পাঁচ মাস ধরে বাংলাদেশ ব্যাংকে নেই দুই ডেপুটি গভর্নর

শুভ্র হাসান : দীর্ঘ পাঁচ মাস শূন্য পড়ে আছে আর্থিক খাতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নরের দুটি পদ। এজন্য দায়িত্ব পালনরত বাকি দুই ডেপুটি গভর্নরকে নিতে হচ্ছে দ্বিগুন কাজের চাপ। পদ দুটিতে দ্রুত যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ দেয়ার তাগিদ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, দীর্ঘ সময় গুরুত্বপূর্ণ এই দুটি পদ খালি থাকলে সিদ্ধান্ত গ্রহণে অহেতুক কালক্ষেপন হবে এবং তার প্রভাব প্রভাব পড়বে আর্থিক খাতসহ দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে।

ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি হলেও মানুষ তা জানতে পারে মার্চের প্রথম সপ্তাহে। এর দায় নিয়ে মার্চের ১৫ তারিখ পদত্যাগ করেন তৎকালীন গভর্নর ড. আতিউর রহমান। ওই দিনই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দু ডেপুটি গভর্নর আবুল কাশেম ও নাজনীন সুলতানাকেও সরিয়ে দেয়া হয়। এরপর পেরিয়ে গেছে পাঁচ মাস। এখনো শূন্য পদে কাউকে নিয়োগ দিতে পারেনি অর্থমন্ত্রণালয়। ডেপুটি গভর্নরের নিয়োগের জন্য মার্চেই পিকেএসএফ-এর চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জামানকে প্রধান করে একটি সার্চ কমিটিও গঠন করে অর্থমন্ত্রণালয়।

এই কমিটি যেসব প্রার্থীদের নিয়োগের সুপারিশ করেছিল, তাদের ব্যাপারে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর অভিযোগ থাকায় শেষ পর্যন্ত সুপারিশ কার্যকর হয়নি। তাদের নিয়োগও দেয়া হয়নি। তাতে পিছিয়ে যায় ডেপুটি গভর্নর নিয়োগ প্রক্রিয়া। মার্চের ১৫ তারিখের হিসেবে আগস্টের ১৪ তারিখ পর্যন্ত পার হয়েছে পুরো পাঁচ মাস।

আগে দুজন ডেপুটি গভর্নর থাকলেও গত পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ ব্যাংকে ডেপুটি গভর্নরের সংখ্যা চারজনে উন্নীত করা হয়। গড়ে ১১টি করে বাংলাদেশ ব্যাংকের মোট ৪৪টি বিভাগের দায়িত্ব পালন করে থাকেন তারা। দুটি পদ শূন্য থাকায় বর্তমানে দায়িত্ব পালন করা দুই ডেপুটি গভর্নরের প্রতিজনকে ২২টি করে বিভাগের কাজ চালাতে হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নিউজ এন্ড নাম্বারসকে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা জানান, দুজন ডেপুটি গভর্নর না থাকলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দৈনন্দিন কাজে কোন ব্যাঘাত ঘটছে না। যে দুজন ডেপুটি গভর্নর দায়িত্ব পালন করছেন, তারা নির্ধারিত সময়ের বাইরেও কাজ করে বাকি দু জনের শূন্যতা পুষিয়ে দিচ্ছেন। তবে দীর্ঘ সময় পদ দুটি ফাঁকা থাকা উচিত নয় বলে মনে করে বাংলাদেশ ব্যাংক। যত দ্রুত সম্ভব পদ দুটি পূরণ করা উচিত বলে জানিয়েছেন শুভঙ্কর সাহা। বর্তমানে এস কে সুর চৌধুরী ও রাজি হাসান ডেপুটি গভর্নরের দায়িত্বে আছেন।

দীর্ঘ দিন ধরে ডেপুটি গর্ভনের শূন্য থাকা প্রসঙ্গে সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, অর্থপাচার, জঙ্গি অর্থায়নের মত স্পর্শকাতর বিষয় যুক্ত হওয়ায় ডেপুটি গভর্নরদের দায়িত্ব আগের চেয়ে অনেক বেড়ে গেছে। তিনি জানান, তার সময়ে দায়িত্ব বেড়ে যাওয়ায় তিন জনের পরিবর্তে ডেপুটি গভর্নরের সংখ্যা বাড়িয়ে চার জন করা হয়েছিল। তখনই কাজের চাপ সামাল দেয়া যেত না উল্লেখ করে সালেহউদ্দিন বলেন, এখনতো কাজ করছেন মাত্র দুজন। কিভাবে তারা কাজের চাপ সামাল দিচ্ছেন, এটা ভেবে তিনি বিস্মিত হচ্ছেন।

তিনি বলেন, কাজের চাপ বাড়াবাড়ি রকম বেড়ে গেলে সময় মতো সব সিদ্ধান্ত নেয়া যায় না। সবগুলো বিষয়ে সঠিক  মনোযোগ দেয়াও সম্ভব হয় না। সবচেয়ে বড় কথা, গভর্নর তার চার ডেপুটিকে নিয়ে টিম ওয়ার্ক করে থাকেন। এই ৫ জন একসঙ্গে কাজ করলে সময়োপযোগী ও কার্যকর সিদ্ধান্ত নেয়া সহজ হয়। কাজের মানও ভালো হয়। দীর্ঘ সময় ধরে ডেপুটি গভর্নরের পদ শূন্য থাকলে আর্থিক খাতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশংকা আছে বলে তিনি মনে করেন। তাতে সার্বিক অর্থনীতিই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

scroll to top