টেস্টে টাইমার, ফ্রী হিট চায় এমসিসি

স্পোর্টস রিপোর্টার: কদিন আগে বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল এমসিসি। সম্প্রতি তাদের এক জরিপে বেরিয়ে এসেছে, বিশ্বে ৮৬% ক্রিকেটভক্ত এখনো টেস্ট ক্রিকেটকেই অন্য ফর‍ম্যাটগুলোর তুলনায় বেশি পছন্দ করেন। সে জরিপের ফলাফলের ভিত্তিতেই এবার টেস্টকে আরো দর্শকপ্রিয় করে তুলতে কিছু প্রয়োজনীয় বদল আনার পক্ষে রায় দিয়েছে মেরিলিবোনের এই ক্রিকেট কাউন্সিল। তারা টেস্টে কাউন্টডাউন টাইমার, নো বলে ফ্রী হিট এবং বলের নির্দিষ্টকরণের পরামর্শ দিয়েছে।

মন্থর ওভার রেট অনেকদিন ধরেই টেস্টে বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে। টেস্টের এই মন্থর গতি দূর করতেই প্রতি ওভারের পরে টাইমার চায় এমসিসি। সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক মাইক গ্যাটিং এই কমিটির সভাপতি। তিনি জানিয়েছেন, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড এবং দক্ষিণ আফ্রিকার ২৫% দর্শক মনে করেন, মাঠে গিয়ে টেস্ট দেখার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় স্লো ওভার রেট। ‘এসব দেশে স্পিনাররা তুলনামূলকভাবে কম বল করেন। তাই দেখা যায়, বাড়তি আধাঘন্টা দেয়ার পরও পুরো ৯০ ওভার বল করা যায় না,’ গ্যাটিং জানান।

গত সপ্তাহে ব্যাঙ্গালুরুতে নিজেদের বৈঠক শেষে এসব সিদ্ধান্তে পৌছান এমসিসির সদস্যরা। মঙ্গলবার রাতে নিজেদের ওয়েবসাইটে সব পরামর্শ একসাথে প্রকাশ করা হয়।

গ্যাটিং আরো বলেন, ‘ডিআরএসও এই মন্থর গতির জন্য কিছুটা দায়ী। সব মিলিয়ে টেস্ট তার স্বাভাবিক গতি হারিয়ে ফেলছে। তাই আমাদের মনে হয়েছে কিছু প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার সময় এসে গেছে।’

প্রথমত, টেস্টে প্রতি ওভারের পর টাইমার আনতে চায় তারা। একটি ওভার শেষের পর আরেকটি ওভার শুরু করতে ৪৫ সেকেন্ড সময় পাবে দলগুলো। ওভার শেষের পর সময় গণনার কাজটি করবে স্কোরবোর্ডের টাইমার। নতুন ব্যাটসম্যান মাঠে এলে এই সময় বেড়ে ৬০ সেকেন্ডে দাঁড়াবে। বোলার বদল করার সময় ৮০ সেকেন্ডের বিরতি পাবে দলগুলো। নির্ধারিত সময়ের মাঝে খেলা শুরু না করতে পারলে প্রথমে সর্তক করা হবে দলগুলোকে। আবারো একই ভুল করলে পাঁচ রান জরিমানা দিতে হবে।

একইভাবে ড্রিংকস ব্রেক এবং উইকেট পতনের বিরতিও নির্ধারণ করতে চায় এমসিসি। এক্ষেত্রে অবশ্য তারা সময় নির্ধারণ করে দেয়নি। প্রতিটি মাঠের প্যাভিলিয়ন থেকে উইকেট পর্যন্ত দুরুত্বের ভিত্তিতে এ সময় নির্ধারণ করতে চায় তারা।

দ্বিতীয়ত, রিভিউয়ের সময় অপ্রয়োজনীয় সব অংশ ছেটে ফেলতে চায় এমসিসি। স্ট্যানডার্ড প্রটোকলকে ভাঙতে চাচ্ছে তারা। যেমন, আম্পায়ার নিশ্চিত যে বিষয়গুলোর ব্যাপারে রিভিউ কাজে লাগানোর পক্ষে নয় তারা। ধরুন, রিভিউ যদি মূলত এলবিডব্লিউতে বল স্ট্যাম্প মিস করলো কিনা সে বিষয়ে হয়, তবে তার আগে বল ব্যাটে লেগেছে কিনা সেটা রিভিউ করে সময় নষ্ট করার পক্ষে নয় এমসিসি।

বিশ্বকাপের পরই শুরু হতে চলেছে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ। সেখানে একটি নির্দিষ্ট ধরণের বল ব্যবহার করার পক্ষে এমসিসি। এখন বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন ধরন এবং কোম্পানির বল ব্যবহার করা হয়। ভারতে এসজি বল, ইংল্যান্ড এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় ডিউক বল এবং অন্য দেশগুলোতে কুকাবুরা বল ব্যবহার করা হয়। এটি পুরোপুরিই বোর্ডের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করে।

তবে এ পরামর্শের পিছে কারণ আছে। নানা ধরণের বল দিয়ে খেললে সে বলের গুণমানের উপর অনেক কিছুই নির্ভর করে। কয়েকদিন আগে ভারতের বিরাট কোহলি এবং রবিচন্দ্রন অশ্বিন এসজি বলের মানের সমালোচনা করে ডিউক বলে সবজায়গায় খেলা উচিত বলে মত দিয়েছেন। এমসিসিও এই ডিউক বলকেই প্রাধান্য দিচ্ছে। এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে তারা ক্রিকেটারদের সাহায্য এবং মত নিবে বলে জানিয়েছে।

এ ব্যাপারে মাইক গ্যাটিং জানান, ‘আমরা বিরাট কোহলির মতো ক্রিকেটারদের কাছ থেকে মত নিয়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চাই। কিন্তু এখন যেসব বল ব্যবহার করা হয়, বেশিরভাগ মানুষের মতেই তার মাঝে সবচেয়ে স্ট্যান্ডার্ড বল ডিউক। আমাদের হয়তো এই বল দিয়েই খেলা উচিত।’

এমসিসি আরো জানিয়েছে, তারা এই বল দিয়ে এশিয়ায় খেলে দেখতে চান। তবে সেই সিদ্ধান্ত পুরোপুরিই ক্রিকেটারদের হওয়া দরকার, এমনটাই মনে করেন গ্যাটিং। ‘তারাই এই বল দিয়ে খেলবে। এই সিদ্ধান্ত আমার নয়, আমাদের নয়। ক্রিকেটারদের। তারা কি বলতে চায় তার উপরেই সিদ্ধান্ত নেয়া দরকার। সে বল ডিউক হতেও পারে নাও হতে পারে।’

নো বলে ফ্রী হিট এখন টেস্টেও দরকারি, এমনটাই মনে করছে এই কমিটি। ফ্রী হিট থাকলে বোলাররা বেশি সাবধান থাকে, তাতে নো বলের সংখ্যা কমে। সে কারণেই সীমিত ওভারের ক্রিকেটের মতো টেস্টেও ফ্রী হিট চালু করার পক্ষে এমসিসি।

কেন ফ্রী হিট প্রয়োজন, সে বিষয়টি খুব সুন্দর করে বুঝিয়েছেন শেন ওয়ার্ন। ‘ধরুন, আমি বল করে আউট করলাম, কিন্তু আম্পায়ার হাত উঠালেন না। এরপর বোঝা গেল আমি আসলে নো বল করেছি। প্রথমে ব্যাটসম্যান ভাবলো সে আউট হয়ে গেছে। কিন্তু এরপর বুঝতে পারলো সে আউট তো হয়ই নি, বরং তার সামনে একটি ফ্রী হিট আছে। দর্শকদের কথাই চিন্তা করুন। কেউ চিন্তুা করছে, ইশৃ, আমার প্রিয় ব্যাটসম্যান আউট হয়ে গেল। এরপর ‘যাক বাবা আউট হয় নি।’ থেকে ফ্রী হিট পাওয়ার খুশিটা চিন্তা করুন। কি দারুণ উত্তেজনা।’

‘টি-টোয়েন্টি এবং ওয়ানডেতে থাকলে টেস্টে হতে সমস্যা কোথায়? এটা নো বলের সংখ্যাও কমাবে। আমি চাইবো আইসিসি এই নিয়ম তৈরি করুক।’

এমসিসির এই কমিটিতে সাকিব আল হাসানও আছেন। এই সভায় অংশ নিতে গত সপ্তাহে ব্যাঙ্গালুরুতে গিয়েছিলেন তিনি।

print