ট্রাম্পের আদেশের প্রতিক্রিয়া : বিমানবন্দরে আটকা পড়ছেন ৭ মুসলিম দেশের যাত্রীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক : মুসলিমপ্রধান সাত দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের প্রতিক্রিয়া দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। বিশ্বের বিভিন্ন বিমানবন্দরে নিষিদ্ধঘোষিত দেশগুলোর যাত্রীদের যুক্তরাষ্ট্রমুখী বিমানে উঠতে দেয়া হচ্ছে না। অনেককে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরগুলোতে আটক করা হচ্ছে।

বৈধ ভিসা থাকা সত্বেও মিশরের এক বিমানবন্দরে কমপক্ষে সাতজন ইরাক ও ইয়েমেন থেকে আসা লোককে আমেরিকাগামী বিমানে উঠতে দেয়া হয়নি। ট্রাম্পের আদেশের পর এই সাত দেশের নাগরিকরা যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতিপ্রাপ্ত বা গ্রিনকার্ডধারীও হলেও যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকলে তাদের আর সেদেশে ঢুকতে দেয়া হবে না।

এদিকে, নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরসহ যুক্তরাষ্ট্রের কিছু বিমানবন্দরে কয়েকজনকে আটক করার পর মার্কিন আইনজীবীদের একটি দল ট্রাম্পের আদেশের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

শুক্রবার মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাটিসের শপথ অনুষ্ঠানের পর অভিবাসনবিষয়ক নির্বাহী আদেশে সই করেন ট্রাম্প। এই আদেশ অনুযায়ী আগামী ১২০ দিন যুক্তরাষ্ট্রে কোনো শরণার্থী ঢোকার সুযোগ পাবেন না। সিরিয়ার ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা অনির্দিষ্টকালের জন্য। ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশে বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সিরীয় শরণার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে পারবেন না। এছাড়াও ছয়টি মুসলিম প্রধান দেশের নাগরিক ও অভিবাসীদের আগামী ৯০ দিন কোনো ভিসা দেয়া হবে না। দেশগুলো হচ্ছে- ইরান, ইরাক, লিবিয়া, সোমালিয়া, ইয়েমেন ও সুদান। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর বলেছে, এই নিষেধাজ্ঞা সাথে সাথে বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।

কথিত উগ্রবাদী মুসলিম সন্ত্রাসীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ঠেকাতেই এই আদেশ বলে জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আমি তাদেরকেই যুক্তরাষ্ট্রে আসতে দেবো, যারা এই দেশ ও দেশের মানুষকে গভীরভাবে ভালোবাসে। অন্যদের এখানে বসবাস করা কিংবা প্রবেশ করার কোনো অধিকার নেই।’ এক টিভি সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছেন, খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী কোন সিরিয়ান যদি যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় প্রার্থনা করে, তাহলে তা বিবেচনা করা হবে।

ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনী লড়াই চালানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রে বিশিষ্ট নাগরিকদের স্বাক্ষর সংগ্রহ চলছে। এতে ১২ জন নোবেল বিজয়ীও স্বাক্ষর করেছেন। ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে তারা বাড়াবাড়ি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। অভিবাসন নীতিতে এ জাতীয় কড়াকড়ি আরোপ করে সন্ত্রাস দমনে কার্যকর সমাধান পাওয়া যাবে না বলে তারা মনে করেন।

ট্রাম্পের এই আদেশে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে টেক জায়ান্ট গুগল ও মাইক্রোসফট। এই সাত দেশে কাজ করা দুই প্রতিষ্ঠানের সদস্যরা কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরবেন তা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। এই দেশগুলোর বহু দক্ষ প্রযুক্তিবিদ গুগল ও মাইক্রোসফটে কাজ করে বলে জানানো হয়েছে।

গুগল তাদের ভ্রমণরত কিছু কর্মীকে অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসতে বলেছে। ট্রাম্প নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করার পর গুগল বলছে, তাদের প্রায় শখানেক কর্মী এর শিকার হতে পারেন এবং আদেশটি কার্যকর হওয়ার আগেই তাদেরকে আমেরিকায় ফিরে আসতে বার্তা পাঠানো হয়েছে।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা আইওএম যুদ্ধ ও নিপীড়নের মুখে পালিয়ে আসা লোকদের সুরক্ষা দেয়া অব্যাহত রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহবান জানিয়েছে।

২০১৬ সালে ইরাক, ইরান, সিরিয়া, ইয়েমন, সুদান, সোমালিয়া এবং লিবিয়া থেকে ৩৬ হাজার ৭২২ জন শরণার্থী যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নেয়। এর মধ্যে সিরিয়া থেকে সর্বাধিক ১২ হাজার ৫৮৭ জন, ইরাক থেকে ৯ হাজার ৮৮০ জন, সোমালিয়া থেকে ৯ হাজার ২০ জন, ইরান থেকে ৩ হাজার ৭৫০ জন, সুদান থেকে ১ হাজার ৪৫৮ জন, ইয়েমেন থেকে ২৬ জন এবং লিবিয়া থেকে ১ জন শরণার্থী যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নিয়েছিল। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে যতো শরণার্থী এসেছে, তার ৪৩ ভাগই এসেছে এই সাত দেশে থেকে। (সূত্র : বিবিসি, সিএনএন, ইন্ডিপেনডেন্ট)

scroll to top