উন্নত দেশের স্বপ্ন পূরণে চ্যালেঞ্জ আছে : ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশের উন্নত দেশে যাবার স্বপ্ন পূরণে পরিবেশকে সুরক্ষা দিয়ে নগরায়ণ ও শিল্পায়ন এগিয়ে নিয়ে যাওয়া অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হবে বলে মনে করেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ মিলনায়তনে আয়োজিত, ‘বাংলাদেশে বিনিয়োগ : ভিশন ২০৪১ এর আলোকে চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে এ কথা বলেন তিনি।

ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, ২০৪১ সালে বাংলাদেশকে নতুন উচ্চতায় দেখতে চায় রাজনীতিবিদরা, তবে সেই গন্তব্যে যাবার কোন পথনকশা এখনো তৈরি হয়নি। বাংলাদেশে শিল্পায়ন ও নগরায়নের ক্ষেত্রে পরিবেশকে সুরক্ষা দিয়ে উন্নয়ন করা আগামীতে চ্যালেঞ্জ হবে। উদাহরণ হিসেবে তিনি, রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কথা বলেন। তবে আশার কথা হিসেবে তিনি বলেন, বাংলাদেশেও আন্তর্জাতিক মানের পরিবেশ সম্মত কারখানা আছে।

২০৪১ সালের কাঙ্খিত স্বপ্ন পূরণে শিল্পায়ন ও নগরায়নের ক্ষেত্রে বিকেন্দ্রীকরণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে অবকাঠামো উন্নয়ন পরিকল্পনার পরামর্শ দিয়েছেন ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। উদাহরণ হিসেবে তিনি রাজধানীর পূর্বাচলের ৩শ ফিট সড়কের কথা উল্লেখ করে বলেন, এই সড়কটি হবার পরই সেখানে অপরিকল্পিত ভাবে দোকানপাট গড়ে উঠছে। একসময় এগুলোর কারণে হয়তো এই সড়কের সুবিধা পুরোপুরি পাওয়া যাবে না।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সামনে বড় সুযোগ হিসেবে দেখা দিয়েছে জনসংখ্যার বেশির ভাগই তরুণ জনগোষ্ঠী হওয়া। এই ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্টের সুবিধা আগামী ৩০ বছর পাওয়া যাবে উল্লেখ করে ২০৪১ সালের স্বপ্ন পূরণে এসব তরুণদের জনশক্তিতে রূপান্তর করতে দক্ষতা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। এক্ষেত্রে শিক্ষার গুনগত মান বাড়ানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

দক্ষিণ কোরিয়ার উদাহরণ টেনে ওয়াহিদউদ্দিন বলেন, এই দেশটিও বাংলাদেশের মত জনবহুল উন্নয়নশীল দেশ। দক্ষিণ কোরিয়া প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন করে আজ এই পর্যায়ে এসেছে। একই সাথে তিনি ভারতের উদাহরণ টেনে বলেন, এক্ষেত্রে দক্ষিণ কোরিয়ার ব্যতিক্রম ভারত। দেশটি প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের শিক্ষার মান বাড়াতে না পারলেও উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে কিছু মান সম্মত প্রতিষ্ঠান করেছে যার সুফল পেয়েছে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে এগিয়ে যাবার ক্ষেত্রে।

বাংলাদেশের সামনেও সুযোগ হিসেব আছে তথ্যপ্রযুক্তি। ভবিষ্যতে উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে চাইলে এই খাতে বিনিয়োগ আরো বাড়াতে হবে বলে মনে করেন এই অর্থনীতিবিদ। এসময় তিনি আরো একটি সুযোগের কথা উল্লেখ করেন, তা হলো ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান। দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ যে অবস্থানে আছে সেখানে কানেকটিভির সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজের রাজস্ব আয় বাড়াতে পারে বাংলাদেশ।

ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশের মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি হচ্ছে সুযোগ পেলে তা কাজে লাগানো। সেই সাথে প্রযুক্তির সাথে খাপখাইয়ে নেয়া। বিশ্বের অনেক দেশের মানুষের মধ্যেই এই গুণ নেই। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এখানে বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন। বর্ষীয়ান এই বিশেষজ্ঞ বলেন, এ সব সুযোগই পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হবে যদি সুশাসনের ঘাটতি দূর করা যায়।

print