মরক্কোকে বিদায় দিলেন রোনালদো, সৌদিকে সুয়ারেজ

স্পোর্টস রিপোর্টার: দুজন দুটি চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবের হয়ে খেলেন। কিন্তু বিশ্বকাপের একই দিনের পরপর দুটি ম্যাচ দুজনকে এক বিন্দুতে মিলিয়ে দিল। রোনালদো এবং সুয়ারেজ, এই দুজনের দুটি গোলেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল মরক্কো এবং সৌদি আরব। রোনালদোর গোলে মরক্কোকে এবং সুয়ারেজের গোলে সৌদি আরবকে ১-০ গোল ব্যবধানে হারিয়েছে পর্তুগাল এবং উরুগুয়ে। ডিয়াগো কস্তার গোলে ইরানকেও ১-০ গোলের ব্যবধানে হারিয়েছে স্পেন।

পর্তুগাল ১-০ মরক্কো

উরুগুয়ে ১-০ সৌদি আরব

স্পেন ১-০ ইরান

পর্তুগাল এবং উরুগুয়ে দুই দলই জিতলেও ঘাম ঝড়াতে হয়েছে তাদেরকে। পর্তুগালের জয়টা তো মরক্কোর প্রতি অবিচারই বলা যায়। ম্যাচের প্রথম ২০ মিনিট ছাড়া পুরো ম্যাচের কন্ট্রোল ছিল মরক্কোর কাছে। আক্রমণ পাল্টা আক্রমণে বারবারই পর্তুগালকে ঘোল খাইয়েছে তারা। তবে লাভ হয়নি তাতে। ম্যাচ শুরুর চার মিনিটেই ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো যেই গোল এনে দিয়েছেন, সেই লিড ধরে রেখেই মাঠ ছেড়েছে পর্তুগাল। মরক্কোর দুর্ভাগ্যই হোক কিংবা রুই প্যাট্রিসিওর নৈপুন্য, সেই গোল আর শোধ করতে পারেনি মরক্কো।

এই গোল দিয়েই এই বিশ্বকাপে দ্বিতীয়বারের মতো ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়েছেন রোনালদো। গত ম্যাচে স্পেনের বিপক্ষে প্রথম হ্যাটট্রিক করা খেলোয়াড় হিসেবে রেকর্ড করেছিলেন, আজ গোল করে অধিনায়ক হিসেবে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশির গোলের রেকর্ডটিও করে নিলেন নিজের। পুসকাসকে ছাড়িয়ে ছুঁলেন ম্যারাডোনাকে। যেভাবে খেলছেন, বিশ্বকাপ শেষ হতে হতে এই রেকর্ডটি পুরোপুরি রোনালদোরই হয়ে যাবে মনে হচ্ছে।

তবে গত দুটি ম্যাচ জুড়েই রোনালদো যেই ‘ওয়ান ম্যান শো’ চালিয়েছেন, তা আজ পুরোপুরি ঢাকা পড়ে যেতে পারতো ৫৭ মিনিটে রুই প্যাটট্রিসিও মরক্কান মিডফিল্ডার বেলহানদারের ওই হেড অবিশ্বাস্যভাবে ঝাঁপিয়ে পরে না বাঁচালে। সুযোগ আরো পেয়েছিল মরক্কো, কিন্তু বৃথা গেছে সবই। পর্তুগালও সুযোগ পেয়ে নষ্ট করেছে। সুযোগ নষ্ট করেছেন রোনালদো নিজেও। পরপর দুটি ম্যাচ হেরে শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ থেকেই বিদায় নেয় মরক্কো।

এই গোল দিয়েই এই বিশ্বকাপে দ্বিতীয়বারের মতো ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়েছেন রোনালদো। গত ম্যাচে স্পেনের বিপক্ষে প্রথম হ্যাটট্রিক করা খেলোয়াড় হিসেবে রেকর্ড করেছিলেন, আজ গোল করে অধিনায়ক হিসেবে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশির গোলের রেকর্ডটিও করে নিলেন নিজের। পুসকাসকে ছাড়িয়ে ছুঁলেন ম্যারাডোনাকে। যেভাবে খেলছেন, বিশ্বকাপ শেষ হতে হতে এই রেকর্ডটি পুরোপুরি রোনালদোরই হয়ে যাবে মনে হচ্ছে।

উরুগুয়ের গল্প তেমন ভিন্ন কিছু নয়। সেই একই এক সুযোগে গোল করে অন্য পুরোটা সময় ধরে রাখাতে ব্যস্ত থাকতেই দেখা গেছে তাদের। প্রথমার্ধে বেশ আটসাট রক্ষণের সৌদি আরব তেমন একটা আক্রমণে আসে নি। কিন্তু ২৩ মিনিটে সানচেজের কর্নার ক্রস থেকে বল জালে জড়িয়ে দিলেন লু্‌ইস সুয়ারেজ। এরপর আর গোল করতে পারেনি কোনো দলই। নিজর ১০০তম ম্যাচে গোল করে স্মরণীয় করে রাখলেন তিনি।

দ্বিতীয়ার্ধ থেকেই সৌদি আরব যেন ভিন্ন দল। টানা অ্যাটাকে উরুগুয়েকে চেপে ধরতে থাকে তারা। কিন্তু শেষ রক্ষা আর হয় নি। শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ই নিতে হয়েছে তাদের।

স্পেনের বিপক্ষেও ভালো খেলে হেরেছে ইরান। এবার ঘাতকের নাম ডিয়াগো কস্তা। তবে এই গোলে কস্তার কতটুকু দাবি সেটা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে। ইসকোর পাস থেকে বল নিয়ে উঠে ডি বক্সে কস্তার কাছে পাঠিয়ে দেন ইনিয়েস্তা। কস্তা শট নিতেই তা ঠেকে যায় ইরানিয়ান ডিফেন্ডার পায়ে। তিনিও দেরি করলেন না। সাথে সাথে ক্লিয়ার করার চেষ্টায় বলে লাথি মেরে বসেন। সেই জোরালো শটই কস্তার পায়ে লেগে ঢুকে যায় জালে।

পুরো সময়ে ইরানকে একবারো স্পেনের থেকে দুর্বল দল মনে হয়নি। বরং তারা স্পেনের গোলটি শোধও করে ফেলেছিল। কিন্তু ভিএআরে দেখা যায়, অফসাইড ফাঁদে পরে গেছে সেই গোল। তাই দুর্ভাগ্যের কারণেই পরাজয় বরণ করে মাঠ ছাড়তে হয় তাদের।

print