাচ্ছে না বলে মনে করেন শামীম আহমেদ।

তিনি জানান, মালয়েশিয়ার কাছে সরকার যে তালিকা দিয়েছিল সেখান থেকে বাদ পড়া এজেন্সিগুলোকে অনুমোদন পাওয়া এজেন্সির সাথে সমন্বয় করে কর্মী পাঠানোর কথা ছিল। তবে এই সমন্বয় কিভাবে হবে সেই বিষয়ে এখনো মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কোনো নির্দেশনা নেই। এই সমন্বয় করতে মালয়েশিয়া সরকার প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়কেও চিঠি দিয়েছিল বলে জানান শামীম আহমেদ চৌধুরী। বায়রার পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

শামীম আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় জনশক্তি যাবার যে চাহিদা তা কখনোই এই ১০টি রিক্রুটিং এজেন্সি দিয়ে মিটবে না। হয় বাকি সক্ষম ও দক্ষ এজেন্সিগুলোকেও দ্রুত সমন্বয়ের দিক নির্দেশনা দিতে হবে কিংবা এজেন্সির সংখ্যা বাড়াতে হবে। উল্লেখ্য মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানির জটিলতায় দেশটির সিন্ডিকেটকেই দায়ী করেছেন প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি। রোববার মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এই অভিযোগ করেন।

অভিবাসন নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংগঠন ওয়ারবি ফাউন্ডেশনের মহাসচিব ফারুক আহমেদ নিউজ এন্ড নাম্বারসকে বলেন, সিন্ডিকেট যেমন মালয়েশিয়ায় আছে ঠিক একই ভাবে বাংলাদেশও আছে। অভিবাসন নিয়ে কাজ করতে গিয়ে তারা বাংলাদেশের সিন্ডিকেটেরও প্রমাণ পেয়েছেন। এখানে তাই দুই পক্ষই দোষী উল্লেখ করে তিনি বলেন, একক ভাবে মালয়েশিয়াকে দায়ী করা যাবে না। সিন্ডিকেট বন্ধে তিনি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ আশা করেছেন।

১০টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে ঠিক সিন্ডিকেট বলা যাবে কিনা সেই বিষয়ে সন্দিহান বায়রা নেতা শামীম আহমেদ চৌধুরী। তিনি বলেন, যারা অনুমোদন পেয়েছে তাদের দিক থেকে বলা হচ্ছে, যোগ্যতা, সক্ষমতা ও দক্ষতা আছে বলেই বাংলাদেশ সরকারের তালিকা থেকে মালয়েশিয়া সরকার তাদের বাছাই করেছে। তবে তালিকায় থাকা যেসব রিক্রুটিং এজেন্সি অনুমোদন পায়নি তাদের দিক থেকে আবার এটাকে সিন্ডিকেট হিসেবে দেখা হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন। সরকার যেহেতু এসব রিক্রুটিং এজেন্সিকে লাইসেন্স দিয়েছে তাই তাদের ব্যবসার সুযোগ করে দেয়াও সরকারের দায়িত্ব বলে তিনি মনে করেন। এজন্য রিক্রুটিং এজেন্সির সংখ্যা বাড়াতে মালয়েশিয়াকে অনুরোধের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি মালয়েশিয়ায় অবৈধ বাংলাদেশিদের যে ধরপাকড় চলছে এজন্য সেখানকার বাংলাদেশ দূতাবাসের অদক্ষতা ও অসহযোগিতাকে দায়ী করছেন ওয়ারবির মহাসচিব ফারুক আহমেদ। তিনি বলেন, অবৈধ বাংলাদেশিরা বৈধ হবার জন্য বার বার মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাসে যোগাযোগ করলেও তাদের সহায়তা করা হয়নি। এক্ষেত্রে পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়, প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় সাধনের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

print