সিনহার ভাইয়ের বিরুদ্ধে তদন্তে দুদক

নিজস্ব প্রতিবেদক : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অর্থ পাচার ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার ভাই অনন্ত কুমার সিনহার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন, দুদক। আজ (সোমবার) এ বিষয়ে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়ে অনুসন্ধান কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছে সংস্থাটি।

দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য জানান, সহাকারী পরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধানকে অনুসন্ধান কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

দুদক সূত্র জানায়, অনন্ত কুমার সিনহা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সিতে ২ লাখ ৮০ হাজার ডলার অর্থাৎ বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ টাকায় বাড়ি কিনেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। চার হাজার বর্গফুটের ওই বাড়িতে বিচারপতি সিনহা থাকেন বলে দুদকের কাছে তথ্য রয়েছে। এ ছাড়া অনন্ত সিনহার বিরুদ্ধে অর্থ পাচার ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগও খতিয়ে দেখবে দুদক।

বিচারপতি এস কে সিনহা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে আছেন। শনিবার সেখানে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছেন। গতকাল রোববার টেলিফোনে বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এস কে সিনহা রাজনৈতিক আশ্রয় চাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এর আগে সাবেক প্রধান বিচারপতির ব্যাংক হিসেবে চার কোটি টাকা জমা হওয়ার একটি অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুদক। ফারমার্স ব্যাংকে জালিয়াতির ঘটনা অনুসন্ধান করতে গিয়ে বিষয়টি নজরে আসে দুদকের।

নিরঞ্জন ও শাহজাহান নামের দুই ব্যক্তি ফারমার্স ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ওই টাকা বিচারপতি সিনহার ব্যাংক হিসেবে জমা দেন। দুদকের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ওই দুই ব্যক্তি সাংবাদিকদের বলেছেন, সাবেক প্রধান বিচারপতিকে জমির দাম হিসেবে ওই টাকা দেয়া হয়েছে।

বিচারপতি সিনহা প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব নেন ২০১৫ সালের ১৭ জানুয়ারি। তারপর নানা কারণে আলোচিত ছিলেন। শেষ বিতর্ক সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে দেওয়া তার লেখা রায় নিয়ে। এতে তার বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ নিয়ে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেন ক্ষমতাসীন দলের মন্ত্রী, দলীয় নেতা ও সরকারপন্থী আইনজীবীরা। তার পদত্যাগের দাবি ওঠে। পক্ষান্তরে রায়কে স্বাগত জানায় বিএনপি।

২ অক্টোবর তিনি এক মাসের ছুটির কথা জানিয়ে রাষ্ট্রপতিকে চিঠি দেন, ছুটির মেয়াদ ছিল ১ নভেম্বর পর্যন্ত। তার ছুটিকে কেন্দ্র করে পক্ষে-বিপক্ষে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। সরকারের মন্ত্রী বলেন, প্রধান বিচারপতি ছুটি নিয়েছেন শারীরিক সমস্যার কারণ দেখিয়ে। বিএনপি অভিযোগ করে, তাকে গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছে। ৫ অক্টোবর ছুটিতে থাকা প্রধান বিচারপতি জনসমক্ষে বের হন।

১০ অক্টোবর তিনি ১৩ অক্টোবর বিদেশে যাওয়া এবং ১০ নভেম্বর পর্যন্ত বিদেশে থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। ১২ অক্টোবর রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে আইন মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনের ভাষ্য, বিচারপতি সিনহার ছুটির মেয়াদ ১০ নভেম্বর পর্যন্ত বেড়েছে।

প্রধান বিচারপতি সিনহা ১৩ অক্টোবর রাতে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ার সময় তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, তিনি অসুস্থ নন। তিনি অস্ট্রেলিয়া থেকে সিঙ্গাপুরে যান ৬ নভেম্বর। ১০ নভেম্বর সিঙ্গাপুর থেকে কানাডায় যাওয়ার পথে সেখানকার বাংলাদেশ হাইকমিশনে তিনি রাষ্ট্রপতি বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দেন। রাষ্ট্রপতি পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন ১৪ নভেম্বর।

print