দুর্নীতি সর্বত্র, ব্যাংক খাত ভেঙে পড়েছে

Paddy-17.jpg

দেশের সর্বত্র দুর্নীতিতে ছেয়ে যাওয়ায় আবারও তীব্র সমালোচনা করেছেন জাতীয় পার্টির সাংসদ কাজী ফিরোজ রশীদ। বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অবকাঠামো এত দুর্বল, এত দুর্নীতিগ্রস্ত যে তা দিয়ে কোনোভাবেই এ বাজেট বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।
স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে ২০১৪-১৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে গতকাল রোববার সংসদে বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সদস্য এসব কথা বলেন। এর আগে চলতি ২০১৩-১৪ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনায় ৯ জুন প্রায় একই ধরনের অভিযোগ আনেন কাজী ফিরোজ রশীদ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সময় সংসদে উপস্থিত না থাকলেও রাতে তিনি সংসদে আসেন।
ফিরোজ রশীদ গতকাল বলেন, ব্যাংকিং খাতের দক্ষতা বৃদ্ধির কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী তাঁর বাজেটে। কিন্তু ব্যাংক খাতে নৈরাজ্য চলছে। দুর্নীতি সর্বত্র ছেয়ে গেছে। ব্যাংক খাত আজ তছনছ হয়ে ভেঙে পড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক, যাদের দায়িত্ব ব্যাংক খাত তদারক করা, তারা আজ দুর্নীতিতে ডুবে আছে। একশ্রেণির কর্মকর্তারা দুর্নীতিতে যুক্ত হয়ে পড়ার কারণে কারোর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। সোনালী ব্যাংকে লুটপাট হয়েছে। জনতা ব্যাংকে লুটপাট হয়েছে। বেসিক ব্যাংককে ধ্বংস করা হয়েছে। ভারতের সোমনাথ মন্দিরের পর এত বড় দুর্নীতি আর কোথাও হয়নি। সোনালী, জনতা, বেসিকে এত লুটপাট হওয়ার পরও দেখার কেউ নেই।
কাজী ফিরোজ বলেন, সোনালী ব্যাংকে লুটপাট হওয়ার পর অর্থমন্ত্রী সার্টিফিকেট দিলেন যে পরিচালনা পর্ষদ এর সঙ্গে যুক্ত নয়। ব্যাংক খাত থেকে ১১ হাজার কোটি টাকা লুটপাট করা হলো, কারোর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হলো না। পুঁজিবাজারে ধস নামল। কারা করল? লুটপাটের জন্য কাউকে আটকানো হলো না। কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হলো না। খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের নেতৃত্বে পুঁজিবাজার ধসের কারণ উদ্ঘাটনে কমিটি যে সুপারিশ করল, সেই রিপোর্টের কী হলো?
ফিরোজ রশীদ ৪৪ হাজার সরকারি প্লট বরাদ্দের সমালোচনা করে রাজউকের সাবেক একজন চেয়ারম্যানের নাম উল্লেখ না করে তাঁকেও ভাগের অংশীদার উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, রাজউকের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের নেতারা ভাগ-বাঁটোয়ারা করে খেয়ে ফেলেছেন। অথচ এই সাংসদ ও তাঁর ছেলে আবেদন করলে বলা হয়েছিল যে তিনি ভিন্ন দল করেন।
খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম অবশ্য বলেন, বাজেট বাস্তবায়নযোগ্য। তিনি আওয়ামী লীগের আমলে অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে অর্জন তুলে ধরে বলেন, দেশে কিছু জ্ঞানপাপী রয়েছেন, যাঁরা সত্য বলেন না, মিথ্যাকে প্রশ্রয় দেন। মন্ত্রী তারেক জিয়া ও তাঁর মা খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে বলেন, তাঁরা নতুন প্রজন্মকে মিথ্যার অন্ধকারে নিমজ্জিত করার নতুন কৌশল নিয়েছেন। তারেক জিয়া অর্বাচীন বালক, বেয়াদব। আর যাঁরা এই মিথ্যাচারকে প্রশ্রয় দিচ্ছেন, সেই জ্ঞানপাপীরা অর্বাচীন বালকের চেয়ে ভয়ংকর।
আওয়ামী লীগের সাংসদ আবদুর রহমান বলেন, ব্যাংক ঋণের সুদের হার বর্তমানে ১৭ শতাংশের বেশি। পৃথিবীর কোনো দেশে এত সুদহার নেই। আওয়ামী লীগের সাংসদ তারানা হালিম কৃষি খাতকে অগ্রাধিকার ও ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব করেন।
ন্যাপের সাংসদ আমিনা আহমেদ বলেন, ব্যাংকিং খাতের দুরবস্থার কথা অর্থমন্ত্রী বাজেটে এড়িয়ে গেছেন। জাতীয় পার্টির এম এ মান্নান বলেন, সোনালী, জনতা, বেসিক ব্যাংক থেকে আত্মসাৎ করা অর্থ উদ্ধারে বাজেটে কিছু বলা হয়নি। এই টাকা উদ্ধার করা না গেলে ব্যাংকগুলোর ওপর মানুষের আস্থা নষ্ট হবে।
সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী প্রমোদ মানকিন, যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়, আওয়ামী লীগ দলীয় সাংসদ সুবিদ আলী ভূঁইয়া, বেগম শিরিন নাঈম, মোসলেমউদ্দিন, বেগম রহিমা আক্তার, শামসুল হক ভূঁইয়া, জাতীয় পার্টির এম এ হান্নান, খোরশেদ আরা হক প্রমুখ বক্তব্য দেন।

Share this post

scroll to top