ঐতিহাসিক জয়ে শুরু বাংলাদেশের

স্পোর্টস রিপোর্টার: বাংলাদেশের ইনিংসে যখন সাকিব-মুশফিক মাত্র দলকে ২০০ পার করালেন, তখনই জন্টি রোডসের টুইট-‘এবার বোধহয় দুশ্চিন্তার সময় এসেছে।’ খেলার তখনও অনেকটা বাকি থাকার পরেও মতান্তরে ক্রিকেট ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ ফিল্ডারের এমন টুইটের কারণটা চাপের মুখে দক্ষিণ আফ্রিকার ভেঙে পরার প্রবণতা। রোডস ঠিকই ছিলেন। তিন বিভাগেই বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রিত পারফর্মেন্স নিয়ে অত্যন্ত উচ্ছসিত সমর্থকরা ছাড়া হয়তো সবাই স্বীকার করবেন, বাংলাদেশের এই জয়ের পিছে অন্যতম কারণ দক্ষিণ আফ্রিকার চাপ সামলাতে না পারার ক্ষমতা। এবং অনেকটুকু ভাগ্য।

ভাগ্য আজ একদম শুরু থেকেই বাংলাদেশের পক্ষে। সুনির্দিষ্টভাবে বললে টসের সময় থেকেই। একদম ফ্ল্যাট পিচেও টস জিতে ফাফ ডু প্লেসিসের ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত, এবং ফলাফলে বাংলাদেশের আগে বড় স্কোর করে দক্ষিণ আফ্রিকাকে চাপে ফেলে দেয়া, যা পরে জয়ের অন্যতম কারণও হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রথমে ব্যাট করতে না পারলে আজ খেলার চেহারা অন্যরকমও হতে পারতো।

তবে ভাগ্য সব ম্যাচেই থাকে, এ পাশে না হলে ওপাশে। বাংলাদেশ যেভাবে খেলেছে, তাতে বড় দলেরই ছাপ বেরিয়ে আসে। শর্ট বলের হুমকি, আর ইমরান তাহিরের ঘুর্ণি, আজ এদুটোকেই অস্ত্র বানিয়ে মাঠে নেমেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। সেই কৌশলে দক্ষিণ আফ্রিকাকে যেভাবে মোকাবেলা করলো টাইগাররা, তা সন্তুষ্টি এনে দিয়েছে পুরো জাতিকেই। গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন ব্যাটিংয়ে নামা প্রায় প্রতিটি ব্যাটসম্যান। এমনকি সবচেয়ে কম ১৬ রান করা তামিমের ইনিংসটিও ওপেনিংয়ে জুটির মহা গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

এমন ব্যাটিংয়ে রেকর্ডও হয়েছে অনেকগুলো। তামিম-সৌম্যের ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে সাকিব-মুশফিকের ১৪২ রানের জুটি বিশ্বকাপে যেকোনো উইকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ। ৩৩০ রানের এই স্কোর ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চও। তখনই বাংলাদেশের জয়টা প্রায় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। হবে না কেন, এর আগে ৩৩১ রানের টার্গেট তাড়া করে যে করে কোনো দল জিততে পারেনি বিশ্বকাপে। সর্বোচ্চ ৩২৯ করে জিতেছিল আয়ারল্যান্ড, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে।

তবে অসাধারণ ব্যাটিংয়ের মাঝেও আফসোসের নাম সেঞ্চুরি। দারুণ ইনিংস বড় করতে পারার চেষ্টা আরো একটি ম্যাচে দীর্ঘশ্বাসই হয়ে আসলো বাংলাদেশের জন্য। সাকিব-মুশফিক যেভাবে খেলছিলেন, দুজনেই সেঞ্চুরি করে ফিরতে পারতেন। তারা পারলেন না কিন্তু ইমরান তাহির এবং শর্ট বল, দুটো অস্ত্রকেই দক্ষিণ আফ্রিকা কাজে লাগাতে পারলো সাকিব-মুশফিকের সেঞ্চুরি ঠেকাতে।

তামিম-সৌম্যের দারুণ শুরু, মুশফিক-সাকিবের শাসনের পর ব্যাটিংয়ে শেষটা অসাধারণ করার দায়িত্বটা নিজেদের উপর তুলে নিয়েছিলেন মাহমুদুল্লাহ-মোসাদ্দেক। দুজনের জুটিতে ৬৬ রান এসেছে। শেষ দশ ওভারে এসেছে ৮৬ রান।

তবে সামনের ম্যাচগুলোতে বাংলাদেশের দুশ্চিন্তার কারণটা হয়ে দাঁড়াতে পারে বোলিং। ফ্ল্যাট পিচ ছিল, দক্ষিণ আফ্রিকার বড় জুটিও দাঁড়ায় নি, তবে আজ বাংলাদেশের বোলিং বড়ই নির্বিষ মনে হয়েছে। বড় টার্গেট আর ক্রমাগত বড় হতে থাকা আস্কিং রান রেটটা বাংলাদেশের পাশে এসে আজ না থাকলে এই ম্যাচ জিতে আসা কঠিন হয়ে যেতো। তার সাথে ফিল্ডিংয়ে প্রায় শাস্তিযোগ্য কিছু ভুল তো আছেই। বোলিং এতটাই ছোবলহীন ছিল যে নিজের দশ ওভারের কোটাও পুরণ করতে পারলেন না মাশরাফি।

ব্যাটে বলে মিলিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কারটা গেছে সাকিব আল হাসানের কাছেই। ওয়ানডেতে দ্রুততম পাঁচ হাজার রান এবং ২৫০ উইকেট নেয়ার রেকর্ডটাও আজ করে নিয়েছেন নিজের।

print