ট্রাইসিরিজের দল নিয়ে বিপাকে বাংলাদেশ

স্পোর্টস রিপোর্টার: বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন এবং অধিনায়ক মাশরাফি বিন মূর্তজা একটি জায়গায় এসে একদম মিলে গেছেন। দুজনেই মনে করছেন, ঘরোয়া ক্রিকেটের পারফর্মেন্সের চেয়ে ইংলিশ কন্ডিশনে কার ভালো খেলার ক্ষমতা আছে, সে হিসেবেই দল নির্বাচন করা দরকার। শুরুতে নির্বাচকরাও তাই বলছিলেন। কিন্ত এখন সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় নিশ্চিত কিছু ক্রিকেটারের পারফর্মেন্স। ঘরোয়া ক্রিকেটেই যারা ভালো করতে পারছেন না, তারা তাদের ক্রিকেটীয় প্রতিভা কিভাবে ইংল্যান্ডের কন্ডিশনে ব্যবহার করতে পারবেন, সে প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে অনেকটাই বিব্রত সিলেক্টর কমিটি।

যেমন সৌম্য সরকার। বিশ্বকাপ খেলার আগে আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলতে যাবে বাংলাদেশ। এই সফরে মূলত খেলবে বিশ্বকাপের দলটাই। সাথে দু-একজন বাড়তি ক্রিকেটার থাকতে পারেন। তামিমের সাথে ওপেনিংয়ে লিটনের পর শুরু থেকেই টিম ম্যানেজমেন্টের প্রধান পছন্দ সৌম্য। তার কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে সিমিং কন্ডিশনে তার খেলার যোগ্যতা। কিন্তু প্রিমিয়ার লিগে ছয় ম্যাচে মাত্র ১৬৫ রান করেছেন তিনি। ফর্মের এই অবস্থায় তার যোগ্যতা কতটুকু বিবেচনা করার যায়, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে নির্বাচকদের।

সৌম্য এরপরেও দলে সুযোগ পেলে তা এক অর্থে অন্যায় হবে কিছু ক্রিকেটারের প্রতি। সেই তালিকায় আছেন ইমরুল কায়েস এবং এনামুল হক বিজয়। এনামুল অনেক দিন ধরেই দলে নেই সত্যি। তবে পারফর্মেন্সের হিসেবে প্রিমিয়ার লিগে তার ধারেকাছেও নেই অন্য কোনো ওপেনার। টানা তিন সেঞ্চুরিসহ আট ম্যাচে তার রান ৪৫৮। জাতীয় দলে ভালো করে দেখানোর মতো সুযোগ পাচ্ছেন না। প্রিমিয়ার লিগে এমন পারফর্মেন্সের পরও ক্ষমতার বিচারে সৌম্যরা দলে টিকে গেলে এনামুলদের দিকে তাকাবে কে?

একই অবস্থা ফরহাদ রেজার। ঘরোয়া ক্রিকেটে তিনি সবসময়ই নিয়মিত পারফর্মার। এবারের প্রিমিয়ার লিগে তিনি আরো ধারাবাহিক। ১০ ম্যাচে নিয়েছেন ২৬ উইকেট। সবচেয়ে বেশি উইকেটশিকারি বোলারও তিনি। গড়টাও বোলারদের মাঝে সবচেয়ে ভালো, মাত্র ১৪। সম্প্রতি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে বাংলাদেশের ইতিহাসে দ্রুততম ফিফটি করেছেন। মাত্র ১৮ বলে।

শেষ পর্যন্ত ফরহাদের কপাল পুড়লে তা হবে সাইফউদ্দিনের জন্য। এবং সেটারই সম্ভাবনা বেশি। সাইফউদ্দিনে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিয়মিত পারফর্মার। সেখানে ফরহাদের শেষ ওয়ানডে ২০১১ সালের ডিসেম্বরে। বাংলাদেশের জার্সি তার গায়ে দেখা গিয়েছিল শেষ ২০১৪ সালে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মানিয়ে নেয়ার বিষয়টিই প্রাধান্য পাচ্ছে নির্বাচকদের কাছে।

কিন্তু পারফর্মেন্সের কারণেই ম্যানেজমেন্টকে শেষ সিদ্ধান্তে পৌছানোর আগে দু’বার ভাবতে বাধ্য করছেন ফরহাদ। মিনহাজুল আবেদিন নান্নুর কাছ থেকে শোনা গেল, ফরহাদকে রাখা হয়েছে আয়ারল্যান্ড সফরের আগে প্রস্তুতি ক্যাম্পের ২০ জনের দলে। সেখানে থাকার সম্ভাবনা আছে এনামুল এবং মোসাদ্দেকেও।

ব্রাদারসের মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান ইয়াসির রাব্বি সরাসরি বিশ্বকাপ ভাবনাতেই আছেন, সে ধারণাটি সময়ের সাথে সাথে জোরালো হচ্ছে। গতকাল বিসিবিতে আলাদা ভাবে ডাক পড়েছে তার। ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে বেশ কিছুক্ষণ পর বেরিয়ে আসেন তিনি।

দলের পেস উইংয়ে মাশরাফি, রুবেল এবং মুস্তাফিজের পাশাপাশি কে থাকছেন, তা নিয়েও কিছুটা সংশয় আছে। গতকাল পর্যন্ত ইনজুরির কারণে ভাবনার বাইরে ছিলেন তাসকিন। তাই শফিউলই থাকবেন, এমনটা প্রায় নিশ্চিত ছিল। কিন্তু আজ থেকে সীমিত আকারে বোলিং শুরু করে দিয়েছেন তিনি। তাই সিদ্ধান্ত পাল্টানোর সম্ভাবনা অনেক। তবে তাসকিনকে নিয়ে কোনো তাড়াহুড়া করতে চায় না টিম ম্যানেজমেন্ট। ফিজিও দেবাশীষও চাচ্ছেন তাসকিন পুরোপুরি ফিট হয়েই মাঠে নামুক।

বিশ্বকাপের দল নিয়ে চিন্তাভাবনা বাদ দিয়ে শুধু ট্রাই সিরিজের কথা ভাবলে সমস্যা হয়ে দাঁড়াচ্ছে আরো কয়েকজন ক্রিকেটারের ইনজুরি। মাহমুদুল্লাহকে নিয়ে চিন্তার কারণ থাকলেও টাইগার ফিজিও জানান, আস্তে আস্তে ভালো হয়ে উঠছেন তিনি। ডান কাঁধে গ্রেড থ্রি টিআর চোটের কারণে ব্যাটিং কিংবা বোলিংয়ে তেমন সমস্যা হবে না মাহমুদুল্লাহর। কিন্তু ফিল্ডিংয়ে বল থ্রোয়িংয়ে বাড়তে পারে চোট। সে কারণে খুব সাবধানে এই চোটের পরিচর্যায় রাখা হয়েছে তাকে। 

নতুন করে কপালে ভাঁজ ফেলার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে রুবেল হোসেনের চোট। ডান পাঁজরের পেশিতে চোটের কারণে এক সপ্তাহ বিশ্রাম দেয়া হয়েছে তাকে। তবে ফিটনেস ধরে রাখতে নিয়মিত জিম করছেন। বুধবারে করা এমআরআই রিপোর্ট আসলে বোঝা যাবে তার চোটের গুরুত্ব। কাঁধে হালকা চোট আছে সাইফউদ্দিনেরও। তার বিশ্রাম দরকার হলেও ক্লাব আবাহনীর জন্য নিয়মিত মাঠে নামতে হচ্ছে তাকে। তাই ঝুঁকিতে আছেন তিনি।

২২ এপ্রিল থেকে শুরু হবে আয়ারল্যান্ড সফরের ক্যাম্প। তার আগে এসব ধাঁধা মিলিয়ে উঠতে পারবেন তো নির্বাচকরা?                                                                  

print