বিএনপির মুখে রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আনার কথা বেমানান : ওবায়দুল কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক : আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বাংলাদেশে যারা জঙ্গিবাদের বিস্তার ঘটিয়েছে, যারা সাম্প্রদায়িক শক্তির পৃষ্ঠপোষকতা করেছে তারা কথার সুর পাল্টেছে। তাদের মুখে রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আনার কথা ‘ভূতের মুখে রামনাম’ ছাড়া আর কিছু নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আজ (সোমবার) বিকেলে রাজধানীর প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠানে ওবায়দুল কাদের এ মন্তব্য করেন। তিনি বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, তারাই বেশি নীতিকথা বলেন, যারা বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত। এ দেশে যারা নষ্ট রাজনীতি করেছেন বা রাজনীতিকে নষ্ট করেছেন, তারা এখন তাতে গুণগত পরিবর্তনের কথা বলছে। বিএনপির মুখে এটা মানায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপির প্রতিহিংসার রাজনীতির কারণে শিক্ষক, গাড়িচালক, শিক্ষার্থীসহ বহু সাধারণ মানুষ জীবন হারিয়েছেন। জ্বালাও-পোড়াও শেষ করে তারা এখন রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আনতে চায়।

১৮ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় আওয়ামী লীগের নাগরিক সমাবেশ বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, এটি কোনো পাল্টাপাল্টি সমাবেশ নঢ। এ বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রসঙ্গে টেনে সাংবাদিকদের সঠিক তথ্য উপস্থাপনের আহবান জানান মন্ত্রী।

আওয়ামী লীগ কোনো বিভাজনের রাজনীতি করছে না উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, যা ছিল বাঙালির প্রামাণ্য দলিল, তা আজকে বিশ্ব ঐতিহ্য। এটা নিয়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করার প্রশ্নই ওঠে না। বিএনপির সমাবেশের তারিখ ঘোষণার আগেই বঙ্গবন্ধুর সম্মানে এই সমাবেশের ঘোষণা দেয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সুবিধাগুলো দেখতে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর প্রতি আহবান জানান ওবায়দুল কাদের। তথ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের সুবিধাগুলো মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করতে হবে। তাদের সঙ্গে বসে আলোচনা করে বিদ্যমান সমস্যার সমাধান করতে হবে। সাংবাদিকদের ওয়েজ বোর্ডের বিষয়টির যুক্তিসংগত সমাধান করার তাগিদ দেন মন্ত্রী।

ওবায়দুল কাদের বলেন, এখন সাংবাদিকেরা যা পান, তাতে স্বাভাবিকভাবেই সংসার চলে না। তাদের পড়াশোনা করার জন্য মানসিক স্বস্তি প্রয়োজন। সংসারের প্রয়োজন মেটানোর চিন্তাতেই যদি তাদের অস্থির থাকতে হয়, তাহলে ভালো মানের সাংবাদিকতা কীভাবে করবেন?

অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সমালোচনাও করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, সাংবাদিকেরা এখন এই পেশাটাকে যাচ্ছেতাই অবস্থায় নিয়ে গেছেন। ব্যাঙের ছাতার মতো মিডিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

বেশির ভাগ সাংবাদিকেরা এখন কপি-পেস্ট করছে অভিযোগ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, সাংবাদিকদের মধ্যে দেখার দৃষ্টি দিয়ে লেখার চর্চার অভাব আছে। একজন একটি প্রতিবেদন লেখেন। তার কাছ থেকে ঘটনার সারমর্ম শুনে নিয়ে আরেকজন লিখেন। ইদানিং দেখা যাচ্ছে অনেক সাংবাদিক হয়তো কোনো অনুষ্ঠান বা ঘটনাস্থলে না যেয়ে অন্যের কাছ থেকে শুধুমাত্র তথ্য সংগ্রহ করে প্রতিবেদন তৈরি করছেন। এজন্যে পরের দিন দেখা যায় একই প্রতিবেদন সব পত্রিকায় ছাপা হয়েছে।

scroll to top