ওয়ানডেতে জয়ের ধারা অব্যহত রাখতে পারবে অস্ট্রেলিয়া?

স্পোর্টস রিপোর্টার: এই ফর্ম নিয়ে অস্ট্রেলিয়া এভাবে ঘুরে দাঁড়াবে, পরপর তিন ম্যাচে জয় নিয়ে ভারতের বিপক্ষে সিরিজ জিতবে, এ কথা এক মাস আগে বললেও যেকোনো ক্রিকেটভক্ত নিশ্চিতই এমনভাবে তাকাতেন, যেন পাগল প্রলাপ বকছে কিনা। শুধু তাই না, মাত্র এক মাস আগেই বিনা দ্বিধায় বলা যেত, বিশ্বকাপের আগে সবচেয়ে সমস্যাভারাক্রান্ত দলগুলোর একটি অস্ট্রেলিয়া। ২০১৭ সালের জানুয়ারী থেকে ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম দুটি ম্যাচ পর্যন্ত ম্যাচের হিসেবে ২৮টি ওয়ানডের মাত্র ৪টি জিতেছিল অজিরা। তার সাথে স্টিভেন স্মিথ এবং ডেভিড ওয়ার্নারের নিষেধাজ্ঞা, অ্যারন ফিঞ্চের প্রশ্নবিদ্ধ ফর্ম এবং অধিনায়কত্ব সব মিলিয়ে গোলকধাঁধায় ঘুরপাক খাচ্ছিল দলটি।

কিন্তু গত এক মাসে যেন সব ধাঁধা মিলিয়ে যেতে শুরু করেছে। অ্যারন ফিঞ্চ তার রানখরা একটি ফিফটির মাধ্যমে কাটিয়েছেন। উসমান খাঁজা বহুদিন পর ওয়ানডে দলে ফিরেই দুটি সেঞ্চুরি এবং একটি ৯০ রানের ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার এই সিরিজ জয়ে সবচেয়ে বড় ভূমিকাটি রেখেছেন। এই দুজনের ফর্মে আসার মধ্যে দিয়ে হঠাৎ করেই অস্ট্রেলিয়ার টপ অর্ডার হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভারতের বিপক্ষে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ রেখেছে অজি মিডল অর্ডারও। গ্লেন ম্যাক্সওয়েল তিন নাম্বারে অস্ট্রেলিয়ার বিশাল নির্ভরতার জায়গায় পরিণত হয়েছেন অনেক আগেই। পিটার হ্যান্ডসকম্ব নিজের ফর্ম খুঁজে পেয়েছেন। অ্যাশটন টার্নার মাত্রই ভারতের বিপক্ষে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে সিরিজের সেরা ইনিংসটি খেলেছেন। তাই তাকেও এখানে বড় শক্তি বলা যায়।

এই ধারাটিকে বজায় রাখতে চায় দলটি। বিশেষ করে প্রতিপক্ষ যখন ভারতের মতো শক্ত নয়। পাকিস্তান, যারা নিজেরাও প্রায় একইরকমভাবে জয়হীন সময় কাটাচ্ছে। গত ১৮ মাসের ফর্মহীনতার কারণে নিজেদের দেশে কঠিন চাপের মুখে আছে তারা। অস্ট্রেলিয়া নিজেদের সমালোচনার উত্তরগুলো দিতে শুরু করলেও, সে কাজটি এখনো করতে পারেনি সোয়েব মালিকের দল। বিশ্বকাপের আগে দল গুছিয়ে আনার এটাই শেষ সুযোগ। ভারমুক্ত হয়ে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নিতে পারবে কিনা পাকিস্তান, সেটা বলে দেবে এই সিরিজের ফলই। নিজের দেশের মানুষের প্রতিনিয়ত সমালোচনার চাপটা যে বড্ড ভারি।

তবে কাজটি সহজ হবে না পাকিস্তানের জন্য। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তারা পাচ্ছে না অনেক নির্ভরশীল ক্রিকেটারকে। নিয়মিত অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ, ব্যাটসম্যান ফখর জামান এবং বাবর আযম, লেগস্পিনার সাদাব খান, পেসার হাসান আলি এবং শাহিন আফ্রিদি, সবাইকেই বিশ্রাম দেয়া হয়েছে। বুড়ো আঙুলের ইনজুরির কারণে নেই মোহম্মদ হাফিজও।

পাকিস্তানের সমস্যা শুধু নির্ভরশীল ক্রিকেটারদের অনুপস্থিতি নয়। সোয়েব মালিকের অধিনায়কত্বে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে কতদূর এগোতে পারবে তারা সে বিষয়েও প্রশ্ন আছে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজের মাঝে সরফরাজ নিষিদ্ধ হলে মালিক অধিনায়কের দায়িত্ব নেন। শুরুটা জয় দিয়ে হলেও এরপরের অংশটুকু খুব বেশি সুখের নয়। সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে এবং টি-টোয়েন্টি সিরিজেও পরাজয়। সরফরাজের নেতৃত্বে ১১টি টি-টোয়েন্টি সিরিজ অপরাজেয় থাকার ধারাবাহিকতাটি হারিয়ে ফেলার দায়ও তাই তার কাঁধেই পড়েছে।

মালিকের অধিনায়ক হিসেবে ব্যর্থ হওয়ার তালিকাটি এখানেই শেষ নয়। সম্প্রতি শেষ হওয়া পাকিস্তান প্রিমিয়ার লিগে তার দল মুলতান সুলতানস্ পয়েন্ট তালিকার সর্বনিম্ন দল হয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করেছে। যেখানে সরফরাজের অধিনায়কত্বে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্স।

তবে এই সুযোগে প্রায় দু’বছর পর দলে ডাক পেয়েছেন উমর আকমল। ২০১৭ সালে চ্যাম্পিয়নস কাপের মাঝে ফিটনেস টেস্টে পাস করতে ব্যর্থ হওয়ায় তাকে দেশে ফেরত পাঠায় পাকিস্তান। এরপর আর দলে সুযোগ পাননি তিনি। এর মাঝে একই সালের সেপ্টেম্বরে কোচের সাথে ঝগড়া করে বাদ পড়েছেন বোর্ডের চুক্তি থেকেও। এর আগে কখনোই নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি উমর। এই দ্বিতীয় সুযোগকে কতটুকু কাজে লাগাবেন, সেটা তিনিই ভালো জানেন।

পাকিস্তান দলে ডেকেছে দুই নতুন ব্যাটসম্যান আবিদ আলি এবং সাদ আলিকে। দলে সুযোগ পেয়েছেন ১৮ বছর বয়সী পেসার মোহম্মদ হাসনাইন, যিনি কোয়েটার হয়ে পিসিএল কাঁপিয়েছেন।

গত এক বছরে কোনো ওয়ানডে হয়নি সারজাহ্‌তে। কিন্তু পিচ যথেষ্ট শুকনো। তাই স্পিনাররা এই সিরিজে বড় ভূমিকা রাখবেন, তা আগেই বলে দেয়া যায়। এদিক থেকে বেশ ভালো অবস্থানে আছে অস্ট্রেলিয়া। লেগ স্পিনার অ্যাডাম জম্পা এবং অফস্পিনার নাথান লায়ন দুজনেই ফর্মে আছেন। দুজনেই ভারতের বিপক্ষে জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন।

অস্ট্রেলিয়ার জন্য মূল সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে এক ধরণের পেটের অসুখ। এই অসুখের কারণে প্রথম ওয়ানডেতে ম্যাক্সওয়েলকে নাও পেতে পারে তারা। লায়নও দুদিন অনুশীলনে যোগ দিতে পারেননি এই অসুখের কারণে।

পাকিস্তানকে অবশ্য আশা দেখাচ্ছে ইতিহাস। সারজাহ্‌র এই মাঠে ২০১৫ সালের পর কোনো সিরিজ হারেনি তারা। জিম্বাবুয়ে, শ্রীলঙ্কার পাশাপাশি নিউজিল্যান্ডের মতো দলকেও ১-১ ফল নিয়ে ফিরে যেতে হয়েছে এই মাঠ থেকে।

পাকিস্তানের সম্ভাব্য একাদশ: ইমাম উল হক, শান মাসুদ, উমর আকমল, হ্যারিস সোহেল, সোয়েব মালিক(অধি.), মোহম্মদ রিজওয়ান(উই.), ফাহিম আশরাফ, ইমাদ ওয়াসিম, ইয়াসির শাহ, মোহম্মদ আমির, মোহম্মদ হাসনাইন।

অস্ট্রেলিয়ার সম্ভাব্য একাদশ: উসমান খাঁজা, অ্যারন ফিঞ্চ(অধি.), পিটার হ্যান্ডসকম্ব, শন মার্শ, মার্কাস স্টয়নিস, অ্যাশটন টার্নার, অ্যালেক্স ক্যারি(উই.), জয়ি রিকার্ডসন, প্যাট কামিন্স, নাথান লায়ন, অ্যাডাম জম্পা।

print