দক্ষিণ আফ্রিকার সিরিজ জয় নাকি শ্রীলঙ্কার সমতা?

রাহিন ফাইয়াজ: ক্রিকেট কখনো কখনো কোনো রোমাঞ্চকর থ্রিলারের মতো অভিজ্ঞতা দেয়। দক্ষিণ আফ্রিকা এবং শ্রীলঙ্কার প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি ছিল ওরকম একটি থ্রিলার গল্পের মতো। দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য এই ম্যাচ এক মিশ্র অভিজ্ঞতা। দ্বিতীয় ইনিংসের ১৬ ওভার পর্যন্ত এই ম্যাচে শ্রীলঙ্কার কোনো সুযোগ আছে, এ কথা ঘুর্নাক্ষরেও ভাবা যাচ্ছিল না। কিন্তু ২৪ বলে ১৮ রানের সহজ সমীকরণটাই মেলাতে পারেনি প্রোটিয়ারা। তবে সুপার ওভারে মিলার এবং তাহিরের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি শ্রীলঙ্কা।

এবার আর সে ভুল করতে চায় না দক্ষিণ আফ্রিকা। ওয়ানডে বিশ্বকাপের বছরে টি-টোয়েন্টি সিরিজের গুরুত্ব খুব বেশি নেই। কিন্তু টানা জয়ের মাঝে যে আত্মবিশ্বাস এবং মনোবল খুঁজে পাওয়া যায়, সেটা হারাতে চায় না প্রোটিয়ারা। তাই শ্রীলঙ্কাকে আর কোনো সুযোগ না দিয়েই টি-টোয়েন্টি সিরিজও নিজেদের পকেটে পুড়তে চায় তারা।

শ্রীলঙ্কার অবস্থাটা আবার একদমই উল্টো। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজটি জিতলেও সীমিত ওভারের ম্যাচে এসেই অসহায় আত্মসমর্পণ। যা গত দেড় বছর ধরে ওয়ানডেতে লঙ্কানদের জন্য নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। বিশ্বকাপের আগে নিজ দেশে এতটাই চাপের মুখে আছে যে শ্রীলঙ্কান বোর্ড সিরিজের মাঝপথে ডেকে পাঠিয়েছে কোচ চান্দিকা হাথুরুসিংহেকে। উদ্দেশ্য, হাথুরুর বিশ্বকাপ পরিকল্পনা সম্পর্কে কথা বলা।

এই পরাজয়ের গোলকধাঁধা থেকে বের হতে মরিয়া লঙ্কানরা। শুক্রবার রাত ১০টায় শুরু হতে যাওয়া সিরিজের টি-টোয়েন্টির আগে মনে হচ্ছে, এটাই তাদের সামনে সবচেয়ে বড় সুযোগ। আজকের ম্যাচে যে বলতে গেলে নিজেদের দ্বিতীয় সারির দলটিকেই নামাবে দক্ষিণ আফ্রিকা। সিরিজের দ্বিতীয় এবং তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে বিশ্রাম পেয়েছেন অনেকেই। অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসি নেই। অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করবেন জেপি ডুমিনি। থাকছেন না কুইন্টন ডি কক এবং কাগিসো রাবাদা। গত ম্যাচের নায়ক ইমরান তাহিরকেও আজ পাচ্ছে না প্রোটিয়ারা।

তবে এই ক্রিকেটারদের না থাকা তরুণ তুর্কিদের সামনে সুযোগের দ্বার খুলে দিতে যাচ্ছে। দক্ষিণ আফ্রিকাও এই নবীনদের পরীক্ষা করতেই বিশ্রাম দিয়েছে সিনিয়র খেলোয়াড়দের। ডি কক থাকবেন না বলে আজকে নিশ্চিতই সুযোগ পাচ্ছেন আইডেন মার্করাম। তাবারেজ সামসি, সাইনথেম্বা কাশিল, লুথো সিমপালার মতো ক্রিকেটাররাও আজকের ম্যাচে সুযোগ পেতে পারেন। এদের মধ্যে কারা শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের দলে সুযোগ পাবেন, সে উত্তর বলে দিবে সামনের দুটো ম্যাচই।

গত ম্যাচটি ছিল বোলারদের। ব্যতিক্রম ছাড়া বেশিরভাগ ব্যাটসম্যানই ব্যর্থ হয়েছেন আগের ম্যাচে। শুধু শ্রীলঙ্কান ব্যাটসম্যান কামিন্দু মেন্ডিস এবং ডেভিড মিলার ছাড়া চল্লিশোর্ধ্ব রান করতে পারেননি কেউই। শ্রীলঙ্কার শক্তিও এই বোলাররাই। বিশেষ করে লাসিথ মালিঙ্গা। ইনজুরি এবং বয়সের ভারে বোলিংয়ে নিজের দুর্দান্ত গতি হারালেও সে অভাব মিটিয়ে নিয়েছেন নিখুঁত লাইন এবং লেন্থের মধ্যে দিয়ে। গত ম্যাচে চার ওভারে মাত্র ১১ রান দিয়ে তুলে নিয়েছেন দুটি উইকেট। ম্যাচের ১৯তম ওভারে মাত্র ১ রান দিয়ে শেষ বলে তুলে নিয়েছেন একটি উইকেট। তাতেও ঘুরে গিয়েছে ম্যাচের মোড়।

দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ভালো বোলিং করেছেন আন্দিলে ফিকোয়াও। নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে গত ম্যাচেও তুলে নিয়েছেন ৩টি উইকেট। মাত্র ২৫ রান দিয়ে। তার সাথে ব্যাটিও তিনি প্রোটিয়াদের বড় ভরসা।

প্রোটিয়াদের সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে ইনজুরিও। গত ম্যাচেই চোটে পড়েছেন পেসার লুঙ্গি এনজিডি এবং এনরিক নর্টে। এই সিরিজে তো নয়ই, এই দুজন খেলতে পারবেন না আইপিএলেও।

ইতিহাস বলে, সেঞ্চুরিয়নের পিচ সবসময়ই ব্যাটিংবান্ধব। তাই আজকে প্রথম টি-টোয়েন্টির মতো লো স্কোরিং ম্যাচ না হওয়ারই সম্ভাবনা বেশি। কিন্তু একই পিচে দ্বিতীয় ওয়ানডে খেলার সময় দেখা গেছে, পিচ বেশ শুকনো। তাই ২৫১ রান করেও সেই ওয়ানডেতে দক্ষিণ আফ্রিকা ১৩১ রানে জিতেছিল। একইরকম পিচ হলে আজকেও বোলারদের প্রতিপত্তি বেশি থাকবে।

দক্ষিণ আফ্রিকার সম্ভাব্য একাদশ: আইডেন মার্করাম, রেজা হেন্ড্রিকস, রেসি ভ্যান ডার ডুসেন, জেপি ডুমিনি, ডেভিড মিলার, ডোয়াইন প্রেটোরিয়াস, আন্দিলে ফিকোয়াও, ক্রিস মরিস, এনরিক নর্টে, লুথো সিমপালা, তাবারেজ সামসি।

শ্রীলঙ্কার সম্ভাব্য একাদশ: নিরোশান ডিকওয়েলা, সাদিরা সামারাউইকরামা, কুশাল মেন্ডিস, কামিন্দু মেন্ডিস, অ্যাঞ্জেলো পেরেরা, থিসারা পেরেরা, ধনন্ঞ্জয়া ডি সিলভা, ইসুরু উদানা, আকিলা ধনন্ঞ্জয়া, লাসিথ মালিঙ্গা, জেফরি ভ্যান্ডার্সি

print