নতুন ব্যাংকগুলো দুর্দশার জন্য দায়ী পরিচালনা পর্ষদ : বিআইবিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক : ব্যাংকিং খাতে প্রতিযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে ২০১২ সালে নতুন ৯টি ব্যাংকের অনুমোদন দিলেও সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। লোকবল নিয়োগ থেকে শুরু করে সীমা লঙ্ঘন করে ঋণ দেয়ার মত অনিয়মের কারণে বেড়েছে খেলাপি ঋণ। এসব অনিয়মের জন্য প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দায়ী ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ। ব্যাংক খাতের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে গেল বছরের গবেষণা প্রতিবেদনগুলোর বার্ষিক পর্যালোচনায় একথা বলেছে বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অফ ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট, বিআইবিএম।

ব্যাংক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশিক্ষণ দেয়ার পাশাপাশি গবেষণা করে থাকে বিআইবিএম। গেল বছর ব্যাংক সংশ্লিষ্ট ১৯টি ইস্যুতে গবেষণা পরিচালনা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে নতুন ব্যাংকগুলোর দক্ষতা নিয়ে করা গবেষণাপত্রটি ছিল উল্লেখযোগ্য। এতে বলা হয়, আমানত সংগ্রহে এসব ব্যাংক যেমন অসুস্থ প্রতিযোগিতায় নেমেছিল, তেমনি ঋণ-আমানত সীমা অতিক্রম করে আগ্রাসী ঋণ দেয়ায় হুহু করে বেড়েছে খেলাপি ঋণও।

ব্যাংকগুলোতে ব্যবহার করা সফটওয়্যার নিয়ে এক গবেষণায় বলা হয়, ৭০ শতাংশ ব্যাংক নিজেদের তৈরি সফটওয়্যারে স্বস্তিবোধ করে। ব্যাংকগুলোর জন্য দেশে একক কোন সফটওয়্যার না থাকাকে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করা হয়।

সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে যুক্ত থাকার কারণে সরকারি ব্যাংকগুলোর দক্ষতা কমে যাচ্ছে কীনা- এমন গবেষণায় বলা হয়, রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকের মূল সমস্যা সুশাসনের ঘাটতি। এই ঘাটতি দূর করতে পারলেই সরকারি ব্যাংকগুলো সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে যুক্ত থেকেও ভালো মুনাফা অর্জন করতে পারবে।

ব্যাংক একীভূতকরণ নিয়ে গবেষণায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার বাড়ার সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে ব্যাংকের সংখ্যা। তবে অধিকাংশ ব্যাংকার মনে করেন, দেশে এত ব্যাংকের প্রয়োজন নেই। তাদের অভিমত, সরকারি হস্তক্ষেপে দুর্বল ব্যাংকগুলোকে একীভূত করা উচিত। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ব্যাংকিং খাতের জন্য হুমকি হতে পারে কীনা এমন বিষয় নিয়েও হয়েছে গবেষণা। এ বিষয়ে ব্যাংকের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বা নীতি নির্ধারণী পর্যায় থেকে এখনো কোনো চিন্তাভাবনা শুরু হয়নি বলে জানানো হয়।

সম্মেলনের প্রধান অতিথি অর্থসচিব মুসলিম চৌধুরী বলেন, বিআইবিএমের গবেষণা ব্যাংকিং খাতকে আরো এগিয়ে নিয়ে যেতে সহয়তা করার পাশাপাশি এ খাতের নতুন সম্ভাবনা ও সমস্যা চিহ্নিত করতে সহায়তা করবে।

print