বন্ধ হয়ে গেল দেশ ও উপমহাদেশের প্রথম মোবাইল অপারেটর সিটিসেল

citycel-01.jpg

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের প্রথম মোবাইল ফোন অপারেটর সিটিসেলের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন,বিটিআরসি। বৃহস্পতিবার বিকেলে বিটিআরসির একটি প্রতিনিধিদল মহাখালীতে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয়ে গিয়ে অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। এসময় সিটিসেল ভবনের সামনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন ছিল।

এ বিষয়ে বিটিআরসি কার্যালয়ে সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম সিটিসেলের তরঙ্গ বরাদ্দ স্থগিত করার ঘোষণা দেন। এসময় তিনি জানান, বকেয়া পরিশোধ না করায় টেলিযোগাযোগ আইনের ৫৫ (৩) ধারায় সিটিসেলের তরঙ্গ বরাদ্দ স্থগিত করা হয়েছে। তরঙ্গ বরাদ্দ পেতে সিটিসেলের আর কোন সুযোগ নেই।

শর্ত অনুযায়ী মোট বকেয়ার ৪৭৭ কোটি টাকার দুই-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ ৩১৫ কোটি টাকা বুধবার নির্ধারিত সময়ে পরিশোধ না করায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিটিআরসি। যদিও সেদিন সিটিসেল কর্তৃপক্ষ বিটিআরসির কাছে ১৪৪ কোটি টাকা জমা দেয়। কিন্তু প্রতিশ্রুত অর্থের পুরোটা পরিশোধ না করায় সিটিসেল বন্ধের দিকেই হেঁটেছে বিটিআরসি।

গেল ৩০ আগস্ট সিটিসেলকে দুই মাসের মধ্যে বকেয়া পরিশোধের সময় বেঁধে দেয় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। নির্দেশ অনুযায়ী প্রথম মাসে দুই-তৃতীয়াংশ এবং পরবর্তী মাসে বাকি এক তৃতীয়াংশ বকেয়া পরিশোধ করতে হবে।

এর আগে বার বার তাগাদা দেয়ার পরেও বকেয়া পরিশোধ না করায় সিটিসেল বন্ধের প্রক্রিয়া শুরুর আগে ৩১ জুলাই এক বিজ্ঞপ্তিতে সিটিসেল গ্রাহকদের বিকল্প সেবা গ্রহণ করতে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয় বিটিআরসি। পরে ১৭ আগস্ট আবারো একই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে কিছুদিন সময় বাড়ানো হয়। তবে দুটি বিজ্ঞপ্তিই ৮ সেপ্টেম্বর উচ্চ আদালত স্থগিত করে দেয়।

সিটিসেলের কাছে বিটিআরসির বকেয়ার মধ্যে টুজি লাইসেন্সের তরঙ্গ বরাদ্দ ও নবায়ন ফি বাবদ পাওনার পরিমাণ ২২৯ কোটি টাকা। রাজস্ব ভাগাভাগি বাবদ ২৭ কোটি ৪৪ লাখ টাকা,বার্ষিক তরঙ্গ ফি বাবদ ২৭ কোটি ১৪ লাখ টাকা, সামাজিক সুরক্ষা তহবিলের ৮ কোটি ৯২ লাখ টাকা, বার্ষিক লাইসেন্স ফি বাবদ ১০ কোটি টাকা, মূল্য সংযোজন কর বাবদ ৩৯ কোটি ৯২ লাখ টাকা এবং বিলম্ব ফি বাবদ ১৩৫ কোটি ৭ লাখ টাকা বকেয়া আছে।

বর্তমানে সিটিসেলের ৫৫ ভাগ শেয়ারে মালিক দেশীয় শিল্পগোষ্ঠী প্যাসিফিক মোটরস ও ফার ইস্ট টেলিকম। এই দুটি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপি নেতা মোর্শেদ খান। বাদবাকি শেয়ারের মালিক সিঙ্গাপুরভিত্তিক টেলিযোগাযোগ সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান সিংটেলের। বকেয়া পরিশোধ করতে না পারায় বেশ কয়েক দেশ ঘুরেও কোন বিনিয়োগকারীর সন্ধান করতে পারেনি সিটিসেল।

১৯৮৯ সালে মোবাইল সেবার জন্য লাইসেন্স পায় সিটিসেল। ১৯৯৩ সালে যখন প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরু করে তখন শুধু বাংলাদেশ নয় এই উপমহাদেশেই সিটিসেল ছিল প্রথম মোবাইল সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান। প্রতিযোগিতার টিকতে না পেরে সিটিসেলের গ্রাহক সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমে যায়। ২০১২ সালে ১৬ লাখ ৯৯ হাজার গ্রাহক থাকলেও ২০১৬ সালের জুনে তা কমে দাঁড়ায় ৭ লাখ ২ হাজারে।

Share this post

scroll to top