নতুন ভ্যাট হার বিদ্যুতের দাম বাড়াবে

নিজস্ব প্রতিবেদক : নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর হলে বিদ্যুতের দাম বেড়ে জীবনযাত্রার ব্যয় আরেক দফা বাড়বে। অন্যদিকে পণ্য উৎপাদন খরচ বেড়ে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা হারাবে ব্যবসা বাণিজ্য। এমন বিশ্লেষণ করে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও অর্থনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, বাজেট পাশের আগে বিদ্যুৎ ব্যবহারে ভ্যাটের বিষয়টি অর্থমন্ত্রীকে স্পষ্ট করতে হবে। এদিকে, বিদ্যুৎ ব্যবহারের ওপর পুরোপুরি ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে ভোক্তা অধিকার রক্ষা আন্দোলনকারী সংগঠন, ক্যাব।

ভ্যাটের হার নিয়ে ব্যবসায়ীদের তীব্র আপত্তির মুখেই প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন, পহেলা জুলাই থেকেই কার্যকর হচ্ছে নতুন ভ্যাট আইন। আইনে ভ্যাটের হার থাকছে অভিন্ন ১৫ শতাংশই। এই হারে ভ্যাট কার্যকর হলে বিদ্যুৎ ব্যবহারের খরচ বাড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিদ্যুৎ বিলের ওপর বর্তমানে ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট দিতে হয়। নতুন আইন কার্যকর হলে এই হার ১০ শতাংশ বেড়ে ১৫ শতাংশ হবে। অর্থাৎ ভ্যাট বাড়বে ৩ গুণ।

ধরা যাক, কোন মাসে কোন গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল ১ হাজার টাকা, বর্তমানে ৫ শতাংশ ভ্যাটসহ বিল দিতে হবে ১ হাজার ৫০ টাকা। যদি ১৫ শতাংশ ভ্যাট কার্যকর হয় তাহলে এই বিল বেড়ে হবে ১১শ ৫০ টাকা। এ প্রসঙ্গে ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. শামসুল আলম নিউজ অ্যান্ড নাম্বারসকে বলেন, বিদ্যুৎ বিল যে বাড়বে তাতে কোন সন্দেহ নেই। রাজস্ব বোর্ড যতই রেয়াতের কথা বলুক বাংলাদেশের বাস্তবতায় বিদ্যুৎ ব্যবহারে ভোক্তাদের অতিরিক্ত ব্যয় হবে বলেই তিনি বিশ্বাস করেন।

যদিও রাজস্ব বোর্ডের দাবি, উৎপাদন প্রতিষ্ঠানগুলো রেয়াত সুবিধা নিলে দাম বাড়বে না। দাম বাড়ানোর বিষয়টি অপ্রচার বলে মনে করে প্রতিষ্ঠানটি। ইউনিট প্রতি ৫ শতাংশের পরিবর্তে ১৫ শতাংশ ভ্যাট ধরে বর্তমান মূল্যই নতুন করে ঘোষণার জন্য বিদ্যুৎ বিভাগকে চিঠি দিয়েছে রাজস্ব বোর্ড। যদি দাম ঠিক রেখে ১৫ শতাংশ ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত করা হয়, তাহলে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম না বাড়লেও উৎপাদন প্রতিষ্ঠানগুলো লোকসানের মুখে পড়তে পারে।

এ প্রসঙ্গে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এর রিসার্চ ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান নিউজ অ্যান্ড নাম্বারসকে বলেন, এক্ষেত্রে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকার ভর্তুকি দেবে কিনা সে বিষয়টি স্পষ্ট করতে হবে। অর্থ বিল পাশ করার আগে এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছ থেকে সুস্পষ্ট ঘোষণা আশা করেছেন সিপিডির এই গবেষক। যদি ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত (ভ্যাট ইনক্লুসিভ) না হয় তাহলে সরাসরি ভোক্তার ওপরে ভ্যাট আরোপ হয়ে বিদ্যুতের বিল বাড়বে এবং এর প্রভাব পুরো অর্থনীতিতেই পড়বে বলে মনে করে সিপিডির এই গবেষক।

বিদ্যুৎ ব্যবহারের ওপর কোন ধরনের ভ্যাট রাখার পক্ষে নয় ভোক্তা অধিকার রক্ষা আন্দোলনকারী সংগঠন ক্যাব। বরং বিদ্যুৎ ব্যবহার করে উৎপাদিত পণ্যের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপের পক্ষে সংগঠনটি। ক্যাবের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. শামসুল আলম বলেন, তাদের সংগঠনের দাবি সেবা খাত বিশেষ করে পানি, গ্যাস, বিদ্যুৎসহ সব ধরনের জ্বালানি খাতে ভ্যাট প্রত্যাহার করা উচিত। বরং এসব ব্যবহার করে যে পণ্য উৎপাদন হয় তার ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ হলে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে বলে মনে করেন শামসুল আলম।

print