নিউজিল্যান্ডের বিশ্বকাপ দলে সোধি-ব্লানডেল

রাহিন ফাইয়াজ: নিউজিল্যান্ডের বিশ্বকাপ দলে কে কে থাকছেন, তা নিয়ে গবেষণা করার খুব বেশি কিছু ছিল না। প্রশ্ন ছিল শুধু মিচেল স্যান্টনারের পর দ্বিতীয় স্পিনার হিসেবে কে থাকবেন, এবং টম ল্যাথামের বিকল্প উইকেটকিপার কে থাকবেন। দলে মুখ্য কোনো জায়গা নিয়ে সংশয় ছিল না একদমই। সে কারণেই বোধহয় সবার আগে দল ঘোষণা করে ফেলতে পেরেছে নিউজিল্যান্ড বোর্ড। লেগস্পিনার ইশ্ সোধির সুযোগ পাওয়াটা অনুমিত হলেও চমক হয়ে এসেছে নতুন মুখ উইকেটকিপার টম ব্লানডেলের দলে থাকা।

বোলারদের যতটা সম্ভব আক্রমণাত্মক হতে হবে, নিউজিল্যান্ড দলে এ ধারণার প্রাধান্য পাওয়ার কারণটা ব্র্যান্ডন ম্যাককালাম। ২০১৫ সালে তার নেতৃত্বে যে নিউজিল্যান্ড দল বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলেছিল, সে দলের অন্যতম কৌশল ছিল যেভাবেই হোক প্রতিপক্ষকে অলআউট করার চেষ্টা। আর ওয়ানডেতে প্রতিপক্ষকে অলআউট করতে হলে চরম আক্রমণাত্মক হওয়া ছাড়া উপায় নেই। সে কারণেই কপাল পুড়েছে লেগ স্পিনার টড অ্যাস্টলের। জায়গা পেয়েছেন সোধি।

ইংল্যান্ডের পেস কন্ডিশনে দুজনের বেশি স্পিনার দলে রাখার কোনো কারণ নেই। মাত্রই হাটুর চোট থেকে উঠে আসা মিচেল স্যান্টনারই স্পিন আক্রমণকে নেতৃত্ব দিবেন, তা জানাই ছিল। দ্বিতীয় স্পিনারের জায়গাটা নিয়ে লড়াইটা ছিল সোধি এবং টড অ্যাস্টলের মাঝে। দুজনেই লেগ স্পিনার হলেও সোধি বোলার হিসেবে বেশি আক্রমণাত্মক। অন্যদিকে অ্যাস্টল বোলিংয়ের পাশাপাশি কিছুটা কাজে আসেন ফিল্ডিং এবং ব্যাটিংয়েও।

সোধির আক্রমণাত্মক মনোভাব প্রকাশ পায় তার কথাতেই। দলে সুযোগ পাওয়ার পর ইএসপিএন ক্রিকইনফোর কাছে সাক্ষাৎকারে প্রকাশ করেছেন বিশ্বকাপকে ঘিরে তার উত্তেজনা। মাঠে নামার সুযোগ পেলে প্রতিপক্ষকে ছাড়বেন না, সে বিষয়টা পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিলেন এখনই। ‘আপনি তখনই বেশি আক্রমণাত্মক হতে পারবেন, যখন আপনার সামনে প্রতিপক্ষের রান আটকানোর সুযোগ থাকবে। তবে আমি মনে করি আমার প্রধান কাজ উইকেট নেয়া। নিজের দেশের জয়ে অবদান রাখতে পারে শুধু ভাগ্যবানরাই।’

নিউজিল্যান্ড কোচ গ্যারি স্টিড অবশ্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন টড অ্যাস্টলের জন্য। ‘যেকোনো বড় টুর্নামেন্টের দল ঘোষণা অত্যন্ত কঠিন একটি কাজ। আমাদেরকে বেশ কিছু কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। তবে দলের ভালোর জন্য এটি করতে হয়েছে। তাতে কপাল পুড়েছে কয়েকজন দুর্দান্ত ক্রিকেটারের।’

‘সাদা বলের ক্রিকেটে লেগস্পিনারের জায়গাটা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা ভাগ্যবান যে আমাদের দুজন দারুণ লেগস্পিনার আছে। সে কারণেই এই সিদ্ধান্তটা অনেক কঠিন ছিল।’

টম ব্লানডেলের সীমিত ওভারে আগে কখনোই নিউজিল্যান্ডের জার্সি গায়ে জড়াননি। তাই দুদিন আগ পর্যন্ত তিনি দলে থাকবেন, এমনটা ভাবা যায়নি। দ্বিতীয় উইকেটকিপার হিসেবে দলে থাকার কথা ছিল টিম সিফার্টের। ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে দারুণ ব্যাটিং করেছিলেন তিনি। কিন্তু সিফার্টের কপাল পুড়েছে তার আঙ্গুলের চোটের কারণে। বিশ্বকাপের আগে পুরোপুরি ফিট হবেন কিনা তিনি, সে দ্বিধায় থাকতে চায়নি নির্বাচকরা।

তবে ব্লানডেলের দলে সুযোগ পাওয়ার এটাই শুধু কারণ তা বললে ক্রিকেটার হিসেবেই তাকে ছোট করে দেখা হবে। ব্লানডেল উইকেটকিপারের দায়িত্ব সামলানোর ক্ষেত্রে দারুণ নির্ভরশীল, যা সিফার্ট ছিলেন না। ব্যাটিংয়েও দুর্বল নন তিনি। নিউজিল্যান্ডের হয়ে টেস্ট অভিষেকেই সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি। টেস্ট ইতিহাসেই যা করতে পেরেছেন মাত্র চারজন। তবে এটা স্বীকার করতে দোষ নেই, দলে তার জায়গাটা মূলত বিকল্পের। টম ল্যাথামের কাঁধেই থাকবে উইকেটের পিছে দাঁড়ানোর দায়িত্বটা। ল্যাথাম কোনো কারণে ম্যাচ খেলতে না পারলেই শুধু তার কথা ভাবতে পারে নিউজিল্যান্ড।


ব্লানডেলকে দলে নেয়ার কারণ জানাচ্ছেন গ্যারি স্টিড

কলিন মানরো সম্প্রতি ফর্ম হারিয়েছেন। তাই কিছুটা সন্দেহ ছিল তাকে নিয়েও। তবে শেষ পর্যন্ত দলে নেয়া হয়েছে তাকে। তবে মার্টিন গাপটিলের সাথে ওপেনিংয়ে নামার ক্ষেত্রে হেনরি নিকোলসই প্রধান পছন্দ থাকবেন টিম ম্যানেজমেন্টের।

এছাড়া অনুমিত ক্রিকেটাররাই সুযোগ পেয়েছেন দলে। পেস আক্রমণে থাকছেন ট্রেন্ট বোল্ট, লকি ফার্গুসন, ম্যাট হেনরি এবং টিম সাউদি। বোল্ট পেস আক্রমণের নেতা। লকির জায়গাটাও মোটামুটি পাকা। তৃতীয় পেসারের জায়গাটা নিয়ে প্রতি ম্যাচেই লড়াই হবে হেনরি এবং সাউদির মাঝে। এছাড়া পেস বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে আছে জিমি নিশাম এবং কলিন ডি গ্রান্ডহোম। ব্যাটিংয়ে নিউজিল্যান্ডের মূল তিন ভরসা অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন, রস টেলর এবং মার্টিন গাপটিল।

২০১৫ বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলা দলের সাতজন আছেন এই দলেও। অভিজ্ঞতা এবং নতুনত্বের অদ্ভুত এক মিশেল তাই পাওয়া যাচ্ছে দলে। সব মিলিয়ে দারুণ ভারসাম্যপূর্ণ হয়েছে এই দলটিই। একই কথা মনে করছেন গ্যারি স্টিডও। ‘দলের রসায়নটা খুঁজে পাওয়া জরুরি। বিশেষ করে এত বড় টুর্নামেন্টের আগে তো এই রসায়নটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই আমরা সেদিকেই বেশি মনোযোগ দিয়েছি। ওয়ানডে দল হিসেবে এখন আমরা বেশ ধারাবাহিক। বিশ্বকাপের এই চ্যালেঞ্জ নিতে আমরা প্রস্তুত।’

রস টেলর খেলতে যাচ্ছেন নিজের চতুর্থ বিশ্বকাপ। তার মতে, গতবারের ফাইনালে উঠার অভিজ্ঞতাই এবার এগিয়ে নিয়ে যাবে দলকে। ‘গতবার পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে আমরা ভালো খেলেছি। শুধু শেষ ম্যাচে এসেই অল্পের জন্য হার মানতে হয়েছিল। আমি মনে করি সেই অভিজ্ঞতাই এবার আমাদের অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।’

নিউজিল্যান্ড দল:

কেন উইলিয়ামসন (অধিনায়ক), রস টেলর, টম ল্যাথাম, হেনরি নিকোলস, কলিন মানরো, মার্টিন গাপটিল, টম ব্লান্ডেল, জিমি নিশাম, কলিন ডি গ্রান্ডহোম, মিচেল স্যান্টনার, ইশ সোধি, ট্রেন্ট বোল্ট, লকি ফার্গুসন, ম্যাট হেনরি ও টিম সাউদি।

print