পিএসজির সামনে আত্মবিশ্বাসী সুলশার

স্পোর্টস রিপোর্টার: প্রথম লেগে ২-০ গোলের পরাজয়। এই পিছিয়ে পড়ার সাথে যোগ হয়েছে কয়েকজন সিনিয়র খেলোয়াড়ের ইনজুরি। আপাত দৃষ্টিতে ম্যানচেষ্টার ইউনাইটেডের চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে উঠতে পেরোতে হবে পর্বতসমান বাঁধা। কিন্তু এসব কিছুকেই পাত্তা দিচ্ছেন না ম্যানইউ কোচ ওলে গুনার সুলশার। এই ম্যাচের সামনে দাঁড়িয়ে নিজের দলকে নিয়ে তিনি দারুণ আত্মবিশ্বাসী।

সুলশারের দাবি, দলের মাঝে এক অপরাজেয় আবহাওয়ার উপস্থিতি আছে। দলের প্রতিটি সদস্য মনে করে, তারা এই ম্যাচে পিএসজিকে হারাতে পারবে। ফার্গুসন যাওয়ার পর থেকেই হারিয়ে দিক খোঁজা ইউনাইটেডের দায়িত্ব নিয়েই যেভাবে সুলশার দলের ভেতর বাহির পাল্টে দিয়েছেন, তাতে এই কথা আসলে অসম্ভবও মনে হচ্ছে না। সুলশারের দায়িত্ব নেয়ার পর ১৬ ম্যাচে ১৩টিতেই জিতেছে ইউনাইটেড। একমাত্র পরাজয় গত লেগে পিএসজির বিপক্ষে।

সাসপেন্ড হওয়াতে পল পগবা নেই। কিন্তু তাতেও বিন্দুমাত্র চিন্তিত নন সুলশার। শনিবারে সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-২ গোলে জয়ের পর সুলশার বলেন, ‘আমাকে বলতেই হবে আমরা দারুণ আত্মবিশ্বাসী। প্রতিটি ম্যাচই আমরা খেলতে যাই জেনে যে আমরা জিততে পারবো। এই দলের কেউ হারতে রাজি নয়।’

 

‘এই আত্মবিশ্বাসই আমাদের শক্তি। এই কারণেই ২ গোলে পিছিয়ে থাকার পরে এই ম্যাচে আমরা হাসিমুখেই নামবো, কারণ আমরা আমাদের সামর্থ্যটা জানি।’

কিন্তু কাজটা যে সহজ হবে না সে ব্যাপারেও জানেন সুলশার। ‘আমরা জানি কাজটা সহজ হবে না। আমরা আমাদের মাঠেই তাদের কাছে হেরেছি। এখন তারা অনেক শক্তিশালী দল। আমাদের কিছু ইনজুরিও আছে। কিন্তু বাকি যারা খেলতে চায় তারা নিজেদের পুরোটুকু দিয়েই খেলবে। আমরা শুধুই মাঠে নামার জন্য যাবো না। লড়াই ছাড়া এক বিন্দু ছাড় দিতে আমরা রাজি নই।’

‘আমরা জানি এক পাহার সমান বাঁধা আমাদের পেরোতে হবে। কিন্তু আমাদের দারুণ কিছু খেলোয়াড় আছে।’

পরপর দুটি বড় লড়াই এখন সুলশারের সামনে। পিএসজির বিপক্ষে দ্বিতীয় লেগের পর আগামি রবিবার আর্সেনালের বিপক্ষেও মাঠে নামতে যাচ্ছে ইউনাইটেড। দুই দলের মাঝে পয়েন্ট ব্যবধান মাত্র এক। শেষ পর্যন্ত কে প্রিমিয়ার লিগের প্রথম চারে জায়গা পাবে, সে সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রাখতে যাচ্ছে এই ম্যাচ।

কিভাবে প্রথম লেগে পিছিয়ে পড়েও পরে বাঁধা উতরাতে হয়, সে উপায় অবশ্য জানা আছে সুলশারের। সুলশার শুধু ১৯৯৯ সালের সেই নাটকীয় ট্রেবল জয়ী ম্যানইউ দলের অংশ ছিলেন না। সেই বিশ্ববিখ্যাত ট্রেবল জয়ে সুলশারের অবদানও ছিল দারুণ। বার্য়ান মিউনিখের বিপক্ষে ২০ বছর আগের সেই চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে সুলশারের শেষ মুহুর্তের গোলেই এই ট্রেবলের স্বাদ পেয়েছিলো ইউনাইটেড। নিজের অভিজ্ঞতাই কাজে লাগাবেন বলে দাবি করেছেন সুলশার।

‘আমাদের এই ম্যাচে গোল করতে হবে। শুরুতেই গোল দিতে পারলে আমরা এগিয়ে যাবো। একটি অ্যাওয়ে গোল পেয়ে গেলেই ওরা চাপে পড়ে যাবে। এরপর যদি আরেকটি গোল করতে পারি, তাহলেই ম্যাচ আমাদের।’

এই ম্যাচে সুলশারের অন্যতম শক্তি স্ট্রাইকার রোমেলু লুকাকু। শীষ্যের প্রশংসায় উচ্ছসিত সুলশার। ‘সে আমাদের ট্রেনিংয়ে সবচেয়ে বেশি গোল করে। নিজের ফিনিশিংকে আরো ভালো করতে তার চেষ্টার কোনো কমতি নেই। আমি নিশ্চিত সে ভালো করবে

 

print