প্রত্যাশিত জয়ই পেল রাশিয়া, তবে…

রাহিন ফাইয়াজ: যেখানে খেলা হচ্ছে, সেই মস্কোর লুজনিকি স্টেডিয়ামের ভিআইপি লাউঞ্জে বসে ছিলেন সৌদি আরবের যুবরাজ মোহম্মদ বিন সালমান এবং রাশান প্রেসিডেন্ট ভ্লামিদির পুতিন। তাদের দুজনের মাঝে ফিফা সভাপতি জিওভান্নি ইনফান্তিনো। পুরো ম্যাচজুড়েই মাঠের ফুটবলের থেকে নিজেদের খোশগল্পেই বেশি মাত ছিলেন দুই দেশের প্রধানরা। ফলে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে খেলার পাশাপাশি কূটনৈতিক সম্পর্কের অনুশীলনটাও ভালো মতো হয়েছে, এ কথা বলাই যায়। রাশিয়ার প্রতিটি গোলের সাথে সাথেই হালকা খোঁচাখুচি, ইনফান্তির পুতিনের দিকে তাকিয়ে মিচকে হাসি দেয়া, সবমিলিয়ে খেলার পাশাপাশি তাঁদের কান্ডকারখানা দেখাটাও হয়ে উঠেছিল বেশ বড় একটি আকর্ষণ।

মাঠের খেলায় রাশিয়া ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে সৌদি আরবকে। এই ম্যাচে যে রাশিয়ারই জয় পাওয়ার কথা,  সেটা প্রত্যাশিতই ছিল। কিন্তু রাশানরা চমকটা দেখাল গোল সংখ্যা ও ব্যবধানে। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে জয়-পরাজয়ের সবচেয়ে বড় ব্যবধানের রেকর্ড এটি।

ফুটবলে ফিনিশিংয়ের গুরুত্ব কতটা তা বোধহয় কখনো শীর্ষদের শেখাননি সৌদি কোচ হুয়ান আন্তোনিও পিজ্জি। আধিপত্য বিস্তারে সৌদির থেকে যে খুব বেশি এগিয়ে ছিল রাশানরা, তা নয়। তবে সৌদি আরবের সবগুলো সুযোগের এসে ভেস্তে গেছে শট নেয়ার মুহুর্তে। পরিসংখ্যানও তাই বলছে। সৌদি আরবের ৬টি শটের একটিও গোলমুখে ছিল না। এর বাইরে আরো অনেকগুলো আক্রমণ শটেই পরিণত করতে পারেনি তারা। সেখানে রাশিয়া ১৪টি আক্রমণের ১৪টিকেই শটে পরিণত করতে পেরেছে। তার মধ্যে ৭টি গোলমুখে। এবং ৫টি গোলবারের ভেতরে।

ম্যাচ শুরু হওয়ার সাথে সাথেই বা উইং দিয়ে দুর্দান্ত এক আক্রমণে চমকে দিয়েছিল সৌদি। অসাধারণ দ্রুতগতির কিছু পাস এবং থ্রু বল দেখে মনে হয়েছিল, ‘আহ! এই না হলে বিশ্বকাপ। সব দলই এখানে ভালো।’ একটু পরেই ধারণাটি পাল্টে গেল। ম্যাচ চলা শুরু করলো অতি মন্থর গতিতে। দুই দলই আক্রমণের থেকে রক্ষণের দিকে বেশি মনোযোগী দেখা গেল। এলোমেলো ভুল পাস, অগোছানো খেলা, সবমিলিয়েই টানা মাঠের দিকে চোখ রাখা দায়। এর মাঝে ১২ মিনিটের মাথায় প্রতি আকম্রণে একটি গোলও করে ফেলে রাশিয়া। কিন্তু তাতেও যে খেলার খুব আকর্ষণ বাড়লো, সেটা নয়।

পুরো ম্যাচেই খুব বেশি আক্রমণে যায় নি কোনো দল। দুদলের সর্বমোট আক্রমণ এবং প্রতি আক্রমণের সংখ্যা মাত্র ২৮টি। ঠিক মধ্যবিরতির আগেই আবার সেই কাউন্টার অ্যাটাকের মধ্যে দিয়েই রাশিয়ার হয়ে আরেকবার বল জালে জড়ান মিডফিল্ডার ডেনিস চেরিসভ।

ম্যাচ শুরু হওয়ার সাথে সাথেই বা উইং দিয়ে দুর্দান্ত এক আক্রমণে চমকে দিয়েছিল সৌদি। অসাধারণ দ্রুতগতির কিছু পাস এবং থ্রু বল দেখে মনে হয়েছিল, ‘আহ! এই না হলে বিশ্বকাপ। সব দলই এখানে ভালো।’

বিরতি থেকে ফিরে এসে কিছুটা গোছানো ভাবে খেলতে শুরু করে দুই দল। বলের দখলে এগিয়ে ছিল সৌদিই। কিন্তু কার্যকরী ফুটবল খেলতে পারেনি তারা। টিকিটাকার ছন্দে খেলতে গিয়ে যখনই ছন্দপতন ঘটেছে, তখনই সুযোগ নিয়েছে রাশিয়া। ফলাফল, ৭১ মিনিটে আরেকটি গোল। এতেই সৌদি আরবের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠোকা হয়ে গেছে। কিন্তু জিতে যাওয়া প্রায় নিশ্চিত হতেই হঠাতই জ্বলে উঠল রাশিয়া। আর সৌদি হারিয়ে ফেলল তাদের পাসের বাহারও। শেষ বিশ মিনিটে প্রায় বারবার আক্রমণে গেছে রাশানরা। ৯০ মিনিটে অতিরিক্ত সময় ঘোষণা করার সাথে সাথেই দুর্দান্ত এক দুরপাল্লার শটে আবারো বল জালে জড়ান ডেনিস চেরিশভ। আগামি কয়েকদিন যেই গোল চোখে ভাসবে বারবার।

চেরিশভের গোলের এক মিনিটের মাথায় আবার আক্রমণে রাশিয়া। চেরিশভ পায়ে বল পেতেই পায়ে পা বাধিয়ে দিলেন সৌদি ডিফেন্ডার। তাতে ঠিক পেনাল্টি বক্সের সামনে ফ্রিকিক পায় রাশিয়া। উইংগার ইগর আকিনফিভ সেখান থেকে শট নিয়েই সবাইকে আবার মুগ্ধ করে ব্যবধান নিয়ে যান ৫-০ তে। অতিরিক্ত সময়ের তিন মিনিটের দুটি গোলে বিশাল ব্যবধান নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্বাগতিকরা।

 

পরিংখ্যানে রাশিয়া-সৌদি আরব ম্যাচ:

শট: রাশিয়া ১৪-৬ সৌদি আরব

শট অন টার্গেট: রাশিয়া ১৪-৬ সৌদি আরব

বল দখল: রাশিয়া ৩৯%-৬‌১% সৌদি আরব

ফাউল: রাশিয়া ২২-১০ সৌদি আরব

হলুদ কার্ড: রাশিয়া ১-১ সৌদি আরব

অফসাইড: রাশিয়া ৩-১ সৌদি আরব

print

One thought on “প্রত্যাশিত জয়ই পেল রাশিয়া, তবে…

  1. Pingback: রোনালদো রূপকথায় ড্র করলো পর্তুগাল - News and Numbers

Comments are closed.