বিশেষজ্ঞ মত : আগে তদন্ত পরে ফারমার্সকে মূলধন যোগান

farmers-bank20160113132439.jpg

নিজস্ব প্রতিবেদক : মূলধন সহায়তা দেয়ার আগে ফারমার্স ব্যাংককে যারা ডুবিয়েছে তদন্ত করে তাদের শাস্তি নিশ্চিত করা উচিত বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদ ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তারা। কোন ভাবেই জনগণের করের অর্থ বেসরকারি ব্যাংককে বাঁচাতে ব্যবহার হতে পারে না উল্লেখ করে তাদের পরামর্শ, দোষীদের শেয়ার বাজেয়াপ্ত করে তা সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করা যেতে পারে।

খেলাপি ঋণ, নামে বেনামে ঋণ দেয়া, ঋণ সীমা অতিক্রম করে ঋণ বিতরণ, ঋণের বিপরীতে কমিশন নেয়া, লোকবল নিয়োগে ঘুষ লেনদেনসহ বিভিন্ন অনিয়ম হয়েছে ফারমার্স ব্যাংকে। এসব অনিয়মের পিছনে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীর এবং নিরীক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক চিশতীর নাম ওঠে আসছে। গেল বছরের শেষ দিকে দুজনকেই পরিচালনা পর্ষদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

অনিয়মের কারণে ডুবতে বসা ফারমার্স ব্যাংক এখন আমানতকারীদের চাহিদামত অর্থ পরিশোধেও ব্যর্থ হচ্ছে। কার্যত দেউলিয়া হওয়ার পথে থাকা ব্যাংকটিকে উদ্ধার করতে সরকার মূলধন যোগান দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। এ বিষয়ে মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকে সরকারি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান আইসিবি ও চারটি রাষ্ট্রয়ত্ব ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহীদের সাথে বৈঠক করেন গভর্নর ফজলে কবির।

এত দিন সরকার রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকগুলোর জন্য বাজেটে অর্থ বরাদ্দ রেখে পুনর্মূলধন যোগান দিয়ে আসছে। এবারই প্রথম বেসরকারি কোন ব্যাংককে বাঁচাতে চাইছে সরকার। সরকারে এই অর্থ ব্যয় কোন ভাবেই আইন সম্মত হবে না বলে মনে করেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ। এই সহায়তার ফলে দুর্নীতিগ্রস্থ অন্য ব্যাংকগুলো উৎসাহী হবে বলে মনে করেন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান।

যদি শেষ পর্যন্ত ব্যাংকটিকে উদ্ধার করার জন্য সরকারি অর্থ ব্যবহার করতেই হয়, সেক্ষেত্রে শেয়ার বিক্রি করে মালিকানা পরিবর্তন করা যেতে পারে বলে মনে করেন খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ। অভিযুক্তদের ব্যাংকের পরিচালক পদ থেকে সরিয়ে দিলেও তাদের শেয়ার রয়েছে ফারমার্স ব্যাংকে। এক্ষেত্রে ঐ শেয়ার বাজেয়াপ্ত করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। আর মোস্তাফিজুর রহমান মনে করেন, একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে ব্যাংকটির দুরদশার কারণ বের করতে হবে। এরপর দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করে সরকার ব্যাংকটিতে সহায়তা করতে পারে।

ব্যাংকিং খাত অত্যন্ত স্পর্শকাতর উল্লেখ করে সিপিডির সাবেক এই নির্বাহী পরিচালক বলেছেন, আর্থিক খাতের চলমান পরিস্থিতি উত্তরণে একটি কমিশন গঠনের এখনই উপযুক্ত সময়। বহু দিন ধরে এ বিষয়ে সিপিডি দাবি জানিয়ে আসলেও তা কর্ণপাত করা হয়নি উল্লেখ করে মোস্তাফিজু রহমান বলেন, এখন যদি কমিশন গঠন না হয় তাহলে কবে হবে। আর এই ধরনের মূলধন যোগানের বিষয়টি বেসরকারি ব্যাংকের ক্ষেত্রে অন্য মাত্রা নিয়ে আসবে। এ বিষয়ে সরকার একটি নীতিমালা তৈরি করতে পারে। ব্যাংককিং খাতে সুশাসন না থাকলে সার্বিক অর্থনীতিই ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে তার আশঙ্কা।

 

Share this post

scroll to top