মার্চে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১-এর মূল অবকাঠামো তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। ফ্রান্সের থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেস নামের একটি মহাকাশ সংস্থা অবকাঠামো তৈরির এই কাজটি করেছে। অবকাঠামো তৈরি হলেও এ বছর মহাকাশে যাচ্ছে না বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট। আগামী বছরের মার্চ নাগাদ এটি যুক্তরাষ্ট্র থেকে মহাকাশে উৎক্ষেপণের সম্ভাবনা রয়েছে।

টেলিযোগাযোগ খাতের প্রতিবেদকদের সংগঠন টেলিকম রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের (টিআরএনবি) সঙ্গে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে আজ বুধবার এ তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ।

শাহজাহান মাহমুদ বলেন, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের নির্মাণকাজ সফলভাবে শেষ হয়েছে। সম্প্রতি ফ্রান্সে গিয়ে সম্পূর্ণ নির্মিত স্যাটেলাইটটি তারা দেখে এসেছি। উৎক্ষেপণের এক মাস আগে স্যাটেলাইটটি ফ্রান্স থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হবে। মার্চের কোনো এক সময়ে স্যাটেলাইটটি মহাকাশে উৎক্ষেপণের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট তৈরির পুরো কর্মযজ্ঞটি চলছে বিটিআরসির তত্ত্বাবধানে। তিনটি ধাপে নির্মাণকাজ চলছে। এগুলো হলো স্যাটেলাইটের মূল কাঠামো তৈরি, স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ ও ভূমি থেকে নিয়ন্ত্রণের জন্য গ্রাউন্ড স্টেশন তৈরি। এর মধ্যেই স্যাটেলাইট তৈরির কাজটি শেষ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের আরেক মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেসএক্সের ‘ফ্যালকন-৯’ রকেটে করে স্যাটেলাইটটি মহাকাশে পাঠানো হবে। স্যাটেলাইট ওড়ানোর কাজটি বিদেশে হলেও এটি নিয়ন্ত্রণ করা হবে বাংলাদেশ থেকেই। এ জন্য গাজীপুরের জয়দেবপুর ও রাঙামাটির বেতবুনিয়ায় গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন তৈরির কাজ চলছে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট খরচ হচ্ছে ২ হাজার ৯৬৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে দেওয়া হচ্ছে ১ হাজার ৩১৫ কোটি টাকা। আর ঋণ হিসেবে বহুজাতিক ব্যাংক এইচএসবিসি দিচ্ছে বাকি ১ হাজার ৬৫২ কোটি টাকা।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মোট ৪০টি ট্রান্সপন্ডার থাকবে। এর মধ্যে ২০টি ট্রান্সপন্ডার বাংলাদেশের ব্যবহারের জন্য রাখা হবে। বাকি ২০টি ট্রান্সপন্ডার বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রির জন্য রাখা হবে।

বিটিআরসি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও টিআরএনবির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। টিআরএনবি সভাপতি রাশেদ মেহেদী ও সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

print