সরকার চায় নির্বাচনে সব দল আসুক : প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার চায় আগামি সাধারণ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হবে। এবং সব রাজনৈতিক দল এতে অংশগ্রহণ করবে। জাতিসংঘ সদর দপ্তরের যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ–বিষয়ক মন্ত্রী জেরেমির সঙ্গে সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। বৈঠকের পর পররাষ্ট্রসচিব শহিদুল হক সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

জেরেমি হান্ট বলেন, বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রত্যাশা করছে যুক্তরাজ্য। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাজ্য সরকারের এই প্রত্যাশার সঙ্গে তার সরকারের কোনো দ্বিমত নেই।

বৈঠকে রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে আলোচনায় ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চান। শেখ হাসিনা বলেন, এই সমস্যার সমাধানে বাংলাদেশ মিয়ানমারের সঙ্গে একটি চুক্তি সই করেছে। মিয়ানমার তাদের নাগরিকদের বাংলাদেশ থেকে ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে। তবে তারা চুক্তি অনুযায়ী কাজ করছে না।

শেখ হাসিনা বলেন, যদি তাদের দেশে ফেরার জন্য নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা সম্ভব হয় তাহলে রোহিঙ্গারা তাদের দেশে ফিরবে। তবে তেমনটি ঘটছে না। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের ভাসানচর দ্বীপে রোহিঙ্গাদের সরিয়ে নেয়ার বিষয়ে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী মিশন আয়োজিত গ্লোবাল কল টু অ্যাকশন অন ওয়ার্ল্ড ড্রাগ প্রোবলেম–বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে অংশ নেন। এছাড়া ইনভেস্টমেন্ট ফর এডুকেশন অব উইমেন অ্যান্ড গার্ল শীর্ষক এক আলোচনায় রাখাইনে ফিরে যাওয়ার পর রোহিঙ্গা শিশুরা যাতে আগের মত শিক্ষাসহ অন্যান্য অধিকার থেকে বঞ্চিত না থাকে, সেজন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মিয়ানমারে বিনিয়োগ করার আহ্বান জানিয়েছেন শেখ হাসিনা।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর উদ্যোগে আয়োজিত এই গোলটেবিল আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে শিশুদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে তিনটি প্রস্তাব দেন। সংঘাত, জাতিগত নিধন এবং গণহত্যা থেকে পালিয়ে আসা শিশুদের মানসিক আঘাত লাঘবে এবং সামাজিক প্রয়োজন মেটাতে নজর দেয়া। জাতিগত নিধন থেকে পালিয়ে যাওয়া শিশুরা সাধারণ স্কুলে খাপ খাইয়ে নিতে সমস্যায় পড়তে পারে। তাই তাদের জন্য অনানুষ্ঠানিক এবং দৈনন্দিন জীবনের দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে বিশেষ শিক্ষার ব্যবস্থা করা। এছাড়া বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা শিশুরা এখন ভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশে বসবাস করছে। তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি, জাতিসত্তা এবং ভাষা অনুযায়ী এই শিশুদের শিক্ষার ব্যবস্থা করা।

শিক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক আর্থিক সুবিধা নিয়ে শীর্ষ পর্যায়ের আরেক আলোচনায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শিক্ষা খাতের উন্নয়নে মুনাফার মানসিকতা বর্জন করে অধিকারের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগিয়ে আসতে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান তার।

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র চেম্বার অব কমার্সের উদ্যোগে গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকেও অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। মার্কিন বিনিয়োগকারীদের পারস্পরিক স্বার্থে ব্যবসা, প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবন নিয়ে বাংলাদেশে আসার আমন্ত্রণ জানিয়ে এ ব্যাপারে সরকারের পূর্ণ সমর্থন ও সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

print