আজই মেসির শেষ?

স্পোর্টস ডেস্ক: কঠিন সমীকরণের সামনে দাঁড়িয়ে আর্জেন্টিনা। নাইজেরিয়ার বিপক্ষে আজকের ম্যাচে জিতলেও তাকিয়ে থাকতে হবে ক্রোয়েশিয়ার দিকে। নিজের শেষ বিশ্বকাপ দেশকে টিকিয়ে রাখতে পারবেন লিওনেল মেসি?

সমীকরণটা জটিল:

গ্রুপ ডি-এর সমীকরণটাই বোধহয় এখনো সবচেয়ে অনিশ্চিত। আজকের দুটি ম্যাচের ফলাফলই নির্ধারণ করে দিবে মেসিদের ভাগ্য।

ক্রোয়েশিয়া: গোল পার্থক্যে অনেক এগিয়ে থাকায় আইসল্যান্ডের কাছে হারলেও আগেই শেষ ষোলো নিশ্চিত করা ক্রোয়েশিয়ার গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়া প্রায় নিশ্চিত।

নাইজেরিয়া: আর্জেন্টিনার বিপক্ষে জিতলেই শেষ ষোলো নিশ্চিত নাইজেরিয়ার। ড্র করলেও চলবে যদি আইসল্যান্ড জিততে না পারে অথবা জিতলেও গোল ব্যবধান বা মোট গোলে এগিয়ে থাকতে না পারে।

উদাহরণ হিসেবে, ১. নাইজেরিয়া গোলশূন্য ড্র করলে আর আইসল্যান্ড ১-০ গোলে জিতলে দুই দলের পয়েন্ট হবে সমান কিন্তু গোল পার্থক্যে এগিয়ে থাকবে নাইজেরিয়া। ২. নাইজেরিয়া গোলশূন্য ড্র করলে আর আইসল্যান্ড ২-০ গোলে জিতলে দুই দলের পয়েন্ট হবে সমান, গোল পার্থক্যও হবে সমান; কিন্তু বেশি গোল করার সুবাদে শেষ ষোলোতে উঠবে আইসল্যান্ড। ৩. নাইজেরিয়া ১-১ গোলে ড্র করলে আর আইসল্যান্ড ২-০ গোলে জিতলে দুই দলের পয়েন্ট হবে সমান, গোল পার্থক্যও হবে সমান এমনকি গোল সংখ্যাও হবে সমান। তখন দেখা হবে দুই দলের মধ্যে ম্যাচের পয়েন্ট। ওই ম্যাচে নাইজেরিয়া জেতায় শেষ ষোলোতে উঠবে সুপার ঈগলরাই।

আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার জয় ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। জিতলেও নির্ভর করতে হবে ক্রোয়েশিয়া-আইসল্যান্ড ম্যাচের ওপর। আইসল্যান্ড হারলে বা ড্র করলে আর্জেন্টিনা জিতলে উঠে যাবে শেষ ষোলোতে। দুই দলই সমান ব্যবধানে জিতলে গোল পার্থক্যে এগিয়ে থেকে আর্জেন্টিনাকে পেছনে ফেলে শেষ ষোলোতে উঠবে আইসল্যান্ড। তাই আইসল্যান্ড জিতলে আর্জেন্টিনাকে এমন ব্যবধানে জিততে হবে যেন পয়েন্ট সমান হওয়ার পর গোল পার্থক্য বা মোট গোলে আইসল্যান্ডকে পেছনে ফেলা যায়।

উদাহরণ হিসেবে, ১. আইসল্যান্ড ১-০ গোলে ও আর্জেন্টিনা ২-০ গোলে জিতলে দুই দলের পয়েন্ট ও গোল পার্থক্য সমান হবে কিন্তু বেশি গোল করার সুবাদে এগিয়ে যাবে আর্জেন্টিনা। ২. আইসল্যান্ড ২-১ গোলে আর আর্জেন্টিনা ২-০ গোলে জিতলে দুই দলের পয়েন্ট, গোল পার্থক্য, মোট গোল সব হবে সমান। তখন দেখা হবে আর্জেন্টিনা-আইসল্যান্ড ম্যাচের ফল যেটাও সমান (১-১ গোলে ড্র)। তখন ডিসিপ্লিনারি রেকর্ড যে দলের ভালো সেটি উঠবে শেষ ষোলোতে। ৩. আইসল্যান্ড ৩-২ গোলে আর আর্জেন্টিনা ২-০ গোলে জিতলে দুই দলের পয়েন্ট আর গোল পার্থক্য হবে সমান কিন্তু বেশি গোল করার সুবাদে নকআউট পর্বে যাবে আইসল্যান্ড। তাই আইসল্যান্ড জিতলে তাদের জয়ের ব্যবধানের চেয়ে কমপক্ষে ১ গোলের বেশি ব্যবধানে জিতলেই হবে না আর্জেন্টিনার, এগিয়ে থাকতে হবে মোট গোলেও।

আইসল্যান্ড: আইসল্যান্ডের পরের ধাপে উঠতে জয় ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। এরপরও নকআউট পর্বে যাওয়া নির্ভর করবে অন্য ম্যাচের ফলের উপর। নাইজেরিয়া যদি জিতে তবে আইসল্যান্ড জিতলেও বাদ পড়বে। আর নাইজেরিয়া-আর্জেন্টিনা ম্যাচ ড্র হলে আইসল্যান্ডকে কমপক্ষে ২ গোলের ব্যবধানে জিততে হবে এবং দেখতে হবে  মোট গোল যেন নাইজেরিয়ার চেয়ে বেশি হয়।

উদাহরণ হিসেবে ১. নাইজেরিয়া গোলশূন্য ড্র করলে আর আইসল্যান্ড ২-০ গোলে জিতলে দুই দলের পয়েন্ট আর গোল ব্যবধান হবে সমান, তবে মোট গোলে এগিয়ে থেকে এগিয়ে যাবে আইসল্যান্ড। ২. নাইজেরিয়া ১-১ গোলে ড্র করলে আর আইসল্যান্ড ২-০ গোলে জিতলে দুই দলের পয়েন্ট, গোল পার্থক্য ও মোট গোলও হবে সমান। তখন দেখা হবে দুই দলের মধ্যে ম্যাচের পয়েন্ট যাতে এগিয়ে থাকায় নাইজেরিয়া হবে ক্রোয়েশিয়ার সঙ্গী। তাই নাইজেরিয়া ড্র করলে শুধু ২ গোলের ব্যবধানে আইসল্যান্ডের জিতলেই হবে না, এগিয়ে থাকতে হবে মোট গোলেও। আর আর্জেন্টিনা জিতে গেলেও আইসল্যান্ডের সম্ভাবনা থাকবে যদি গোল পার্থক্য বা মোট গোলে মেসিরা তাদের চেয়ে এগিয়ে না যায়।

আইসল্যান্ড জিতলে আর্জেন্টিনার জন্য প্রয়োজনীয় নূন্যতম স্কোর:

১. আইসল্যান্ড ১-০ গোলে জিতলে আর্জেন্টিনার লাগবে ২-০ বা ৩-১ বা ৪-২ গোলে জয়।

২. আইসল্যান্ড ২-১ গোলে জিতলে, আর্জেন্টিনা ২-০ তে জিতলে দেখা হবে ডিসিপ্লিনারি রেকর্ড, ৩-১ গোলে বা ৩-০ বা ৪-২ গোলে জিতলে যাবে শেষ ষোলোতে।

৩. আইসল্যান্ড ৩-২ গোলে জিতলে, আর্জেন্টিনা ৩-১ গোলে জিতলে দেখা হবে ডিসিপ্লিনারি রেকর্ড, ৩-০ বা ৪-২ গোলে জিতলে যাবে শেষ ষোলোতে।

৪. আইসল্যান্ড ২-০ গোলে জিতলে, আর্জেন্টিনার লাগবে ৩-০ বা ৪-১ গোল ব্যবধানে জয়।

 

ঘুরে দাঁড়িয়েছে আর্জেন্টিনা? :

‘ডি’ গ্রুপে আইসল্যান্ডের সঙ্গে ১-১ ড্র দিয়ে শুরু করা আর্জেন্টিনা নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার কাছে ৩-০ গোলে উড়ে যায়। দুই ম্যাচে মাত্র এক পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে থাকায় ২০০২ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর আগেই বিদায়ের শঙ্কায় রয়েছে হোর্হে সাম্পাওলির দল।

দলের সবচেয়ে বড় তারকা ৩১ বছর বয়সী মেসি এখনও টুর্নামেন্টে কোনো গোল করতে বা করাতে পারেননি। প্রথম ম্যাচে পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

তবে মেসির ব্যর্থতাকে মানবীয় বলেই মনে করেন মাসচেরানো। সংবাদ সম্মেলনে এই মিডফিল্ডার বলেন, “লিও ভালো আছে, কিন্তু দলীয়ভাবে বিষয়গুলো আমাদের পছন্দমতো হচ্ছে না। আমাদের প্রত্যেকের নিজস্ব হতাশা আছে।”

“সে একজন মানুষ এবং তার নিজস্ব হতাশা আছে। কিন্তু পরিস্থিতি পাল্টাতে সে মরিয়া। প্রথম দুই ম্যাচে আমরা যা দেখিয়েছি তার চেয়ে একটা ভিন্ন চিত্র সে বিশ্বকে দেখাতে চায়।”

ক্রোয়েশিয়ার কাছে ৩-০ গোলে হারের পর কোচ সাম্পাওলির সঙ্গে খেলোয়াড়দের দ্বন্দ্বের গুঞ্জন ওঠে। ম্যাচ শেষে এক প্রতিক্রিয়ায় সাম্পাওলি জানিয়েছিলেন তার কৌশলের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারেনি খেলোয়াড়রা। তার এমন মন্তব্যে সংবাদ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ফরোয়ার্ড সের্হিও আগুয়েরো। এতে গুঞ্জন আরও জোরালো হয়।

তবে সংবাদ সম্মেলনে এমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দিলেন মাসচেরানো। ৩৪ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার বলেন, “কোচের সঙ্গে সম্পর্ক পুরোপুরিই স্বাভাবিক। অবশ্যই, যদি কোনো কিছু নিয়ে অস্বস্তি বোধ করি আমরা তাকে জানাই। এটা যেসব খেলোয়াড় বেঞ্চে থাকে এবং যারা মাঠে থাকে সবাই করে।”

এই রকম (সংবাদ সম্মেলনের মতো) একটা সভায়, ফুটবল নিয়ে এবং কিভাবে আমাদের খেলার সমস্যা সমাধানের একটা উপায় বের করা যায় তা নিয়ে আমরা কথা বলি।”

“অবশ্যই মাঠে আমরা খেলোয়াড় হিসেবে কেমন বোধ করি তা নিযে কথা হয়। কারণ যে কোনো মুহূর্তে, যে কোনো পর্যায়ে ও যে কোনো অবস্থায় আমরাই সিদ্ধান্ত নেই।”

আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে আটজন কোচের অধীনে খেলার অভিজ্ঞতা থেকে মাসচেরানো আরও বলেন, “আমরা জানি যদি আমরা সব কিছু ঠিক করি, আমরা সবাই এর থেকে উপকৃত হব। আর যদি সব কিছু খারাপ দিকে যায়, আমরা সবাই তার জন্য ভুগবো।”

“আমরা জানি পরিস্থিতিটা জটিল। আমাদের মতামত প্রকাশে এবং দল যাতে সব চেয়ে ভালো অবস্থায় মাঠে নামে সেজন্য সম্ভাব্য সব কিছু করতে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”

 

প্রস্তুত নাইজেরিয়াও:

আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে আইডোয়ু মেসির সঙ্গে জার্সি বদলের ইচ্ছা জানালেও বিশ্বকাপ মেসির ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ খেলা নিয়ে প্রশ্নে তাকে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় করে দেওয়ার লক্ষ্যের কথা বলেন।

“এটা তার বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচ করে দেওয়াই হবে আমাদের প্রধান লক্ষ্য। আমরা মেসিকে  খেলতে দেখতে ভালোবাসি। কিন্তু সে আমাদের বিপক্ষে খেলবে। তাই আমাদের সামনে একটাই পথ।”

“অবশ্যই তার সঙ্গে জার্সি বদল করতে আমার ভালো লাগবে। আর্জেন্টিনা দলে আরও অনেক খেলোয়াড় আছে যাদের সঙ্গে জার্সি বদল করতে ভালো লাগবে আমার।”

আইডোয়ুর হুঙ্কার মেসিকে ভালো খেলার জন্য বাড়তি অনুপ্রাণিত করতে পারে বলে মনে করেন না গেরনট রোয়া। নিজেদের খেলার প্রতিই গুরুত্ব দিচ্ছেন নাইজেরিয়ার কোচ।

“না, আমি ওটা নিয়ে ভাবিনি। আমরা আমাদের খেলায় দৃষ্টি দিচ্ছি।”

সবাই মেসিকে ভালোবাসে; ব্যক্তিগতভাবে আমি এবং আমার দলের সবাই তাকে ভালোবাসি। কিন্তু এটা তার শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ কি-না সেটা আমাদের বিবেচ্য নয়। নকআউট পর্বে ওঠা বিবেচ্য আমাদের জন্য।”

“আমরা এখানে তাকে খেলতে দেখতে আসিনি। একটা ফল পেতে এসেছি। আমরা পেশাদার এবং আমরা অবশ্যই নাইজেরিয়ার জার্সির মান রক্ষা করব।”

“ফুটবলে কোনো দয়া-মায়া নেই। এমনকি যদি আপনি খেলোয়াড়টিকে পছন্দ করেন, তাহলেও আপনি তাকে অবশ্যই কোনো উপহার দিবেন না। সে (মেসি) আইসল্যান্ডের বিপক্ষে ভালো করেছিল কিন্তু ওই পেনাল্টি নিয়ে সে দুর্ভাগা, খুবই দুর্ভাগা ছিল। আমি মনে করি, তার ফিটনেস ভালো আছে এবং তাকে নিয়ে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।”

সূত্র: বিডিনিউজ২৪.কম

print