বেসরকারি ব্যাংকগুলো আবার পরিবারতন্ত্রে ফিরে যাচ্ছে : ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ

Wahiduddin-Mahmud.jpg

নিজস্ব প্রতিবেদক : আগামী অর্থবছরের বাজেটেও সরকারি ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি মেটাতে বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। এই বরাদ্দ অনৈতিক বলে মনে করেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। তার মতে, বছরের পর বছর দেয়া এই বরাদ্দ সরকারি ব্যাংকগুলোকে বরং আরো রুগ্ন করছে। সরকারের উচিত ব্যাংকগুলোর দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি সুশাসনের ঘাটতি পূরণে নজর দেয়া। আগামী বাজেট নিয়ে নিউজ অ্যান্ড নাম্বারসের সাথে একান্ত আলোচনায় এসব কথা বলেছেন ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ।

অর্থনীতির সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ব্যাংকের সংখ্যা। প্রত্যাশা ছিল, সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আর্থিক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। দিনকে দিন বাড়ছে খেলাপি ঋণের পরিমাণ। ২০১৫ সালের তুলনায় ২০১৬ সালে খেলাপি ঋণ বেড়েছে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা। অর্থনীতির জন্য এটি দু:সংবাদ বলে মনে করেন অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ।

তিনি বলেন, এক সময় ব্যাংকগুলোতে সুশাসন ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। খেলাপি ঋণ নিম্নতম পর্যায়ে নেমে এসেছিল। বেসরকারি ব্যাংকের পরিচালকরা যেখানে নিজ ব্যাংকের মোট আমানতের ৩০ শতাংশই ঋণ নিয়ে নিতো, সেটাকে ৩ শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘এখন মনে হচ্ছে আমরা আবার উল্টো দিকে হাঁটছি। কষ্ট করে আমরা যা অর্জন করেছিলাম, তা বিলিন হতে চলেছে।’

গেল বছর মোট খেলাপি ঋণের অর্ধেকই ছিল রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকগুলোর, যার পরিমাণ ৩১ হাজার কোটি টাকা। খেলাপি ঋণ বাড়ায় ব্যাংকগুলো মূলধন সংকটে পড়ে। এই সংকট মোকাবেলায় প্রতি বছরই রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকগুলোকে বাজেটের মাধ্যমে মূলধন বরাদ্দ দেয়া হয়। এক সময় এই বরাদ্দ ৫ হাজার কোটি টাকা থাকলেও নতুন অর্থবছরে তা দুই হাজার কোটি টাকা রাখা হবে বলে শোনা যাচ্ছে। ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, এটা অনভিপ্রেত। অনৈতিক। এসব ব্যাংককে জনগণের টাকায় বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা ঠিক নয়।

এক্ষেত্রে অবশ্য আমানতকারীদেরও দোষ রয়েছে বলে মনে করেন নব্বইয়ের দশকে গঠিত ব্যাংকিং কমিশনের প্রধান ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। তিনি মনে করেন, ‘বিশ্বের অন্য কোনো দেশের কোনো সরকারি ব্যাংকের এমন মূলধন ঘাটতি হলে আমানতকারীরা সেই ব্যাংক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতো। যেহেতু আমাদের দেশের আমানকারীরা ব্যাংক ছেড়ে যাবে না, তাই তাদের আমানত সুরক্ষিত করতে সরকার মূলধনের যোগান দিতে বাধ্য হচ্ছে।’ এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে বলেই তার ধারণা।

সরকার ব্যাংক কোম্পানি আইন পরিবর্তন করে একই পরিবারের চারজন পরিচালক এবং একজন পরিচালকের টানা নয় বছর পরিচালনা পর্ষদে দায়িত্ব পালনের যে সুযোগ দিতে যাচ্ছে, তার সমালোচনা করেছেন ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ। তিনি বলেন, বিশ্বের কোথাও ব্যাংকে পরিবারতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কোনো নজির নাই। বাংলাদেশ এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। বিশিষ্ট এই অর্থনীতিবদ মনে করেন, সরকার আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে না পারলে বাংলাদেশের মধ্য মধ্যম আয়ের দেশে যাওয়ার স্বপ্ন পূরণ হবে না।

Share this post

scroll to top