জাত চেনালেন নেইমার

রাহিন ফাইয়াজ: গত তিনটি ম্যাচে নেইমারের পারফর্মেন্স যেন ব্রাজিলের সমর্থকদের মাঝেই ঝামেলা লাগিয়ে দিচ্ছিল। সমর্থকদের একটি অংশ, খুব জোর গলায় নেইমারকেই সমর্থন জানিয়ে যাচ্ছে। আরেকটি অংশ তার অভিনয় এবং স্বরূপে না ফেরার অভিযোগে মত্ত। আজকের ম্যাচের পর এই বিভেদ আর থাকার কথা না। আজ স্বরূপেই দেখা গেছে নেইমারকে। ব্রাজিলের নান্দনিক ফুটবলে নেঁচেছে । মেক্সিকোকে ২-০ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালেও উঠে গেছে তারা।

ব্রাজিলের দুটি গোলেই আছে নেইমারের অবদান। দারুণভাবে গড়ে উঠে প্রথম গোলটির আক্রমণ। অবশ্য তাতে নেইমারেরই অবদান বেশি। ৫১ মিনিটে ডি বক্সের সামনে বেশ কিছুক্ষণ ড্রিবল করলেন, কিন্তু কিছুতেই যেন মেক্সিকোর রক্ষণ চিড়তে পারলেন না। তারপর হঠাতই ব্যাকপাসে উইলিয়ানের কাছে বল ছুড়ে দিলেন। তাতে লাভও হলো। নেইমারকে আটকাতে তখন ব্যস্ত সব মেক্সিকান ডিফেন্ডার। তাই ফাঁকা মাঠ পেয়ে গেলেন উইলিয়ান। ড্রিবল করে ঢুকে পড়লেন বক্সে। তার বানিয়ে দেয়া পাসেই শেষ পর্যন্ত নেইমারের ট্যাপ ইন। এবং তাতে গোলের খাতা খুলে ব্রাজিল।

৮৮ মিনিটে প্রায় একই ধরনের আরেকটি গোল। এবারও আক্রমণ গড়ে ওঠে নেইমারের পায়েই। শুধু এবার উইলিয়ানের জায়গাটি নেন তিনি। একটু আগেই মাঠে নামা রবার্তো ফিরমিনোর আলতো ছোঁয়ায় বল জড়িয়ে যায় জালে। এই দুই গোলেই জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ব্রাজিল।

দ্বিতীয় রাউন্ডে প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই নাটকীয়তা উপহার দিয়েছে। আজকের ম্যাচটি প্রায় নাটকীয়তা ছাড়াই শেষ হলো। শেষ পর্যন্ত ব্রাজিলের সাথে পেরে উঠেনি। কিন্তু ভালো খেলেছে মেক্সিকোও। সেলেকাওদের থেকে বেশিই বল ধরে রেখেছে তারা। জমাট রক্ষণ ছিল বলেই প্রথম গোল করতে ৫১ মিনিট অপেক্ষা করতে হয়েছে ব্রাজিলের।

তবে প্রথম ২৫ মিনিটের দৃশ্যপট ছিল ভিন্ন। মাঠে নিয়ন্ত্রণ ছিল মেক্সিকোরই। একের পর এক আক্রমণ। ব্রাজিলের দারুণ রক্ষণকেও হিমশিম খেতে হচ্ছিল। মনে হচ্ছিল, আরেকটি দুর্ঘটনাই হয়তো ঘটতে যাচ্ছে চমকের এই বিশ্বকাপে। কিন্তু ২৫ মিনিট পরেই নেইমাররা নিজস্ব রূপে ফিরলেন। ছন্নছাড়ার মতো ঘুরতে থাকা উইলিয়ানও মন দিলেন আক্রমণে এবং বল বানিয়ে দেয়াতে। জেসুসও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। সব মিলিয়ে ব্রাজিলের গোল শুধু সময়ের ব্যবধানই মনে হচ্ছিল।

কুতিনহো অবশ্য নিজেকে হারিয়েই খুঁজেছেন। কোনো সম্ভাবনাময় আক্রমণে দেখা যায় নি তাকে। বল পায়ে পেয়ে বারবারই হারিয়ে ফেলেছেন। গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোতে দারুণ খেলা এই প্লেমেকার আজো ভালো খেললে হয়তো আরো ভয়ংকর রূপে দেখা যেত ব্রাজিলকে।

গোলসংখ্যা আরো বাড়েনি আরেকটি কারণে। তিনি মেক্সিকান গোলকিপার ওচোয়া। নিশ্চিত গোল কয়েকটি শট ঠেকিয়ে দিয়েছেন তিনি। মেক্সিকো কোনো রূপকথা লেখা ফেলতে পারলে হয়তো ম্যান অব দ্যা ম্যাচের পুরস্কারটা তিনিই পেতেন।

print