পাকিস্তানের দোষেই চালকের আসনে ইংল্যান্ড

স্পোর্টস রিপোর্টার: একসময় ক্রিকেটে ফাস্ট বোলারদের প্রবল দাপট ছিল। ডেনিস লিলি, ইমরান খানদের মতো বোলাররা সুইং এবং পেসের ঘোরপ্যাচে হাটু কাঁপাতেন ব্যাটসম্যানদের। সেখানে লিলির যুগের ফাস্ট বোলারদের নৈপুন্য তো ছিলই, তার সাথে ছিল বলে সুইং খেলানোর মতো উইকেটও। কাল হেডিংলের উইকেট যেন ফিরে গিয়েছিল সেই পুরনো দিনে। আর সুইংয়ে উপমহাদেশের ব্যাটসম্যানদের পুরনো দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে পারলেন না পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানরাও। ফলাফল, নিজেদের প্রথম ইনিংসে ১৭৫ রানে অলআউট পাকিস্তান। শেষ বিকেলে ব্যাটিংয়ে নেমে ইংল্যান্ড ২ উইকেট হারিয়ে করেছে ১০৬ রান।

সরফরাজ রহমান পাকিস্তানকে এর আগে যে চার টেস্টে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তার মধ্যে একটিরও টস জিততে পারেননি। গতকাল তিনি টেস্টে তার টস জেতার অভিষেক ঘটালেন। এরপর হেডিংলের মরচে ধরা উইকেটে নিজের দলের উপর চরম বিশ্বাসের প্রদর্শনী করলেন সরফরাজ। ব্যাটিং নিলেন। পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানরা ভালো করলে হয়তো দিনশেষে সরফরাজের এই সিদ্ধান্তেরই পিঠ চাপড়ে দিত সবাই, কিন্তু সেই বাহবা সরফরাজ পেলেন না।

কিন্তু সরফরাজ যে সিদ্ধান্ত ভুল নেননি, তার প্রমাণ দিনশেষে দিচ্ছে ইংল্যান্ডের ব্যাটিং। একই দিনে বিকেলে ব্যাটিং করতে নেমে অ্যালিস্টার কুক এবং কিটন জেনিংস যেখানে ওপেনিংয়েই গড়ে তুলেছেন অর্ধশতক জুটি, সেখানে নিজেদের ইনিংসে ৫০ রান রান করার আগেই ৪ উইকেট নেই পাকিস্তানের। ৭৯ রান হতে হতেই সাজঘরে ফিরে গেলেন আরো তিনজন ব্যাটসম্যান। এরপর তরুণ লেগস্পিনার সাদাব খান মোহম্মদ আমির এবং হাসান আলিকে নিয়ে তুমুল প্রতিরোধ গড়ে তুলে তিন উইকেটে স্কোরবোর্ডে যোগ করেছেন ৯৫ রান, যা এর আগের সাত ব্যাটসম্যানের সম্মিলিত রানের থেকে বেশি। সাদাবের ৫২ বলে ৫৬ রানও ইনিংস সর্বোচ্চ।

তবে এই ধসের কারন খুঁজে বের করতে চাইলে ইংল্যান্ড বোলারদের নৈপুন্যের থেকে পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানদের সুইং খেলার দুর্বলতার গল্প বেশি শোনা যাবে। ইমাম উল হক, সরফরাজ এবং উসমান সালাউদ্দিনের মত টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান সহজ সুইং করা বলে উইকেট হারিয়েছেন। ইংল্যান্ড বোলারদের মধ্যে সুইংয়ের পরিপূর্ণ ব্যবহার করেছেন শুধু স্টুয়ার্ট ব্রড। মাত্রই কাঁধের ইনজুরি থেকে ঠিক হওয়া এই সিমার ১৫ ওভার বল করে নিয়েছেন তিন উইকেট।

ব্রডের মতোই তিন উইকেট নিয়েছেন জেমস অ্যান্ডারসন এবং ক্রিস ওকস। পাকিস্তানের অন্য উইকেটটি নিয়েছেন এই টেস্টেই অভিষিক্ত হওয়া অলরাউন্ডার স্যাম কারেন।

ইংল্যান্ডের দিনটিকে পরিপূর্ণভাবে নিজেদের বলতে পারতো দিন শেষ হওয়ার তিন ওভার আগে অ্যালিস্টার কুক ৪৬ রান সাজঘরে ফিরে না গেলে। ২ উইকেটে ১০৬ রানের পুঁজিতে ক্রিজে এখন আছেন জো রুট।

প্রথম টেস্টে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং ধসের কারনেই শেষ পর্যন্ত লর্ডসে হার মানতে হয় ইংল্যান্ডকে। দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিনেই একই সমীকরণের উল্টো দিকে চলে গেল পাকিস্তান। প্রায় একইরকমভাবে নিজেদের প্রথম ইনিংসে দলের ব্যাটিং অর্ডার ধসে পরার পর পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা প্রার্থনা করতেই পারে, যাতে এটিই তাদের পরাজয়ের কারন না হয়ে দাঁড়ায়।

print