সেমিফাইনালে ফ্রান্স

স্পোটর্স ডেস্ক: নিজেকে হয়তো কখনও মাফ করতে পারবেন না ফের্নান্দো মুসলেরা। বিশ্বকাপের মঞ্চে এত বড় ভুলের ধাক্কা হয়তো সারা জীবন বইতে হবে তাকে। লাইনে থেকেও আটকাতে পারলেন না বল! তার ‘ফসকে’ যাওয়া বলের মতো ম্যাচটাও হাত থেকে বেরিয়ে গেল উরুগুয়ের। বিপরীতে জয়ের উৎসবে সেমিফাইনালে ওঠার আনন্দে মাতোয়ারা ফ্রান্স।

মুসলেরার ওই ভুলের আগেই এগিয়ে থাকা ফ্রান্স নোভগোরদের কোয়ার্টার ফাইনাল জিতেছে ২-০ গোলে। রাফায়েল ভারানের লক্ষ্যভেদের পর জাল খুঁজে পেয়েছেন আন্তোয়ান গ্রিয়েজমান। যাতে ২০০৬ সালের পর আবারও বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে ‘লে ব্লুজ’।

ভারানের হেডে ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় ফ্রান্স। ঘুরে এসে তাই গোল শোধে মরিয়া হয়ে ওঠে উরুগুয়ে। সমতায় ফেরা তো দূরে থাক, উল্টো ৬১ মিনিটে আরও পিছিয়ে যায় গোলরক্ষক মুসলেরার ‘ক্ষমার অযোগ্য’ ভুলে। বক্সের বাইরে থেকে গোলমুখে শট করেছিলেন গ্রিয়েজমান। বিপদের কোনও সম্ভাবনাই ছিল না, কারণ একেবারে লাইনেই ছিলেন মুসলেরা। কিন্তু কী ভেবে একটু বামে সরে গিয়ে ‘ফিস্ট’ করতে চাইলেন, বল তার দুই হাতের আঙুল ফসকে উঠে যায় উপরে। এরপর উরুগুইয়ান গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে বল আশ্রয় নেয় জালে।

ওই গোলের পর মানসিকভাবে একেবারেই ভেঙে পড়ে উরুগুয়ে। বিপরীতে আত্মবিশ্বাসী ফ্রান্স হয়ে যায় রক্ষণাত্মক। লাতিন আমেরিকার দলটি চেষ্টা করেছে ঘুরে দাঁড়ানোর, কিন্তু পারেনি এদিনসন কাভানিবিহীন ‘লা সেলেস্তে’। সমান্তরালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেওয়া ফ্রান্স আবারও প্রমাণ করলো, কেন তাদের ফেভারিট মানা হচ্ছে রাশিয়া বিশ্বকাপে।

ফ্রান্সের আক্রমণ বনাম উরুগুয়ের রক্ষণের লড়াইটা বেশ জমেছিল। ডিয়েগো গোদিন ও হোসে গিমিনেসকে নিয়ে গড়া লাতিন দেশটির রক্ষণভাগকে ফাঁকি দিতে পারছিলেন না কাইলিয়ান এমবাপে ও আন্তোয়ান গ্রিয়েজমান। শেষ পর্যন্ত এক ডিফেন্ডারের ছোঁয়ায় খোলে উরুগুয়ের গোলপোস্টের তালা। ৪০ মিনিটে চমৎকার এক হেডে বল জালে জড়িয়ে ফ্রান্সকে এগিয়ে নেন ভারান।

ফ্রি কিক পেয়েছিল ফরাসিরা। আন্তোয়ান গ্রিয়েজমানের নেওয়া ফ্রি কিক বক্সের ভেতর থেকে লাফিয়ে হেড করেন ভারান, বল ভাসতে ভাসতে পোস্টের কোণা দিয়ে জড়িয়ে যায় জালে। ওই গোলটাই প্রথমার্ধে এগিয়ে রাখে ‘লে ব্লুজ’কে।

.আবারও গোল পেয়েছেন গ্রিয়েজমানবিরতিতে যাওয়ার আগে স্কোরলাইন ১-১ হয়ে যেতে পারতো। উরুগুয়ের ভাগ্য সহায় না হওয়ায় এবং গোলরক্ষক উগো লরির দুর্দান্ত সেভে রক্ষা পায় ফ্রান্স। বিরতিতে যাওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে লুকাস তোরেইরার নেওয়া ফ্রি কিকে হেড করেছিলেন মার্তিন কাসেরেস। এই ডিফেন্ডারের হেড লাফিয়ে এক হাতে ফেরান ফরাসি গোলরক্ষক লরি। ফিরে আসে বলে ডিয়েগো গোদিন শট করলেও চলে যায় পোস্টের ওপর দিয়ে।

দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে আর ফিরতে পারেনি দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। ফ্রান্সের দুর্দান্ত ফুটবলের সামনে আরও এক গোল হজম করে উরুগুয়ে।

২-০ গোলের জয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করা ফ্রান্স শেষ চারের লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে রাত ১২টায় মাঠে নামা ব্রাজিল-বেলজিয়াম ম্যাচের জয়ী দলের বিপক্ষে। বিডিনিউজ২৪.কম

print