নতুন এডিপি মায়াজল : মির্জ্জা আজিজ

AB-Mirza-Azizul-Islam.jpg

নিজস্ব প্রতিবেদক : আগামী অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিকে মায়াজাল হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম। তার মতে, এতো বড় উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রশাসনিক দক্ষতা সরকারের নেই। পাশাপাশি এডিপির অর্থায়নও কঠিন হবে বলে তার ধারণা। বিনিয়োগ বাড়াতে বিদ্যুৎ খাতের চেয়ে গ্যাস সংকট নিরসনের উপর বেশি জোর দিয়েছেন তিনি। আগামী বাজেট নিয়ে নিউজ অ্যান্ড নাম্বারসকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন মির্জ্জা আজিজ।

সরকার এক বছরের জন্য যে উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে থাকে সেটিই বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বা এডিপি। প্রতি বছর যে এডিপি ঘোষণা করা, বাস্তবায়ন না হওয়ায় বছরের শেষ দিকে এসে তাতে কাটছাঁট করা হয়। এই প্রথম, চলতি অর্থবছরের উন্নয়ন কর্মসূচিতে কোনো কাটছাঁট হয়নি। চলতি অর্থবছর উন্নয়ন কর্মসূচির জন্য বাজেটে বরাদ্দ আছে ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ১০ মাসে ব্যয় হয়েছে বরাদ্দে অর্ধেকের কিছু বেশি, মাত্র ৫৪ শতাংশ। এমন প্রেক্ষাপটে আগামী অর্থবছরের জন্য ১ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকার এডিপি নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে মির্জ্জা আজিজ বলেন, চলতি অর্থবছরের বাকি দুই মাসে আরো ৪৬ শতাংশ এডিপি বাস্তবায়ন কিভাবে সম্ভব হবে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তিনি বলেন, আগের অর্থবছরগুলোতে সর্বোচ্চ ৯০ শতাংশ পর্যন্ত এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে। চলতি অর্থবছরেও তাই শতভাগ এডিপি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। আর আগামী অর্থবছরের জন্য যে এডিপি নির্ধারণ করা হয়েছে তাকে মায়াজাল হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নতুন এডিপিও বাস্তবায়ন করতে পারবে না সরকার।

আগামী অর্থবছরের এডিপিতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ পাওয়া খাতগুলোর একটি বিদ্যুৎ। এ খাতে ১৯ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বিদ্যুৎ খাত নিয়ে বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ১০ বছরে এ খাতে উৎপাদন সক্ষমতা বেড়েছে ১৬৭ শতাংশ, বিপরীতে সঞ্চালন সক্ষমতা বৃদ্ধির হার মাত্র ৩০ শতাংশ। তাতে নীট ফল হচ্ছে, উৎপাদন বাড়লেও মানুষকে নিয়মিত বিদ্যুৎ বিভ্রাটে বিপর্যস্ত হতে হচ্ছে। উৎপাদন ও সঞ্চালনের মধ্যে এই অসামঞ্জস্য দূর করার পরামর্শ দিয়েছেন মির্জ্জা আজিজ।

বিদ্যুৎ সঞ্চালনে সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করতে শিল্প খাতের উন্নয়নের জন্য গ্যাসের সংকট নিরসনে বিশেষ নজর দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম। সাবেক এই অর্থ উপদেষ্টা মনে করেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে যে দুর্নীতি আর অপচয় হয়, তা বন্ধ করতে পারলে উন্নয়নের সুফল পুরোটা পাওয়া সম্ভব।

Share this post

scroll to top