এখন সহকারি সরকারি কোঁসুলি মানেই দলীয় আইনজীবী : প্রধান বিচারপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেছেন, দেশে সহকারি সরকারি কৌঁসুলি হিসেবে প্রখ্যাত ও অভিজ্ঞ আইনজীবীদের বদলে নিয়োগ পাচ্ছেন সরকার দলীয় আইনজীবীরা। তাতে অনেক সময় বিচারপ্রার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে তিনি মনে করেন।

প্রধান বিচারপতি বলেন, আগের রীতিনীতি সব পাল্টে গেছে। এখন সহকারি সরকারি কৌঁসুলি মানেই সরকারি দলের তালিকভুক্ত কোনো আইনজীবী। তার অভিজ্ঞতা থাকুক বা নাই থাকুক, দল করার পুরস্কার হিসেবে তিনিই নিয়োগ পান। এর বাইরে কোনো নিয়োগ নেই।

শনিবার লিগ্যাল এইড কমিটি ও মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি এসব কথা বলেন। লিগ্যাল এইড কমিটি দেশের অসহায়, অসচ্ছল ও সুবিধাবঞ্চিতদের সরকারি অর্থে আইনি সহায়তা দিয়ে থাকে।

লিগ্যাল এইড কমিটির কার্যক্রম সম্পর্কে প্রধান বিচারপতি বলেন, সাধারণত দেখা যায়, কোনো মামলায় এই কমিটির অনভিজ্ঞ প্যানেল আইনজীবীদের বিরুদ্ধে লড়াই করেন দক্ষ ও অভিজ্ঞ আইনজীবীরা। তাতে বিচারিক ভারসাম্য থাকে না। এর ফলে সরকারি তহবিল থেকে টাকা ঠিকই খরচ হচ্ছে, কিন্তু অসহায় দরিদ্র মানুষ বিচার পাচ্ছে না।

এই সমস্যার সমাধান না হলে লিগ্যাল এইড কমিটির উদ্দেশ্য সফল হবে না বলে মনে করেন তিনি। এজন্য তিনি কমিটির প্যানেল আইনজীবীদের প্রশিক্ষণ দেয়ার তাগিদ দিয়েছেন। প্রধান বিচারপতি ব্যক্তিগতভাবে একটি তহবিল গঠন করার কথাও জানিয়েছেন। তিনি বলেন, যেসব মামলায় প্রথিতযশা আইনজীবীরা প্রতিপক্ষের হয়ে কাজ করবেন, সেসব মামলায় তাদের বিপরীতে কাজ করার জন্য প্রখ্যাত আইনজীবী নিয়োগে এই তহবিল থেকে অর্থ দেয়া হবে।

তিনি বলেন, আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান। প্রত্যেকেই আইনের আশ্রয় সমানভাবে পাওয়ার অধিকারী। কিন্তু স্বাধীনতার চার দশক পরেও প্রশ্ন আসছে, এ কথার যথাযথ বাস্তবায়ন দেশে আদৌ কী হয়েছে? তিনি মনে করেন, এক্ষেত্রে দেশ ব্যর্থ হয়েছে।

অনুষ্ঠানে তিনি গাজীপুরের কিশোর ও কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্র পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা সবাইকে জানান। বলেন, ওই কেন্দ্রে শুধু দরিদ্র পরিবারের সন্তানরাই নেই, অনেক উচ্চবিত্ত পরিবারের ছেলেমেয়েদেরও আসতে হয়েছে। এদের প্রত্যেকেই ষড়যন্ত্রের শিকার। তিনি মনে করেন, সেখানে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাও একটু বাড়াবাড়ি করছে। শিশু-কিশোররা আইনের সঠিক প্রয়োগ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে। প্রধান বিচারপতি জানান, সেখানে যেসব এসএসি পরীক্ষার্থী আছে, তাদের জামিনের ব্যবস্থা করার কথা তিনি বলে এসেছেন।

scroll to top