মাত্র কয়েক ঘন্টার জন্য বিশ্বের শীর্ষ ধনী হলেন বেজোস!

নিজস্ব প্রতিবেদক : ফোর্বসের করা সারা বিশ্বের শীর্ষ ধনীর তালিকায় মাত্র কয়েক ঘন্টার জন্য মুকুট পরে ছিলেন অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস। শেয়ার বাজারে হঠাৎ উত্থানের কারণে মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসকে টপকে যান তিনি। সাথে সাথেই তা শিরোনাম হয় আন্তর্জাতিক গলমাধ্যমগুলোর।

যেমন, অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস হলেন বিশ্বের নতুন শীর্ষ ধনী ব্যাক্তি- এই শিরোনামে খবর প্রকাশ করে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি। কিন্তু তার মাত্র ২ ঘন্টার মধ্যেই শিরোনামসহ সংবাদ প্রতিবেদনের শুরুতে সংশোধন এনে নতুন শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করে বিবিসি। কারণ ততক্ষণে বেজোসের মালিকানাধীন অ্যামাজনের শেয়ারের দর আবার নেমে যায়।

শুরুতে বিবিসি জানায়, বৃহস্পতিবার অ্যামাজনের শেয়ার মূল্য ২ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ায় বিল গেটসের চাইতে ৫০০ মিলিয়ন বেশি সম্পদ নিয়ে শীর্ষ ধনী এখন বেজোস। তিনি অ্যামাজানের ১৭ শতাংশ শেয়ারের মালিক। যার মূল্য ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি। শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে ঐ সময় ৫৩ বছর বয়সী এই উদ্যোক্তার সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল ৯ হাজার ১৪০ কোটি ডলারে।

ফোর্বস জানিয়েছে, চলতি জুলাইয়ের হিসাবে বিল গেটসের সম্পদের পরিমাণ ৮ হাজার ৯৮০ কোটি ডলার। আর শেয়ারের দাম কমে বেজোসের সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৮ হাজার ৮৭০ কোটি ডলারে। সব মিলিয়ে বিশ্বের ধনী ব্যক্তিদের তালিকায় এখন দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন বেজোস।

প্রযুক্তি ব্যবসার বিকাশে টেক জায়ান্ট অ্যামাজন আর ফেসবুকের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো অন্য উচ্চতায় পৌঁছে গেছে। সেই সাথে শক্তিশালি হয়েছেন অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস ও ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গের মতো উদ্যোক্তারা। ফোর্বসের শীর্ষ ধনীদের তালিকায় জাকারবার্গের অবস্থান পঞ্চম। জুলাই মাসের হিসাবে তার সম্পদের পরিমাণ ৭ হাজার ৯০ কোটি ডলারের।

তবে এর আগে গেল বছরের সেপ্টেম্বর মাসে মাত্র ২ দিনের জন্য বিল গেটসের শীর্ষ ধনীর আসনটি শেষবার দখল করেছিলেন স্প্যানিশ ফ্যাশন প্রতিষ্ঠান জারার প্রতিষ্ঠাতা আমানসিও ওর্তেগা।

জেফ বেজোস ওয়াল স্ট্রিটের চাকরি ছেড়ে ১৯৯৪ সালে অ্যামাজন প্রতিষ্ঠা করেন। অনলাইনে বই বিক্রির মধ্য দিয়ে যে অ্যামাজনের পথচলা শুরু হয় তা আজ বিশ্বের সবচেয়ে বড় অনলাইন শপিং সাইট। বর্তমানে মহাকাশ প্রযুক্তি ব্যবসা ব্লু অরিজিন এবং ২০১৩ সালে কিনে নেয়া ওয়াশিংটন পোস্ট এর দিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছেন এই সফল উদ্যোক্তা। বাণিজ্যিকভাবে মহাকাশ যাত্রা প্রকল্প ব্লু ওরিজিনে তহবিলের জন্য প্রতিবছর অ্যামাজন স্টক থেকে ১০০ কোটি ডলারের পণ্য বিক্রি করেন বলে জানিয়েছেন বেজোস নিজেই।

print