খানিকটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে পুঁজিবাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক : টানা পতনের পর বুধবার পুঁজিবাজার আবারো ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ঢাকায় সূচক আবারো ওঠে গেছে ছয় হাজারের ঘরে। তবে ঢাকায় লেনদেনে এখনো স্থবিরতা বিরাজ করছে। আজ বুধবারও লেনদেন ছয়শো কোটি টাকা ছাড়াতে পারেনি। ঢাকায় আজ সূচক বেড়েছে ৩৩ পয়েন্ট আর চট্টগ্রামে প্রায় ৫০ পয়েন্ট।

আজ বাজারে শেয়ার কেনার চাহিদা কিছুটা বেড়েছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। কয়েকটি প্রতিষ্ঠান লভ্যাংশ ঘোষণা করায় এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বাড়ায় বাজারে তার প্রভাব পড়েছে। তবে কার্যত স্থবির হয়ে আছে দুই বাজারের লেনদেনে। সূচকের উত্থান-পতন থাকলেও লেনদেনে খুব বেশি পরিবর্তন চোখে পড়ে না। শেয়ার কেনাবেচায় ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহণ না থাকলে লেনদেনে পরিবর্তন আসবে না বলে মনে করেন বাজার বিশ্লেষকরা।

সোমবার বড় পতনের পর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ছয় হাজারের নীচে নেমে যায়। বুধবার ৩৩ পয়েন্ট উত্থান দিয়ে এই সূচক ৬ হাজার ১ পয়েন্টে পৌঁছে গেছে। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক সিএসইএক্স ৪৯.৫৫ পয়েন্ট বেড়ে হয়েছে ১১ হাজার ২৩৯ পয়েন্ট।

বুধবার সূচকের উত্থান দিয়ে বাজার শেষ হলেও লেনদেন খুব একটা বাড়েনি। চট্টগ্রামের বাজারে লেনদেন স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে এসেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে মঙ্গলবার ৫৩৬ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। বুধবার তা কিছুটা বেড়ে ৫৮২ কোটি টাকা হয়েছে। চট্টগ্রামে মঙ্গলবার ১২৭ কোটি টাকার লেনদেন বুধবার ৩৩ কোটি টাকায় নেমে এসেছে।

বাজারে সূচকের উত্থানে বুধবার লেনদেন হওয়া প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বাড়ার সংখ্যা ছিল বেশি। এদিন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে ১৭৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেড়েছে, কমেছে ১১০টির আর অপরিবর্তিত ছিল ৪৮টির। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে দাম বেড়েছে ১৩৫টির, কমেছে ৭৭টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম।

এদিন দাম বাড়ার শীর্ষে ছিল তৈরি পোশাক, বস্ত্র, সিরামিক ও খাদ্য উৎপানকারী প্রতিষ্ঠান। দরপতনে ছিল সিরামিক, প্রকৌশল, কাগজ, অটোমোবাইল ও বিদেশি প্রতিষ্ঠান। ঢাকায় দাম বাড়ায় শীর্ষে ছিল বস্ত্র খাতের তাংহাই নিটওয়্যার এন্ড ডায়িং। আর দরপতনে ছিল প্রকৌশল খাতের কেএওয়াই এন্ড কিউইউই। চট্টগ্রামেও দর বাড়ায় শীর্ষে ছিল তাংহাই নিটওয়্যার। দরপতনে ছিল সিএপিএম বিডিবিএল মিউচ্যুয়াল ফান্ড।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, এক দশকের বেশি সময় ধরে পুঁজিবাজারে মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলো থাকলেও এগুলোর ব্যাপারে খুব বেশি আগ্রহী নন বিনিয়োগকারীরা। অথচ যারা নিরাপদ বিনিয়োগ করতে চান, তাদের জন্য এগুলোই হতে পারে সবচেয়ে আকর্ষণীয়। মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোকে আকর্ষণীয় করতে ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।

শেয়ার প্রতি আয় বাড়ার খবরে বুধবার লেনদেনের পুরোটা সময় জুড়ে চাঙ্গা ছিল গ্রামীণফোন। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) মুনাফা কমলেও শেয়ার প্রতি আয় ৪ টাকা ৭৮ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ৫ টাকা ১৬ পয়সা। বুধবার গ্রামীণের শেয়ারের দাম ৪৩৯.৬ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৪৪৫.৭ টাকা। গ্রামীণের মূলধন বেশি হওয়ায় এই প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দামের ওঠা-নামার পুঁজিবাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে।

print