অর্থপাচার ও ব্যাংক কেলেঙ্কারি বন্ধে সংস্কার প্রয়োজন : মিট দ্যা প্রেসে পরিকল্পনামন্ত্রী

28171164_10214094871678485_580253219_o.jpg

নিজস্ব প্রতিবেদক: অর্থপাচার ঠেকাতে বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন বলে মনে করেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা। এক্ষেত্রে দেশের ভিতর ব্যবসাকে লাভজনক করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। প্যারাডাইস পেপারসে নতুন করে ২০ বাংলাদেশির নাম ওঠে আসার প্রেক্ষিতে পরিকল্পনামন্ত্রী এসব কথা বলেন। ব্যাংকিং খাতের নাজুক পরিস্থিতির কথা স্বীকার করে, দুর্বল নজরদারিকে দায়ী করেছেন তিনি। সার্বিক অর্থনীতি নিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রণালয়ে আয়োজিত মিট দ্যা প্রেস অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন পরিকল্পনামন্ত্রী মুস্তফা কামাল।

রাষ্ট্রপ্রধান থেকে শুরু করে রাজা-রাণী, বড় বড় ব্যবসায়ী, রূপালী পর্দার তারকা থেকে শুরু করে বিশ্বের স্বনামধন্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের গোপন বিনিয়োগের নথি প্রকাশ করে আসছে সাংবাদিকদের আন্তর্জাতিক কনর্সোটিয়াম আইসিআইজে। পানামা পেপারসের পর গেল বছর প্রকাশিত হয় প্যারাডাইস পেপারস। সেখানে বাংলাদেশিদেরও নাম এসেছে। এবারে ঐ নথিতে নতুন করে আরো ২০ বাংলাদেশির নাম এসেছে। পরিকল্পনামন্ত্রণালয়ে আয়োজিত মিট দ্যা প্রেস অনুষ্ঠানে সাংবাদিকরা এ বিষয়ে জানতে চাইলে জবাব দেন পরিকল্পনামন্ত্রী মুস্তফা কামাল।

হাস্যরসাত্মক জবাবে তিনি বলেন, বিশ্বের রাজারাণীদের নাম এসেছে এখানে, তাহলে প্রজাদের নাম আসতে অসুবিধা কোথায়। কত অর্থ এ পর্যন্ত বিদেশ গেছে তার পরিসংখ্যান না দিলেও তবে কিছু পরিমাণ যে গেছে এ বিষয়ে নিশ্চিত পরিকল্পনামন্ত্রী। অর্থপাচার বন্ধে সংস্কারের ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। বলেছেন, দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য লাভজনক করতে পারলে কোন ব্যবসায়ী বিদেশে অর্থপাচার করবে না। এজন্য প্রয়োজনীয় সংস্কারের অংশ হিসেবে করের হার কমানোর পরামর্শ দিয়েছৈন পরিকল্পনামন্ত্রী।

একদিকে পুঁজি পাচার হয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে দেশের ব্যাংকিং খাতের পরিস্থিতিও নাজুক। একের পর এক ব্যাংক কেলেঙ্কারি আর্থিক খাতকে কার্যত ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। বিশ্বের অনেক দেশেই ব্যাংকিং খাতে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় উল্লেখ করে, তদারকি আরো শক্তিশালী করার পরামর্শ পরিকল্পনামন্ত্রীর। বলেন, কিছুদিন আগে ভারতেও একই ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছিল। কই সেখানেতো কিছু হয়নি? এমন প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, তদারকি ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে ব্যাংকিং খাতে কিছু সমস্যা তৈরি হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ খরা কেটে গেছে। প্রবৃদ্ধির সুফলও জনগণ পাচ্ছে। সাত শতাংশের বেশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মসংস্থানও তৈরি হচ্ছে বলে তিনি জানান। কর্মসংস্থান তৈরির পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, গেল বছর ১৩ লাখ মানুষ কাজ পেয়েছে। ১৪ লাখ মানুষ অবৈতনিক থেকে মজুরি পাওয়া শুরু করেছে। আর ১০ লাখে বেশি মানুষ চাকুরি নিয়ে বিদেশ গিয়েছে।

এসময় মন্ত্রী জানান, হাওড় এলাকাকে অগ্রাধিকার দিয়ে আগামী অর্থবছরে সামাজিক ভাতা গ্রহিতার সংখ্যা ৬৭ লাখ থেকে ১ কোটিতে উন্নীত করা হবে। দারিদ্রের হার কমে আসায় অর্থনীতিতে নির্ভরশীলতার হার এখন কমে এসেছে। আশির দশকে নির্ভরশীলত হার ৮০ শতাংশ হলেও বর্তমানে তা ৫৪ শতাংশ নেমে এসেছে বলে জানান পরিকল্পনামন্ত্রী। এসময় তিনি জানান, আসছে মার্চেই স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হতে জাতিসংঘের কাছে আবেদন করবে বাংলাদেশ।

স্বল্পন্নোত দেশের তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় উন্নীত হতে মাথাপিছু আয়, মানব উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচকের যেকোন দুটিতে নির্ধারিত পয়েন্টের বেশি পেতে হয়। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ তিনটি সূচকই অর্জন করতে পেরেছে বলে জানান পরিকল্পনামন্ত্রী। জাতিসংঘের হিসেবে মাথাপিছু আয় ১ হাজার ২৩০ ডলার হতে হয়, এক্ষেত্রে বাংলাদেশের আছে ১ হাজার ২৭১ ডলার। মানব উন্নয়ন সূচক ৬৬ বা তার বেশি হতে হয়, বাংলাদেশের অর্জন ৭২। আর অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচক ৩২ বা তার কম হতে হলেও বাংলাদেশের আছে ২৪.৮ পয়েন্ট।

Share this post

scroll to top