রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হবে না, এখনই বলে দেয়া যায় : মির্জ্জা আজিজ

AB-Mirza-Azizul-Islam-01.jpg

নিজস্ব প্রতিবেদক : আগামী অর্থবছরের জন্য রাজস্ব আদায়ের যে লক্ষ্য দিতে যাচ্ছে সরকার, তা পূরণ করা সম্ভব নয় বলে মনে করেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম। রাজস্ব সংগ্রহ বাড়াতে করের আওতা সম্প্রসারণের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। নতুন ভ্যাট আইন প্রসঙ্গে মির্জ্জা আজিজ বলেন, ব্যবসায়ীদের সক্ষমতা কম থাকায় এই আইন বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে সরকার। আগামী বছরের বাজেট নিয়ে নিউজ অ্যান্ড নাম্বারসের সাথে আলাপচারিতায় এসব কথা বলেন তিনি।

সরকারের রাজস্ব আয়ের সিংহভাগ যোগান দেয় রাজস্ব বোর্ড। চলতি অর্থবছরে ২ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, তার মধ্যে রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভাগে পড়েছে ২ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা। তবে এই পরিমাণ রাজস্ব আয় এনবিআরের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। তাতে বোর্ডের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা নেমে দাঁড়াতে পারে ১ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকায়। আর আগামী অর্থবছরের জন্য এনবিআরকে ২ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা দেয়া হতে পারে। অর্থাৎ সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আগামী বছরের জন্য রাজস্ব বোর্ডকে ৩৭ শতাংশ বেশি রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা দেয়া হতে পারে।

এই লক্ষ্যকে অতি উচ্চাশা বলে মনে করেন মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম। তিনি বলেন, বছরশেষে এই লক্ষ্যমাত্রা যে অর্জন হবে না, সেটা এখনই ধরে নেয়া যায়। তার মতে রাজস্ব আয় বাড়াত হলে কর প্রশাসনের দক্ষতা, জনবল ও তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়ন করতে হবে। সেই সাথে প্রয়োজন কর প্রশাসনের মধ্যে থাকা দুর্নীতি দূর করা। তাহলেই কেবল বাজেটের লক্ষ্য অনুযায়ী কর আহরণ সম্ভব হবে বলে মনে করেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের এই উপদেষ্টা।

১৬ কোটি জনসংখ্যার দেশে আয়কর দেয় মাত্র ১০ লাখ মানুষ। যদিও আয়করের জন্য ইলেকট্রনিক টিনধারীর সংখ্যা এ বছর ২৭ লাখে পৌঁছেছে। অন্যদিকে ৮ লাখের বেশি প্রতিষ্ঠান ভ্যাট দেয়ার জন্য নিবন্ধন করলেও রিটার্ন জমা দেয় মাত্র ৩২ হাজার। সকল নিবন্ধনধারীদের কাছ থেকে কর আদায় করতে পারলে রাজস্ব আয় অনেক বাড়বে বলে মনে করেন মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম। তিনি বলেন, নিবন্ধনধারীদের নাম-ঠিকানাতো আছেই। তাদের কাছ থেকে কর আদায় তাই অনেক সহজ কাজ।

রাজস্ব আয় বাড়াতে পহেলা জুলাই থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভ্যাট আইন। পণ্যভেদে চাহিদা ভিন্ন হওয়ায় অভিন্ন হারে ভ্যাট কার্যকর করা কতোটা সফল হবে তা নিয়ে সন্দিহান মির্জ্জা আজিজ। তার মতে, বাংলাদেশে যেসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে তাদের পক্ষে নিয়মিত ও সঠিক হিসাব-নিকাশ করা সম্ভব নয়। এজন্য তাদের যে বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হবে, সেই সক্ষমতা অনেকেরই নেই। ফলে তারা তাদের জন্য নির্ধারিত রেয়াত সুবিধা নিতে পারবে না।  ফলে অনলাইন ভ্যাটের যে প্রকৃত সুবিধা পাওয়ার কথা তা হয়তো পাওয়া যাবে না।

Share this post

scroll to top