‘পরিস্থিতি আরো ভালোভাবে সামাল দেয়া যেত’

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাখাইনকে রোহিঙ্গাশূণ্য করতে গতবছরের ২৫ আগস্ট থেকে মানবতাবিরোধী অপরাধ শুরু করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। হত্যা, গণহত্যা , ধর্ষণ এবং লাখো রোহিঙ্গাকে বাস্তুচ্যুত করে বাংলাদেশে শরণার্থীর জীবন বেছে নিতে বাধ্য করার পর, দেশটির স্টেট কাউন্সেলর অং সান সুচি বললেন, তার পেছনে ফিরে তাকালে মনে হয়, এই পরিস্থিতি আরো ভালোভাবে সামাল দেয়া যেত।

আজ (বৃহস্পতিবার) ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে সুচি এ কথা বলেছেন। নোবেলজয়ী মিয়ানমারের এই নেত্রী আরো বলেছেন, উদ্ভূত এই পরিস্থিতি এড়াতে কিছু উপায় হয়তো হাতে ছিল। কিন্তু সেসব ঠিকমতো পরিকল্পনা করা হয়নি।

দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে পক্ষপাতহীন হয়ে কাজ করার কথাও বলেন সুচি।

সুচি রয়টার্সের দুই সাংবাদিকের কারাদণ্ড নিয়েও কথা বলেন। তিনি দাবি করেন, এই মামলাটির বাকস্বাধীনতার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই। সাংবাদিক হওয়ার কারণে ওয়া লোন ও কিয়াও সোয়ে ওকে সাজা দেয়া হয়নি। যদিও রয়টার্সসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর দাবি, রোহিঙ্গাদের ওপর পরিচালিত নির্যাতন, গণহত্যার ছবি তোলা এবং সংবাদ প্রকাশ করায় দুই সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করে মিয়ানমার সরকার।

মিয়ানমারের নেত্রী বলেন, তিনি অবাক হয়েছেন, আনেকে হয়তো রায়ের পুরো সারসংক্ষেপ পড়েই দেখেনি। পড়লে বুঝতে পারতেন রায়ের সঙ্গে বাকস্বাধীনতার কোনো সম্পর্ক নেই। সাংবাদিকদের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করারও সুযোগ আছে বলে জানান সুচি। তবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে নোপিদোর আগামি পদক্ষেপ, মিয়ানমারে গণহত্যা হয়েছে দাবি করে জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের প্রতিবেদন এবং এ জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচার এখতিয়ার নিয়ে কোন মন্তব্য করেননি সুচি।

print