রশিদ-নবিতে ইতিহাস আফগানিস্তানের

স্পোর্টস রিপোর্টার: মোহম্মদ নবির ইনিংসটা তেমন বড় নয়। মাত্র ১৫ বলের ইনিংসেই করেছেন ৩১ রান। কিন্তু ম্যাচের বিচারে এই ইনিংসই গড়ে দিল পার্থক্যটা। ব্যাটিংয়ের সময় রশিদ জুজু আর বোলিংয়ে নবির এই ইনিংসের কাছেই হারলো বাংলাদেশ। এক ম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজ জিতে পরপর চারটি টি-টোয়েন্টি সিরিজে জিতলো আফগানরা।

টস জিতে যখন ব্যাটিং নিয়েছিলেন সাকিব আল হাসান, তখন বোধহয় ঘুর্ণাক্ষরেও ভাবেননি এত কম পুঁজি সংগ্রহ করবে তার দল। বাংলাদেশের ইনিংসের দশ ওভার পর্যন্ত সেটা ভাবেনি কেউই। জাদরান এবং নবি মিলে তিন উইকেট নিয়ে নিলেও ১০ ওভারে ৮১ রান করে ফেলেছিলেন টাইগাররা। তামিম ছিলেন বলে যেন নিশ্চয়তা পাচ্ছিল বাংলাদেশ। প্রথম দশ ওভারের মাঝে ২৮ বল খেলে ৩৫ রান করেছিলেন তিনি। তার সঙ্গ দিচ্ছিলেন মুশফিক আউট হওয়ার পর মাত্রই ক্রিজে নামা মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ।

কিন্তু আফগান অধিনায়ক স্ট্যানিকজাই তার আসল অস্ত্র তখনও বের করেননি। রশিদ খানের তখনও চার ওভারই বাকি। দুই ওভার করে বাকি মুজিবের এবং নবির। ১১তম ওভারে রশিদ খান বোলিংয়ে আসার সাথে সাথেই কি যেন হয়ে গেল বাংলাদেশের। সেই ওভারে চার রান তুলেন মাহমুদুল্লাহ এবং তামিম। এরপরের ওভারের শেষ বলেই করিম জেনাতের শিকার হয়ে সাজঘরে ফিরেন মাহমুদুল্লাহ। ১৫ ওভার শেষ দেখা গেল, গত ৫ ওভারে স্রেফ ২০ রান তুলতে পেরেছে টাইগাররা। দলীয় সংগ্রহ মাত্র ১০১ রান।

রান করার তাড়ায় বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের ভুল করার সুযোগগুলোর সদব্যবহার করলেন এরপরের ওভারে বোলিংয়ে আসা রশিদ। ১৬তম ওভারে তার প্রথম বলেই নাজিবুল্লাহ জাদরানকে ক্যাচিং প্র্যাকটিস করিয়ে সাজঘরের দিকে রওনা দেন সাকিব আল হাসান। এরপরে এক বলের বিরতি দিয়ে শট খেলতে গিয়ে বোল্ড হন তামিম ইকবালও। পরের বলটিতেই গুগলিল ধাঁধায় ফেলে মোসাদ্দেককেও ফেরান রশিদ। এক ওভারেই তিন উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ বড় করার সব সম্ভাবনাকেই নাকচ করার ব্যবস্থা করেন তিনি।

তার পরের দুই ওভারে মাত্র পাঁচ রান তুলেন ক্রিজে থাকা সৌম্য সরকার এবং আবু হায়দার রনি। ১৮তম ওভারের শেষ বলে সাজঘরে ফিরে যান সৌম্যও। ১৮ ওভার শেষে তখন বাংলাদেশের রান মাত্র ১০৮।

টেলএন্ডার রনি এরপরের দুই ওভারেই ফেরেন বাংলাদেশের ত্রাতা হয়ে। শেষ দুই ওভারে নাজমুল ইসলাম অপুকে সঙ্গে নিয়ে ২৬ রান তুলেন তিনি। রনি নিজে খেলেন ১৪ বলে ২১ রানের এক ক্যামেও ইনিংস। তার ঝড়ো ব্যাটিংয়ে টাইগারদের সংগ্রহ গিয়ে দাঁড়ায় ১৩৪ রানে।

তবে মাত্র ১৩৫ রানের টার্গেট যে আফগানরা অনায়াসে তুলতে পেরেছে, এমন কথাও বলা যাবে না। ১৮ ওভার পর্যন্ত আফগানিস্তানকে ভালোই চাপে রেখেছে বাংলাদেশ। পুরো ইনিংসে আফগানদের মাত্র চার উইকেট তুলতে পারলেও টাইগার বোলাররা প্রবল চেষ্টায় রান আটকাতে সফল হয়েছেন, সে কথা বলতেই হবে। নাহলে ১৩৫ রানের টার্গেট তাড়া করতেও নেমেও আফগানিস্তানকে ১৯তম ওভার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতো না।

বাংলাদেশের বোলারদের আটসাট বোলিংয়ে যখন কিছুতেই আফগান ব্যাটসম্যানরা জয়ের তরী নিজেদের দিকে অনায়াসে টানতে পারছিলেন না। ১৮ ওভারের শেষ বলে অধিনায়ক স্ট্যানিকজাইকে আউট করে বেশ ভালো একটা সম্ভাবনাও তৈরি করেছিলেন মোসাদ্দেক হোসেন। কিন্তু পরের ওভারেই নবি দুই চার এবং দুই ছয়ে এক ওভার বাকি থাকতেই জয় ছিনিয়ে নিয়ে আসেন আফগানিস্তানের জন্য।

মোসাদ্দেক নিয়েছেন দুই উইকেট, রনি এবং রুবেল পেয়েছেন একটি করে উইকেট।

print