আইপিএল তারকাদের ছাড়াই ট্রাইসিরিজের দল ঘোষণা করলো উইন্ডিজ

স্পোর্টস রিপোর্টার: উইন্ডিজের ত্রিদেশীয় সিরিজের দলে নেই কোনো আইপিএল তারকা। ক্রিস গেইল, আন্দ্রে রাসেল, কালোর্স ব্রাথওয়েট কিংবা শিমরন হেটমায়ারের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার ছাড়াই বাংলাদেশ এবং আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ খেলবে জেসন হোল্ডারের দল। দলে সুযোগ পেয়েছেন আগে কখনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ না খেলা রেমন রিফার, যিনি উইন্ডিজের নতুন কোচ ফ্লয়েড রিফারের আত্মীয়।

ভারপ্রাপ্ত কোচ রিচার্ড পাইবাসকে সরিয়ে রিফারকে কোচ বানানোর একদিন পরেই এল এই দলের ঘোষণা। রিচার্ড পাইবাসকে সরানোর সাথে সাথেই পুরো নির্বাচক প্যানেলকেও চাকরিচ্যুত করেছে ক্রিকেট উইন্ডিজ। ভারপ্রাপ্ত নির্বাচক প্যানেলের প্রধান নির্বাচক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন রবার্ট হেইনস। বোর্ডের সাথে আগে সেভাবে যুক্ত না থাকা হেইনস ক্যারিবীয়দের হয়ে আটটি আন্তর্জাতিক ওয়ানডে খেলেছেন।

এই মুহুর্তে নানা দলের হয়ে আইপিএলে খেলছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ছয়জন ক্রিকেটার। ক্রিস গেইল, আন্দ্রে রাসেল বাদে আরো আছেন শিমরন হেটমায়ার, কালোর্স ব্রাথওয়েট, ওশেন থমাস এবং নিকোলাস পুরান। এদের কাউকেই ট্রাইসিরিজে পাবে না উইন্ডিজ।

চমক হিসেবে দলে জায়গা পেয়েছেন শ্যানন গ্যাব্রিয়েল। টেস্টে গত বছর থেকে হিসেব করলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সবচেয়ে বেশি উইকেট শিকারী বোলার হলেও যিনি ২০১৭ সালের ডিসেম্বর থেকেই ওয়ানডে দলে ব্রাত্য। রেইমন রিফার আগে কখনো সীমিত ওভারের দলে সুযোগ না পেলেও একটি টেস্ট খেলেছেন। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সবচেয়ে ফর্মে থাকা বোলারদের একজন তিনি। মাত্র ছয়টি ম্যাচে গায়ানার হয়ে নিয়েছেন ২৬ উইকেট, যাতে নয় উইকেটের একটি স্পেলও আছে।

গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারদের না পেলেও দুর্বল দল বানায়নি উইন্ডিজ। অধিনায়ক জেসন হোল্ডারের অভিজ্ঞতা তো আছে, ড্যারেন ব্রাভো, শাই হোপদের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদেরও কাজে লাগাতে পারবে তারা। উইকেটকিপার শেন ডয়রিচ আগে কখনো ওয়ানডে দলে সুযোগ না পেলেও টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

১৪ জনের দলে সুযোগ পেয়েছেন ৩১ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান জোনাথন কার্টার। শ্যাননের মতো তিনিও শেষ ওয়ানডে খেলেছেন ২০১৭ সালে, ভারতের বিপক্ষে। অবশ্য এরপর আর টেস্ট দলেও সুযোগ পাননি তিনি।

উইন্ডিজ বোর্ডের ডিরেক্টর জিমি অ্যাডামস দাবি করছেন, এই দলের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো অভিজ্ঞতা এবং তারুণ্যের মিশ্রণ। দলে আছেন সুনীল অ্যামব্রিস, রোস্টন চেইজের মতো নবীন তারকারাও। ‘আমাদের নতুন নির্বাচক প্যানেল স্কোয়াড নির্বাচন করেছেন যাতে নতুন ক্রিকেটাররাও ইংলিশ কন্ডিশনে খেলার অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারেন। এটা আমার কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই দল কোনোভাবেই বিশ্বকাপের দল নয়। যারা আইপিএল খেলছেন তাদেরকে আমরা এই সিরিজে না পেলেও বিশ্বকাপে পাবো।’

তবে অভিজ্ঞতা যে এই দলের বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ানোর কথা না, তার প্রমাণ পেস আক্রমণ। শ্যানন গ্যাব্রিয়েল, জেসন হোল্ডার এবং কেমার রোচের পেস অ্যাটাক বিশ্বের সবচেয়ে অভিজ্ঞ পেস আক্রমণগুলোর একটি। এই শক্তির কথাও জানালেন উইন্ডিজ ডিরেক্টর, ‘আমাদের পেস অ্যাটাক আমাদেরকে অনুপ্রাণিত করবে। তাদের পারফর্মেন্স আমাদের আরো ভালো খেলার রসদ জোগাবে।’

 উইন্ডিজ স্কোয়াড: জেসন হোল্ডার(অধি.), জন ক্যাম্পবেল, ড্যারেন ব্রাভো, শাই হোপ, শেলডন কটরেল, শ্যানন গ্যাব্রিয়েল, কেমার রোচ, রেইমন রিফার, ফ্যাবিয়ান অ্যালেন, অ্যাশলে নার্স, রোস্টন চেইজ, শেন ডওরিচ, জোনাথন কার্টার। 

ReplyForward
print