২৫ বলে সেঞ্চুরি!

স্পোর্টস রিপোর্টার: উইল জ্যাকসের ইনিংসটি দেখে মনে হচ্ছিল, যেন কোনো কম্পিউটার ক্রিকেট গেইমের ক্রিকেটার সবচেয়ে সহজ লেভেলে বোলারদের তুলোধুনো করছে। বোলাররা ভাবলেশহীনভাবে বল করেই যাচ্ছেন, আর তিনি বারবার বল মাঠের বাইরে পাঠাচ্ছেন। রীতিমত অবাস্তব এক ইনিংসে এই ইংলিশ ক্রিকেটার সেঞ্চুরি করেছেন ২৫ বলে। তার মাঝে এক ওভারে ছয়টি ছক্কাও মেরেছেন।

পেশাদার ক্রিকেটে এটাই দ্রুততম সেঞ্চুরি। তবে রেকর্ডবইয়ে এই সেঞ্চুরির কথা লেখা থাকবে না। কারণ ম্যাচটি ছিল সারে ও ল্যাঙ্কাশায়ারের মধ্যকার প্রাক মৌসুম একটি টি-টেন ম্যাচ। তাতে জ্যাকের দল সারে ১৭৭ রানের টার্গেট দিয়ে জিতেছে  ৯৫ রানে। ৯.৩ ওভারে মাত্র ৮১ রানেই অলআউট হয়ে গেছে ল্যাঙ্কাশায়ার।

এর আগে গত ডিসেম্বরে টি-টেন ক্রিকেটে প্রথম সেঞ্চুরিটি করেছিলেন বাবর আযম। মাত্র ২৬ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি। যদিও ম্যাচটি ছিল একটি চ্যারিটি ম্যাচ। সে হিসেবে জ্যাকের সেঞ্চুরি টি-টেন ক্রিকেটে দ্বিতীয়।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দ্রুততম সেঞ্চুরি করা ক্রিকেটার হিসেবে রেকর্ডবুকে লেখা আছে এবি ডি ভিলিয়ার্সের নামই। ২০১৫ সালে বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৩১ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি। আর পেশাদার ক্রিকেটে এই রেকর্ড ক্রিস গেইলের। রয়েল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর হয়ে ৩০ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি। সেটা অবশ্য বেশ আগের কথা, ২০১৩ সালে। ইংল্যান্ডের ঘরোয়া ক্রিকেট কাউন্টিতে ২৭ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন গ্লেন চ্যাপেল এবং মার্ক পেটিনি। কিন্তু উইল জ্যাকসের থেকে কম বলে কেউ অবশ্য এখনো সেঞ্চুরি করতে পারেননি।

জ্যাক অবশ্য দাবি করছেন, তিনি ভেবেচিন্তে কিছু করেননি। ‘সবাই বলছিল টি-টেনে গড়ে ১২০-১৩০ রান হয় প্রতি ইনিংসে। আমি শুধু একটু মজা করে দেখতে চেয়েছিলাম। ৯৮ বল পর্যন্ত সেঞ্চুরির কথাই ভাবিনি। এরপর কিভাবে যেন হয়ে গেল।’

জ্যাক সেঞ্চুরি করতে পারতেন আরো আগে। শুরু থেকেই বোলারদের তুলোধুনো করছিলেন তিনি। ফিফটি করেছেন মাত্র ১৪ বলে। কিন্তু ল্যাঙ্কাশায়ারের অফস্পিনার স্টিফেন পেরির পঞ্চম ওভারের প্রতিটি বলই পাঠালেন মাঠের বাইরে। এই ৬ বলে ৬৬ রান থেকে ৯২ রানে চলে যান তিনি। সেই ওভারে একটি ওয়াইডসহ মোট রান ৩৭! ৯৮ রানে পৌঁছে গিয়েছিলেন মাত্র ২২ বলে। কিন্তু এরপর সেঞ্চুরি করতে নিয়েছেন আরো তিন বল। সবমিলিয়ে আউট হওয়ার আগে ৩০ বলে করেছেন ১০৫ রান।

print