মাশরাফির জন্যেই চেষ্টা করবে বাংলাদেশ: মুশফিক

mushfiq.jpg

স্পোর্টস রিপোর্টার: কয়েকদিনের মাঝেই ইংল্যান্ডের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়বে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। বিশ্বকাপ নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হচ্ছেন তাই অনেকেই। গতকাল যেমন আসলেন মুশফিকুর রহিম। তার কথায় অনেকটাই বোঝা গেল, কিভাবে নিজেদের সামর্থ্য নিয়ে তুমুল আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলেছে টাইগাররা। বড় কিছুর লক্ষ্যেই এবার দেশ ছাড়তে চান তারা। চান মাশরাফির শেষ বিশ্বকাপটিকে স্মরণীয় করে রাখতে। সে প্রশ্নোত্তর পর্বের নির্বাচিত অংশ দেয়া হলো এখানে:

প্রশ্ন: বাংলাদেশের চারজন ক্রিকেটারের চতুর্থ বিশ্বকাপ এটি। অভিজ্ঞতাকে ব্যবহার করে বাংলাদেশ সেরা পারফর্মেন্স বের করে আনতে কতটুকু প্রস্তুত?

মুশফিক: বিশ্বকাপ অনেক বড় মঞ্চ। আমরা চারজন চতুর্থ বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছি। আমরা চাই শেষ পর্যন্ত খেলে এই বিশ্বকাপটিকে স্মরণীয় করে রাখতে। আমার মনে হয় না এটি অসাধ্য কিছু। তবে যেকোনো কিছুই সহজে পেয়ে গেলে সেটার মজাটা থাকে না আর। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, আমাদের সামর্থ্য আছে নকআউট পর্বে যাওয়ার।

প্রশ্ন: দলের সামনের সারির বোলারদের প্রত্যাশা পূরণ সম্ভব বলে মনে করেন?

মুশফিক: আমার মনে হয় তাদের সামর্থ্যের অভাব নেই। গত দু-তিনটা সিরিজে সাইউদ্দিন, মোস্তাফিজ অনেক ভালো করেছে। বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টগুলো থেকেই ম্যাচ উইনার বের হয়ে আসে। আমাদের মাঝে দু-তিনজন বোলার আছে, যারা ইংলিশ কন্ডিশন একটু হলেও জানে। সেখানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বোলিং ইউনিট হিসেবে খেলা।

প্রশ্ন: ইংল্যান্ডে বড় স্কোর গড়ে তুলতে আপনারা প্রস্তুত?

মুশফিক: ইংল্যান্ডে উইকেটগুলো বেশ ফ্ল্যাট ধরণের থাকে। তিনশ প্লাস স্কোর যেকোন মাঠে হয়। আমরাও সেভাবে প্র্যাকটিস করছি। যাতে স্ট্রাইক রেটটা উচুতে থাকে। ফলে ৩৩০ বা ৩৫০ ছাড়ালেও যাতে আমরা সফলভাবে তাড়া করতে পারি। অথবা এমন রান তুলতে পারি, যাতে বোলিং করে প্রতিপক্ষকে আটকে ফেলা যায়।

প্রশ্ন: বিশ্বকাপে আপনার কোনো সেঞ্চুরি নেই। এটাই কি সেই মঞ্চ যেখানে আপনি ক্যারিয়ার সেরা পারফর্মেন্স দেখাতে চান?

মুশফিক: অবশ্যই। এমন একটি টুর্নামেন্টে সবাই ভালো খেলতে চায়। তবে বড় বড় চ্যালেঞ্জ আছে। কন্ডিশন, প্রতিপক্ষ। অনেক দর্শক। সবকিছু মিলিয়ে এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ চতুর্থবারের মতো আমি বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছি। শেষ তিনটি বিশ্বকাপে রান করেছি। কিন্তু তাও আমার একটি ব্যক্তিগত লক্ষ্য আছে। এই বিশ্বকাপে আমি অতীতের সবকিছু ছাপিয়ে যেতে চাই।

প্রশ্ন: আপনাদের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের জন্য বিশ্বকাপ চাপ হয়ে দাঁড়ায়, নাকি অনুপ্রেরণা?

মুশফিক: আন্তর্জাতিক প্রতিটি ম্যাচেই চাপ থাকে। আপনি এখানে আপনার দেশকে প্রতিনিধিত্ব করছেন। আপনি চাইলেই বলতে পারবেন না একদিন খেলব, আরেকদিন খেলব না। এটি অনেক গর্বের এবং সম্মানের। আমি সবসময় এরকম মনে করি। মাশরাফি ভাই যদি পরের বিশ্বকাপে না খেলতে পারেন, এটিই হয়তো তার সাথে আমাদের শেষ বিশ্বকাপ। আমরা সবাই চাইবো তার জন্য হলেও বিশেষ কিছু করতে। যেটা স্মরণীয় করে রাখবে এই বিশ্বকাপকে।

প্রশ্ন: হাই স্কোরিং ম্যাচে কিভাবে ব্যাট করতে চাচ্ছেন?

মুশফিক: স্ট্রাইক রেট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে আমরা ৩২০ রান করেও ইংল্যান্ডের কাছে হেরে গেছি। এগুলো প্রমাণ করে যে এসব উইকেট ৩৫০-৩৬০ রান করা দরকার। আমরা টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানরা সেটাই চিন্তা করছি।

প্রশ্ন: কোন দলগুলো বাংলাদেশের জন্য বড় বাধা?

মুশফিক: যে কোনো দল। সেটা আফগানিস্তানও হতে পারে। ভারত-পাকিস্তান বা অন্য যেকোনো দলই কঠিন। আবার আমরা ভালো খেললে যেকোনো দলকে হারাতে পারি। আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলো সব ম্যাচে সব বিভাগে ভালো খেলা। ধারাবাহিকতা ধরে রাখা।

প্রশ্ন: এখন তো ওয়ানডেতে চারশ’ রানের উপরে স্কোর হয়। যারা রান তাড়া করে তারাও কাছাকাছি পৌছে যায়। বাংলাদেশ বড় রানের ক্ষেত্রে কী ভাবছে?

মুশফিক: রাতারাতি আমাদের মাঝে থেকে ক্রিস গেইল, পোলার্ড বা রাসেল বের হয়ে আসতে পারবে না। রশিদ খানও নয়। আমাদের যা আছে তা নিয়েই আমরা ওয়েস্ট ইন্ডিজকে তাদের মাটিতে হারিয়েছি। অথছ পাওয়ার হিটিংয়ে কিন্তু তাদের মতো ক্রিকেটার আমাদের নেই। আমাদের নিজস্ব কিছু জায়গা আছে যেখানে আমরা ভালো। কৌশল ব্যবহার করতে পারলে আমরা অনেক ভালো একটি দল। আমরা হয়তো ছয় বেশি মারতে পারবো না, তবে চার তো পারবো। ব্যাটিংয়ে ১০-১৫ রান বেশি করে তা ফিল্ডিংয়ে ঠেকাতে পারবো।

প্রশ্ন: বিশ্বকাপের এই ফরম্যাট কতটা কঠিন মনে হচ্ছে?

মুশফিক: আগে দেখা গেছে, আমরা কঠিন গ্রুপে পড়েছি। তখন মনে হয়েছে এই গ্রুপে না পড়লে ভালো হতো। এটা কঠিন ফরম্যাট সত্যি। কিন্তু এখানে সুবিধাও আছে। বাংলাদেশও আর আগের মতো নেই। আমার কাছে আমরা বেশ বড় দল। এই ফরম্যাটকে আমরা স্বাগত জানাই। এই ফরম্যাটে ভালো খেলেই আমরা পরের ধাপে যেতে পারবো।

Share this post

scroll to top