ব্রাজিলও!

রাহিন ফাইয়াজ: স্পেন, আর্জেন্টিনা, জার্মানি। এখন ব্রাজিল। সুইজারল্যান্ডের সাথে ১-১ গোলে ড্র করেছে তারা। বিশ্বকাপের আগে যাদেরকে টপ ফেভারেট ধরা হচ্ছিল, প্রায় প্রতিটি দলই বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে ড্র করেছে কিংবা হেরেছে। ফ্রান্সও ড্র করতে করতে কোনোমতে জিতেছে। অঘটনের বিশ্বকাপ হওয়ার সব লক্ষণই পাওয়া গেল আসরের প্রথম চার দিনের মাঝে।

ব্রাজিল ১-১ সুইজারল্যান্ড

স্পেন-পর্তুগাল ম্যাচটি সবার আকাঙ্খা বাড়িয়ে দিয়েছে। এ ম্যাচ অতটা উত্তাপ না ছড়ালেও আনন্দ দিয়েছে, সেটা বলতেই হবে। সুইজারল্যান্ডের সাজানো গোছানো ফুটবলের বিপক্ষে ব্রাজিল ধরে রেখেছে তাদের সাম্বা ছন্দই। কিন্তু সুন্দর খেলা এদিন ফলপ্রুস হয়নি সুইসদের ফর্মেশন মেনে দুর্দান্ত খেলায়। বল দখলেও ব্রাজিলকে ভালোই টেক্কা দিয়ে সুইসরা।

ব্রাজিল অসফল আরো একটি কারণে। তাদের স্ট্রাইকারদের উল্টোপাল্টো শট। ২১ শটের মাঝে মাত্র ৫টি শট গোলমুখে নিতে পেরেছেন নেইমার-জেসুস-কুতিনহো-উইলিয়ানরা। শতাংশের হিসাবে মাত্র ২১%।

২০ মিনিটেই কুতিনহো যেই শটে গোল দিলেন, এবং যেভাবে ব্রাজিল খেলছিল, এই ম্যাচ ড্র হবে ঘূর্ণাক্ষরেও ধারণা করা যায় নি। গ্যাব্রিয়েল জেসুসের দিকে মার্সেলোর ক্রস ডিফেন্ডারের মাথায় লেগে চলে গেল ফিলিপে কুতিনহোর কাছে। বল পেয়ে এক মূহুর্ত দেরি করলেন না কুতিনহো। শট নিলেন। দুটি ডিফেন্ডারের মধ্যে দিয়ে বাক খেয়ে বল ঢুকে গেল জালে।

পুরো ম্যাচজুড়েই নেইমারকে নিষ্ক্রিয় দেখা গেছে। তাকে বোতলবন্দী করার খুব বেশি চেষ্টা চালিয়েছে সুইজারল্যান্ড তেমন নয়। কিন্তু তাতেও নেইমারকে নেইমাররূপে দেখা যায় নি। কোনো বল নিয়েই তেমন ভালোভাবে এগুতে পারেননি তিনি। শেষ দশ মিনিট ছাড়া। এই দশ মিনিটেই শুধু কয়েকবার নেইমারঝলক দেখা গেছে।

তবে পুরো ম্যাচের ফ্লো থামানোর জন্য নেইমারকে দায়ী করা যেতেই পারে। সুইজারল্যান্ড তাকে আটকাতে ফাউল করে নি, তা নয়। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই পায়ে টোকা লাগলেও প্রায় ঝাপিয়ে পড়েছেন তিনি। নিজের ড্রিবল চালু রাখার থেকে ফ্রিকিক আদায় করার দিকেই মনোযোগ বেশি দেখা গেছে তার।

গোল করার পর বেশ কিছুক্ষণ খেলায় এগিয়ে ছিল ব্রাজিলই। পুরো প্রথমার্ধটাই সুইসদের উপর ছড়ি ঘুরিয়েছে তারা। এর মাঝে বেশ কয়েকবার গোলের সুযোগ পায় দুই দলই। কিন্তু ফিনিশিংয়ের অভাবে সেই সুযোগ কোনো কাজে আসে কারো ক্ষেত্রেই।

বিরতি থেকে ফিরেই সচেতন সুইজারল্যান্ড। তাদের খেলা হয়ে উঠে আরো গোছানো। আক্রমণেও বাড়ে ধার। তার ফল হিসেবেই আসে ৫০ মিনিটে স্টিভেন জুবেরের গোলটি। কর্নার থেকে জেরদান শাকিরির শটে প্রায় নিখুঁত হেডে গোলকিপারকে ফাঁকি দেন তিনি। গোলমুখে নিজেদের প্রথম শটেই গোল পায় সুইসরা।

এরপরের দুদলই খেলেছে টক্কর দিয়ে। আক্রমণ, পাল্টা আক্রমণে ম্যাচ জমে উঠেছিল। বিশেষ করে শেষ দশ মিনিটের খেলা ছিল মনোমুগ্ধকর। শেষ দুই মিনিটে পরপর দুটি গোলের সুযোগ পেলেও ব্রাজিলের সুযোগ সব বিফলে যায় সুইস গোলকিপার ইয়ান সমারের কারণে। ৮৮ মিনিটে নেইমারের ফ্রিকিকের পর ৯০ মিনিটে ফিরমিনোর হেডও ফিরিয়ে দেন তিনি। যোগ করা অতিরিক্ত ৫ মিনিট সময়ে একের পর এক গোল করেও কোনো লাভ হয়নি ব্রাজিলের।

দিনের আগের ম্যাচে সার্বিয়া কোস্টারিকার সাথে জেতায় এবং ব্রাজিল ড্র করায় পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে গেছে সার্বিয়া। সব ফেভারেট দলেরই এমন অবস্থা। এই না হলে বিশ্বকাপ!

print