আবারো অঘটন, মেক্সিকো হারিয়ে দিল চ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে!

রাহিন ফাইয়াজ: ২০১৪ বিশ্বকাপের কথা মনে আছে? ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন স্পেন তাদের প্রথম ম্যাচে ৫-১ গোলে হেরে যায় নেদারল্যান্ডের কাছে। সেই স্পেন পরের ম্যাচে চিলির কাছে হেরে গ্রুপপর্বেই বাদ পরে। ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হবে কিনা, সেটা এখনো বলা যাচ্ছে না। তবে প্রথম অংশটি করে ফেলেছে মেক্সিকো। হার্ভিং লোভানোর গোলে চ্যম্পিয়ন জার্মানিকে তাদের প্রথম ম্যাচে ১-০ গোল ব্যবধানে হারিয়ে দিয়েছে তারা।

জার্মানি ০-১ মেক্সিকো

প্রথমার্ধ না দেখে যারা শুধু দ্বিতীয়ার্ধ দেখেছেন, তাদের কাছে মনে হবে এই হার জার্মানির জন্যে বড় অবিচারই। কিন্তু প্রথমার্ধে জার্মানিকে প্রায় অসহায় মনে হয়েছে মেক্সিকোর সামনে। প্রথম ২০ মিনিটে পাঁচবার জার্মানির ডি বক্সে ঢুকে তারা। কিন্তু প্রতিবারই হতাশ হতে হয় ফিনিশিংয়ের গলদের কারণে। সেই গলদ হতে থাকলো পুরো ম্যাচজুড়ে। সে কারণেই একের বেশি গোল করতে পারেনি মেক্সিকানরা।

ব্যতিক্রম একবারই। সেটা ৩৫ মিনিটে। কাউন্টার আক্রমণে হাভিয়ের হার্নান্দেজ চলে আসেন পেনাল্টি বক্সের কাছাকাছি। সেখান থেকে সোজা থ্রু হার্ভিং লোভানোর দিকে। লোভানোও এবার ভুল করলেন না। বল নিয়ে জেরম বোয়েটিংকে বডি ডজে বোকা বানিয়ে জালের বা কর্নারে পাঠিয়ে দিলেন বল। এই ম্যাচে খেলা না খেলা নিয়ে দারুণ আলোচনায় থাকা ম্যানুয়েল নয়্যার কিছুই করতে পারলেন না।

এই গোলের পরেই ছন্নছাড়া খেলতে থাকে জার্মানি। এমনিতেই বলা হয়, জার্মানির খেলায় কোনো সৌন্দর্য নেই। সাধারণত কার্যকরী ফুটবলই খেলে থাকে তারা। সেই জার্মানি ছন্নছাড়া খেললে তাকে বিপর্যয়ই বলা চলে। এভাবেই কাটে প্রথমার্ধ। গোলের পরে আরো দুই একবার গোলের সুযোগ পায় মেক্সিকো। কিন্তু দুই স্ট্রাইকার হার্নান্দেজ এবং লোভানো প্রায় প্রতিটি সুযোগই ছুড়ে ফেলে এসেছেন।

দ্বিতীয়ার্ধে জার্মানি বেশ সচেতনভাবে খেললেও লাভ হয়নি। তার কারণ মেক্সিকোর ডিফেন্স আর জার্মান স্ট্রাইকারদের গোলবারের বাইরের সব শট। আক্রমণাত্মক জার্মানিকে প্রায় পুরোটা সময়ই বোতলবন্দী রেখেছেন মেক্সিকান ডিফেন্ডাররা। মেক্সিকান কোচ হুয়ান কার্লোস ওজিরিও-ও দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণ ছেড়ে প্রায় পুরো সময় পাঁচজন ডিফেন্ডার দাড়া করিয়ে রাখেন ডি-বক্সে। ট্যাকটিক্সের এই বদল শেষ পর্যন্ত কাজে দিয়েছে বলা যায়।

বেশ কয়েকবার প্রতিআক্রমণে দুর্দান্ত সুযোগ করে নেয় মেক্সিকো। কিন্তু হানার্ন্দেজ এবং মিগেল লায়ুন মিলে সবগুলো সুযোগই নষ্ট করেন।  শেষ দশ মিনিটে মরিয়া হয়ে উঠে জার্মানি। কাজে দেয়নি তাতেও। শেষার্ধে ড্রেক্সলার এবং ক্রুস মিলে এগারোটি শট নেন গোলমুখে। সেগুলোর মাত্র পাঁচটি টার্গেটে মারতে পেরেছেন তারা।

মেক্সিকান গোলকিপার ওচোয়া বল ঠেকানোর কাজে আজ বেশ সফল সেটা বলাই যায়। ৩৯ মিনিটে অগোছালো জার্মানি একবারই সুযোগ পায় মাঝমাঠের উপরে উঠার। সাথে সাথেই জশুয়া কিমিচকে বাজেভাবে ফাউল করে বসে মেক্সিকো। টনি ক্রুসের ফ্রিকিকের প্রায় নিশ্চিত গোলটিকে ঠেকিয়ে দেন ওচোয়া।

৭৩ মিনিটে ইতিহাসের সাক্ষী হয় এই ম্যাচ। মাঠে নামেন রাফায়েল মার্কেজ। ৩৯ বয়সী মিডফিল্ডারের এটি পঞ্চম বিশ্বকাপ। মেক্সিকান মিডফিল্ডার আন্তোনিও কারবাহার এবং জার্মানির লোথার মেয়ারের সাথে যুক্তভাবে সবচেয়ে বেশি বিশ্বকাপ খেলা খেলোয়াড় এখন তিনি। এই জয়ে গ্রুপ এফ এর পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে গেল মেক্সিকো।

বিশ্বকাপের আগে টপ ফেবারিট ধরা হচ্ছিল পাঁচটি দলকে। ফ্রান্স, স্পেন, আর্জেন্টিনা, জার্মানি এবং ব্রাজিল। ফ্রান্সকে অস্ট্রেলিয়ার সাথে প্রথম ম্যাচে জিততে অনেক ঘাম ঝড়াতে হয়েছে। স্পেন পর্তুগালের সাথে এবং আর্জেন্টিনা আইসল্যান্ডের সাথে করেছে ড্র। সর্বশেষ জার্মানির এই পরাজয়। মাঠে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে খেলছে ব্রাজিল। অঘটনের বিশ্বকাপে ব্রাজিল কি পারবে সুইস দেয়াল পেরোতে?

 

 

print